করোনায় থমকে গেছে রেল প্রকল্পের গতি

আগের সংবাদ

জালিয়াত চক্রের টার্গেট উচ্চ আদালত

পরের সংবাদ

ধর্ম ব্যবসায়ীদের লাগাম টানবে আওয়ামী লীগ

প্রকাশিত: এপ্রিল ৮, ২০২১ , ৯:০১ পূর্বাহ্ণ আপডেট: এপ্রিল ৮, ২০২১ , ৯:০২ পূর্বাহ্ণ

সরকারের পাশাপাশি এবার রাজনৈতিকভাবে হেফাজতে ইসলামসহ ধর্ম ব্যবসায়ীদের লাগাম টেনে ধরবে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। এরই মধ্যে দলটির সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে এ রকমই আভাস পাওয়া গেছে। গত রবিবার একাদশ সংসদের দ্বাদশ অধিবেশনের সমাপনী ভাষণে হেফাজত ও ধর্ম ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে বেশ কড়া বার্তা দেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ওই দিন তিনি বলেছেন, ধর্মের নাম নিয়ে অধর্মের কাজ জনগণ কখনো মেনে নেবে না, সহ্য করবে না। পবিত্র ধর্মকে কেউ অসম্মান করবে, সেটা আমরা চাই না। এ ধরনের অপকর্মে যারা জড়িত, আইনানুগ ব্যবস্থা তাদের বিরুদ্ধে নেয়া হবে। এজন্য সবাইকে ধৈর্য ধরে এগোনোর পরামর্শ দেন তিনি।

এরপরই দলটির কেন্দ্রীয় নেতারাও ধর্ম ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে শুরু করেন গণমাধ্যমে। তাদের প্রত্যেকের কথায় হেফাজতসহ ধর্ম ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর মনোভাব স্পষ্ট হয়েছে। নিজ সংগঠন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ারও তাগিদ দিচ্ছেন তারা। তৃণমূলের নেতারাও কেন্দ্রীয় নির্দেশনা বাস্তবায়নে নিচ্ছেন প্রস্তুতি। গতকাল আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, উগ্র সাম্প্রদায়িক অপশক্তি হেফাজতে ইসলাম দেশের বিদ্যমান স্বস্তি ও শান্তি বিনষ্টে যে অব্যাহত তাণ্ডব চালিয়ে যাচ্ছে, তা সহনশীলতার সবমাত্রা অতিক্রম করেছে। যারা দেশব্যাপী তাণ্ডব চালিয়েছে বা চালাচ্ছে তাদের বলব, দেশের জনগণের ধৈর্য ও সহনশীলতার একটা সীমা আছে। সীমা অতিক্রম করলে তার পরিণতি হবে ভয়াবহ। এ সময় তিনি সন্ত্রাস, নৈরাজ্য সৃষ্টিকারী ও সাম্প্রদায়িক অপশক্তির উসকানিদাতাদের তালিকা করে তাদের রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করার কথাও বলেন।

এরই মধ্যে ঢাকা দক্ষিণ যুবলীগের এক নেতা ২৬ মার্চ বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে সংঘর্ষের ঘটনায় হেফাজত নেতা মামুনুল হকসহ সংগঠনটির ১৭ জন নেতাকে আসামি করে পল্টন থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় আরো দুই থেকে তিন হাজার জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে। এ ছাড়া ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়ও একাধিক মামলা করা হয়েছে হেফাজতের নেতাকর্মীদের আসামি করে। গতকাল সোনারগাঁওয়ে রিসোর্টে ভাঙচুরের ঘটনায় মামুনুলসহ ৮৩ জনকে আসামি করে ৩টি মামলা দায়ের করা হয়। মঙ্গলবার রাতে পুলিশ বাদী হয়ে দুটি আর নির্যাতনের শিকার স্থানীয় একজন সাংবাদিক বাদী হয়ে আরো একটি মামলা করেন। এ মামলায় অজ্ঞাতনামা আরো ৫০০ থেকে ৬০০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশে আসার প্রতিবাদে হেফাজত যে কর্মসূচি দিয়েছিল, তাতে করে তারা সরকারি অফিস-আদালতসহ ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের দলীয় অফিস, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বাড়িঘরে ব্যাপক ভাঙচুর চালিয়েছিল। তছনছ করা হয়েছিল ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শহর। আর শনিবার হেফাজতের একজন উগ্রপন্থি নেতা সংগঠনটির যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হক নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে একটি রিসোর্টে এক নারীর সঙ্গে হাতেনাতে ধরা পড়েন। স্থানীয় যুবলীগ ও ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতাকর্মীসহ স্থানীয় সাংবাদিকরা তাকে সেখানে আটক করে ফেসবুকে লাইভ ভিডিও প্রচার করেন। ওই দিন সন্ধ্যায় মামুনুলের অনুসারীরা পুলিশের হাত থেকে তাকে ছিনিয়ে নিয়ে যায়।

এরপর মামুনুলের টেলিফোন আলাপে বেরিয়ে আসে ওই নারী তার স্ত্রী নন। এ নিয়ে দেশব্যাপী আলোড়ন সৃষ্টি হয়। ওই দিন রাতেই মামুনুল অনুসারী হেফাজতের কর্মীরা স্থানীয় কয়েকজন সরকারদলীয় নেতাকর্মীর দলীয় কার্যালয়, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে। গতকাল সেখানকার পরিস্থিতি সরেজমিন পরিদর্শন করে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় একটি প্রতিনিধিদল। দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ এই দলে নেতৃত্ব দেন। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা ও বাড়ি পরিদর্শন করে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।

এ সময় হানিফ বলেন, হেফাজতে ইসলাম ধর্মের নামে কোথাও কোনো অরাজকতা করার অপচেষ্টা চালালে সেখানেই তাদের প্রতিরোধ করা হবে। এসব ঘটনায় জড়িতদের নাম-ঠিকানা সংগ্রহে দলীয় নেতাকর্মীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে হানিফ বলেন, যারা আমাদের দলীয় অফিস ও নেতাকর্মীদের বাসায় হামলা করেছে, মানুষের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর চালিয়েছে তাদের পরিচয় ও ঠিকানা বের করুন। আর যারা ধর্মের নামে অধর্মের কাজ করবে, তাদের হাত থেকে ধর্মকে রক্ষা করব। ধর্মের নাম করে যারাই ভাঙচুর করেছে, এদের ছাড় দেয়া হবে না। এই প্রতিনিধিদলটি আজ বৃহস্পতিবার ফরিদপুরের সালথা উপজেলায় যাবে। যেখানে একটি গুজবকে কেন্দ্র করে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও ভ‚মি অফিসারের গাড়িতে অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। ঘেরাও করে হামলা করা হয়েছে থানায়।

অন্যদিকে হেফাজতের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত চট্টগ্রাম। এই জেলার হাটহাজারী মাদ্রাসা থেকেই সংগঠনটির প্রতিষ্ঠা। এখান থেকেই নিয়ন্ত্রিত হয়ে থাকে হেফাজতে ইসলামের সব কর্মকাণ্ড। ক্ষমতাসীন দলের চট্টগ্রামের একজন সংসদ সদস্য যিনি আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও সরকারের শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল। গতকাল তিনি তার ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, দেশের প্রচলিত সরকার কাঠামো, শিক্ষা ব্যবস্থা, প্রশাসন ও আইনের অধীনে না এলে মামুনুল হকদের কীভাবে শায়েস্তা করতে হবে তা আমাদের জানা আছে। সামাজিক, ধর্মীয়, অর্থনৈতিক, সর্ব পর্যায়ে এই কাঠমোল্লা গোষ্ঠীকে প্রতিহত করতে হবে। আওয়ামী লীগ বানের জলে ভেসে আসেনি। গণতান্ত্রিক সমাজে রাজনীতি করতে চায় করবে, কিন্তু ধর্ম ব্যবসা করে মানুষের ঘরবাড়ি জ্বালানোর পরিণাম এদের বোঝাতে হবে। আগুন সন্ত্রাস করে বিএনপি-জামায়াত ছাড় পায়নি, এই ধর্ম ব্যবসায়ীরাও ছাড় পাবে না। ইনশাল্লাহ।

এসআর

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়