মামুনুলের পক্ষে স্ট্যাটাস দেওয়ায় ছাত্রলীগ নেতাকে অব্যাহতি

আগের সংবাদ

ধর্ম ব্যবসায়ীদের লাগাম টানবে আওয়ামী লীগ

পরের সংবাদ

করোনায় থমকে গেছে রেল প্রকল্পের গতি

প্রকাশিত: এপ্রিল ৮, ২০২১ , ৮:৪৬ পূর্বাহ্ণ আপডেট: এপ্রিল ৮, ২০২১ , ৮:৫১ পূর্বাহ্ণ

দুর্নীতি ও অর্থ নয়ছয়ের সুযোগ
মেয়াদ বেড়েছে ১৪ প্রকল্পের

বৈশ্বিক মহামারি করোনা ভাইরাসের (কোভিট-১৯) কারণে থমকে গেছে বাংলাদেশ রেলওয়ের চলমান অনেক প্রকল্পের কাজ। নির্ধারিত সময়ে শেষ করতে না পারায় এসব প্রকল্পের মেয়াদ এবং ব্যয় বেড়েছে। সময় ও ব্যয় বাড়ায় এসব প্রকল্পে আর্থিক নয়ছয়ের আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

রেলওয়ে সূত্র জানায়, রেল মন্ত্রণালয়ে মেগা প্রকল্পসহ চলমান মোট ৪১টি উন্নয়ন প্রকল্পের কার্যক্রম করোনার কারণে প্রায় থেমে ছিল। কিছু কিছু প্রকল্পের কাজ চলেছে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে। বেশ কিছু প্রকল্পের কাজ এখনো শুরুই হয়নি। ৪১টি প্রকল্পের মধ্যে ১৪টি প্রকল্পের ১-২ বছর পর্যন্ত মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে।

এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রেলওয়ের সাবেক একজন প্রকল্প পরিচালক বলেন, কোনো প্রকল্পে মেয়াদ বাড়ালে ব্যয়ও বাড়ে। এক্ষেত্রে প্রকল্প পরিচালক বা সংশ্লিষ্টদের দুর্নীতির সুযোগ সৃষ্টি হয়। উদাহরণ হিসেবে তিনি চট্টগ্রাম-কক্সবাজার, খুলনা-মোংলা রেল প্রকল্পের কথা বলেন। সময়মতো প্রকল্পের কাজ শেষ না করলে সব ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয় রেলওয়ের।

সূত্র জানায়, যেসব প্রকল্পের সময় বেড়েছে সেগুলো হলো- পদ্মা লিংক রেল প্রকল্প ১৭২ কিলোমিটার (ঢাকা টু যশোর), খুলনা হতে মোংলা বন্দর পর্যন্ত রেললাইন নির্মাণ প্রকল্প, আখাউড়া-লাকসাম ডাবল লাইন, ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ মিটারগেজ সমান্তরাল একটি ডুয়েলগেজ রেললাইন নির্মাণ, যাত্রীবহনে মিটারগেজ ও ব্রডগেজ সংগ্রহ প্রকল্প, লোকোমোটিভ, রিলিফ ক্রেন এবং লোকোমোটিভ সিমুলেটর সংগ্রহ, ২০০টি মিটারগেজ কোচ ক্রয় প্রকল্প, বিশদ নকশা প্রণয়ন ও দরপত্র দলিল প্রস্তুতসহ ভাঙা জংশন (ফরিদপুর) থেকে বরিশাল হয়ে পায়রাবন্দর পর্যন্ত রেললাইন নির্মাণের জন্য, ঢাকা টু চট্টগ্রাম ভায়া কুমিল্লা হয়ে লাকসাম দ্রুতগতির রেলপথ নির্মাণের জন্য সম্ভাব্যতা সমীক্ষা এবং বিশদ ডিজাইন প্রজেক্ট, ঢাকা শহরের চারিদিকে বৃত্তাকারে সম্ভাব্যতা সমীক্ষা কার্যক্রম, চট্টগ্রাম পতেঙ্গায় বে-টার্মিনালে রেলওয়ে সংযোগের জন্য সম্ভাব্যতা সমীক্ষা এবং বিশদ ডিজাইন প্রকল্প, খুলনা থেকে দর্শনা জংশন সেকশনে ডাবল রেললাইন নির্মাণ, রেলওয়ের ৫৭৫ কিলোমিটার সেকেন্ডারি লাইনে অপটিক্যাল ফাইবারভিত্তিক টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা স্থাপন এবং চালুকরণ প্রজেক্ট, সুনামগঞ্জ জেলা সদরে রেলওয়ে সংযোগে সম্ভাব্যতা সমীক্ষা এবং বিশদ ডিজাইন মেয়াদ বাড়ানো প্রকল্প, ঢাকা-চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেল প্রকল্প প্রস্তুতিমূলক সুবিধার জন্য কারিগরি সহায়তা প্রজেক্ট। ইতোমধ্যে আটবার মেয়াদ বাড়ানোয় এ প্রকল্পের ব্যয় বেড়েছে ১১ গুণ। চার দফা মেয়াদ বাড়ানোর পরও মোংলা হতে খুলনা প্রকল্পের কাজ সমাপ্তি নিয়ে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা। ৬৫ কিলোমিটার রেলপথ নির্মাণ প্রকল্প নেয়া হয় ২০১০ সালে। ১০ বছরেও নির্মাণ প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়া নিয়ে সংশয় রয়েছে।

আবার ঢাকা থেকে মাওয়া হয়ে যশোর পর্যন্ত রেলপথ নির্মাণ শেষ হওয়ার কথা ২০২২ সালে। কিন্তু বর্তমানে প্রকল্পটির সামগ্রিক অগ্রগতি মাত্র ৪-৫ শতাংশ। তাই সমগ্র প্রকল্পটি কবে শেষ হবে তা বলা মুশকিল। আবার ঢাকা-চট্টগ্রাম দ্রæতগতির ট্রেন চলচল, ঢাকা শহরের চারিদিকে বৃত্তাকার রেলের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা কার্যক্রমসহ অনেকগুলো প্রকল্পে কাজ এখনো শুরুই হয়নি।

এসব বিষয়ে যোগাযোগ বিশ্লেষক বুয়েটের পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. শামসুল হক বলেন, যত বড় প্রকল্প, তত বেশি দুর্নীতি। প্রকল্প যত বিলম্বিত হয়, খরচ ততই বাড়ে। আর সেই সুযোগ-সুবিধা নিতে এবং লুটপাটের সুযোগ বাড়াতে এসব প্রকল্প ঝুলিয়ে রাখা হয় দিনের পর দিন। তাছাড়া বিদেশ সফর, সরকারি গাড়ির যথেচ্ছ ব্যবহার আর প্রকল্পের জন্য নানা ধরনের যন্ত্রপাতি ও উপকরণ কিনতে কোটি কোটি টাকা নয়ছয় করে নিজের আখের গোছানোর দিকেই তারা বেশি মনোযোগ দেন।

তাছাড়া দীর্ঘদিন ধরে প্রকল্পের মাধ্যমে কেনাকাটা, সেতু নির্মাণ, নিয়োগ, যাত্রীসেবা, ট্রেন ও রেললাইন দেখভালসহ সব ক্ষেত্রেই চলছে অনিয়ম। ইতোমধ্যে বেশ কিছু দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হওয়ায় সাজা হয়েছে অনেকের। আরো কয়েকটি প্রকল্পে দুর্নীতির তদন্তে নেমেছে রেল মন্ত্রণালয় ও দুদক।

রেলপথ মন্ত্রণালয়ের অথনীতিবিদ প্রকৌশলী এস এম সলিমুল্লাহ বাহার বলেন, ১৪টি প্রকল্পের মেয়াদ দুয়েক বছর বাড়লেও অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দ দেয়া হয়নি। তবে কোনো কোনো প্রকল্প বাস্তবতার কারণে বা ডিজাইন, দূরত্ব, সিঙ্গেল থেকে ডুয়েলগেজে রূপান্তরিত করতে ব্যয় সঙ্গত কারণে বেড়েছে।

রেলমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন বলেন, করোনার কারণে রেলের চলমান প্রকল্পগুলোর কাজ কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিশেষ করে মেগাপ্রকল্প যেমন- পদ্মা লিংক রেলপথ প্রকল্প, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার, খুলনা-মোংলাসহ বেশ কিছু প্রকল্পের কাজ করোনার কারণে ধীরগতিতে চলছে। অর্থ নয়ছয় বা দুর্নীতির কোনো সুযোগ নেই। কারণ প্রতিনিয়ত প্রকল্পের কাজ মনিটর করছে প্রকল্প মনিটরিং টিম।

এসআর

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়