লকডাউন: কর্মহীনদের জন্য বরাদ্দ ৫৭২ কোটি টাকা

আগের সংবাদ

সিলেটের থানায় থানায় মেশিনগান পাহারা

পরের সংবাদ

এবার বই বিক্রির ‘প্রকৃত’ হিসাব জানাবেন স্টল মালিকরা

প্রকাশিত: এপ্রিল ৮, ২০২১ , ৯:৪৩ অপরাহ্ণ আপডেট: এপ্রিল ৮, ২০২১ , ১০:২১ অপরাহ্ণ

প্রতিবছর মাসব্যাপী অমর একুশে বইমেলায় কোটি কোটি টাকার বই বিক্রির তথ্য প্রকাশ করে আয়োজক প্রতিষ্ঠান বাংলা একাডেমি। স্টল থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সর্বমোট বিক্রির হিসাব প্রকাশ করে থাকে তারা। সেখানে বিক্রির যে হিসাব ও টাকার অংক প্রকাশ করা হয় তা নিয়ে এবার সন্দেহ প্রকাশ করেছেন প্রকাশকদের একাংশ। তারা উদ্যোগ নিয়েছে এবার নিজেদের বিক্রির হিসাব এবার নিজেরাই সমন্বয় করে প্রকাশ করবেন। সেই তথ্য বাংলা একাডেমিকেও দেবেন।

ইতোমধ্যে প্রকাশকদের সংগঠন প্রকাশনা জগতের শীর্ষ সংগঠন বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতির (বাপুস) পক্ষ থেকে বই বিক্রির হিসাব চেয়ে স্টল মালিকদের চিঠি দেয়া হয়েছে। যেখানে মেলায় বই বিক্রির প্রকৃত হিসাব চাওয়া হয়েছে। বইমেলার শেষ দিনে এ তথ্য প্রকাশ করবে প্রকাশক সমিতি।

করোনা পরিস্থিতির মধ্যে একুশে মেলায় সেই পাঠকদের আনাগোনা বইয়ের স্পর্শ যাদের কাছে অনেক বেশি প্রিয়। ছবি: ভোরের কাগজ

প্রকাশকরা জানান, প্রতিবছর মেলায় মোট বই বিক্রির যে তথ্য আয়োজক প্রতিষ্ঠান প্রকাশ করে তা বিচ্ছিন্নভাবে সংগ্রহ করা হয়। অনেক সময় সেখানে বিক্রির পরিমাণ বাড়িয়ে ধরা হয়। তাতে প্রকৃত তথ্য জানা সম্ভব হয় না। এজন্য এবার নিজস্ব উদ্যোগে কাজটি করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে প্রতিটি স্টল মালিককে চিঠি দেওয়া হয়েছে। নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের সঠিক তথ্য জানাতে বলা হয়েছে।

বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও শাহবাগ থানার আহ্বায়ক আনোয়ার ফরিদী বলেন, এবারের বইমেলার পরিস্থিতি একেবারে অসহ্য। কোনো বইও বিক্রি হচ্ছেই না। দুজন কর্মচারী। বিক্রি হোক না হোক প্রতিদিন তাদের টাকা দিতে হচ্ছে। তার ওপর বিকেলের নাশতা আর নিজের যাতায়াত খরচ মিলিয়ে হাজার টাকা পকেট থেকে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, প্রতিবছর বাংলা একাডেমি বই বিক্রির যে ৩ কোটি বা ৬ কোটির হিসাব দেয় তা সঠিক নয়। অনেকটা মনগড়া। বিক্রির প্রকৃত চিত্র তুলে ধরতে তাই এবার আমরাই উদ্যোগ নিয়েছি্

প্রকাশক নেতা নওরোজ কিতাবিস্তানের স্বত্বাধিকারী মনজুর খান চৌধুরী ভোরের কাগজকে বলেন, এবারই প্রথম আমরা নিজস্ব উদ্যোগে বইমেলার বইবিক্রির হিসাব সংগ্রহ করছি, যাতে প্রকৃত তথ্য হাতে আসে। ইতোমধ্যে চিঠি দেয়া হয়েছে স্টল মালিকদের কাছে। তারাও উৎসাহী হয়েছে এ ব্যাপারে। প্রতিবছর বাংলা একাডেমি মনগড়া একটা হিসাব দিত। যেখানে বিক্রির পরিমাণও বাড়িয়ে দিত। ফলে ক্ষতির পরিমাণটা ওভাবে উঠে আসত না। তাই আমাদের পক্ষ থেকে এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

বইমেলাকে মরার উপর খারার ঘা উল্লেখ করে এই প্রকাশক আরও বলেন, সরকারের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে বলছি, একদিকে লক ডাউন পালন করা, অপরদিকে বইমেলা! এমন সাংঘর্ষিক সিদ্ধান্ত নেয়া সরকারের পক্ষে কিভাবে সম্ভব হল? লক ডাউনে মেলা রাখার অর্থই হচ্ছে কফিনে শেষ পেরেকটি টুকে দেয়ার মতই। লকডাউন দিয়ে মানুষকে ঘরে আটকে বইমেলা কতটুকু যুক্তিযুক্ত? মেলার যে একটা মিনিং আছে এর সাথে সামঞ্জস্য হচ্ছে কি?

অনিন্দ্য প্রকাশনীর স্বত্বাধিকারী আফজাল হোসেন বলেন, বেচা বিক্রি কিচ্ছু হচ্ছে না। এবার প্রকাশকদের দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে। আমরা চাই সরকার সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে প্রকাশকদের বাঁচাতে বিশেষ বরাদ্দ দিক।

প্রথমার বিক্রয় কর্মী জানান, সমিতি থেকে চিঠি পেয়েছি। যথাযথ কতৃপক্ষের কাছে পৌঁছে দিয়েছি। তারা তথ্য দেবেন।

আবীর প্রকাশনের স্বত্বাধিকারী মুহম্মদ নুরুল আবসার বলেন, সমিতি থেকে চিঠি পেয়েছি। নির্দেশনা অনুযায়ী তথ্য দেব। তবে এবারের বেচাবিক্রি বিষয়ে আমার হতাশা অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে ফেলেছে। লকডাউনের কথা শুনে বইপত্র নিয়ে চট্টগ্রাম চলে এলাম।

এদিকে বৃহস্পতিবার মেলার ২২তম দিনে বেশ কিছু স্টলে ভালো বিক্রি দেখা গেলেও অনেক স্টল ছিল ক্রেতাশূন্য। বিকেল গড়াতেই মেলায় ভিড় বেড়ে যায়। বড় বড় স্টলগুলোতেই ভিড় বেশি দেখা যায়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নতুন আসা ভাল মানের বইয়ের পাশাপাশি ক্রেতাদের বেশিরভাগই চিরন্তন বইয়ের দিকেই ঝুঁকেছে। মেলার পরিসর বড় হওয়ায় অনেক স্টল একেবারেই শূন্য দেখা গেছে। তবে বেশিরভাগ স্টলে ক্রেতাদের আনাগোনা আগের চেয়ে বেড়েছে। স্টল মালিকরা শুক্রবার ছুটির দিনের দিকে তাকিয়ে আছেন। ছুটির দিনে বেশি বিক্রি হবে বলে আশা করছেন।

উল্লেখ্য, করোনার কারণে ফেব্রুয়ারির পরিবর্তে এ বছর ১৮ মার্চ মেলা শুরু হয়। সেদিন বিকেলে মেলার উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরপর ছুটির দিন সকাল ১১টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত চলে মেলা। অন্যান্য দিনগুলোতে বিকেল ৩টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত মেলা চলে। কিন্তু দেশে করোনার সংক্রমণ বেড়ে গেলে ৩১ মার্চ বইমেলার সূচি পরিবর্তন করে বিকেল ৪টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা পর্যন্ত করা হয়। এরপর আবার সাতদিনব্যাপী কঠোর বিধিনিষেধ আরোপের মধ্যে আগের চেয়ে সময় বাড়িয়ে প্রতিদিন বেলা ১২টা থেকে ৫টা পর্যন্ত মেলার সময় সূচি করা হয়।

এমআই

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়