ফুটওভার ব্রিজ আশু জরুরি

আগের সংবাদ

এই যেন প্রকৃতির প্রতিশোধ

পরের সংবাদ

অসাধু ব্যবসায়ীদের দৌরাত্ম্য থামবে কবে?

অনন্য প্রতীক রাউত

শিক্ষার্থী, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়

প্রকাশিত: এপ্রিল ৮, ২০২১ , ১২:১১ পূর্বাহ্ণ আপডেট: এপ্রিল ৮, ২০২১ , ১২:২২ পূর্বাহ্ণ

বাংলাদেশ খাদ্য উৎপাদনে অবশ্যই সুদৃঢ় অবস্থানে রয়েছে। করোনাকালীন ধাক্কার পরও নেই খাদ্য সংকট। তবে বিরাজমান দ্রব্যমূল্যর ঊর্ধ্বগতি সে ব্যাপারে অবশ্যই দ্বিমত করার সুযোগ নেই বিন্দুমাত্র। চাল, ডাল, তেল, মসলা, লবণসহ অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম হু হু করে বাড়ছে। চাল ৭০ টাকা (বাজারভেদে ভিন্নতা থাকতে পারে কিছুটা), ডাল ১৪০ টাকা, তেল ১০০ টাকা বাকি পণ্যের কথা না হয় বললাম না। সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে দ্রব্যমূল্যের এই ঊর্ধ্বগতি বিড়ম্বনার মধ্যে ফেলে দিচ্ছে। জনগোষ্ঠীর একটি অংশ বিশেষত শ্রমজীবী সম্প্রদায় সরাসরি এ দুরবস্থায় নিজেদের নিয়ে বিপাকে। পূর্বের তুলনায় নানা সমৃদ্ধি, অগ্রগতির জন্য দারিদ্র্যতা নিশ্চয়ই হ্রাস পেয়েছে। পরিসংখ্যানের হিসাবে সংখ্যাটা ২০-২৪ শতাংশের মধ্যে হবে। নানা জটিলতার পরও এ দামে ৮০ ভাগ মানুষ দ্রব্য ক্রয় করতে পারেনÑ এ যুক্তি অনেকে দেখাতেই পারেন। অস্বীকার করার সুযোগ নেই, তবে ২০ ভাগ মানুষ ক্রয়সীমার নিচে বাস করছে বা দুরবস্থায় পর্যবসিত এটাও অস্বীকার করার সুযোগ নেই। অনেকে চটপট সরকারবিরোধী মতামত বা রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিল করে ফেলতেই পারেন। কিন্তু এতে করে সাধারণ মানুষগুলোর আদৌ কোনো উপকার হবে? নিশ্চয়ই না। ৮০ ভাগ মানুষ খেতে পারছে বলে ২০ ভাগ মানুষের সমস্যা দিন শেষে সরকার এড়াতে পারে নাÑ এটাও চিরন্তন সত্যি। তবে দুরবস্থায় সরকারের ভূমিকা কতটা? প্রথাগত নিয়মে সরকার কেন্দ্রিক দোষারোপ করলেও মানতে হবে যে আপনি, আমি, তুমি মিলেই সরকার। সুতরাং দায় সরকারের একার কোনোভাবেই নয়। দ্রব্যমূল্যের দাম বৃদ্ধি চাহিদাসম্পন্ন জনগোষ্ঠীকে যেমন ভোগাচ্ছে তেমনি হয়তো আপনার বা আমার মতো নামধারী কতিপয় স্বার্থান্বেষী ব্যবসায়ীর পকেট পূর্ণ করছে। তাদের নিয়ন্ত্রণের আওতায় আনা সবচেয়ে জরুরি।

বাজারে প্রচুর সরবরাহ থাকা সত্ত্বেও হঠাৎ করে ২৫-৩০ টাকার পেঁয়াজ ২৫০ থেকে ৩০০ টাকায় গিয়ে ঠেকেছিল বিগত বছরগুলোর কোনো এক সময়ে। দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি দামে বিক্রয় হয়েছিল নিত্যপ্রয়োজনীয় এ পণ্যটি। সরকারি উদ্যোগ, পত্রিকায় লেখালেখি, আলোচনা, সমালোচনা বহু কিছু হলেও ব্যবসায়ীরা পেঁয়াজের দাম কমায়নি বরং অনেক ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের মাধ্যমে পেঁয়াজ গুদামজাত করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করেছিল। মানুষের দুর্ভোগ বেড়ে গিয়েছিল এতে কয়েক গুণ। চিন্তা করুন একবার স্বার্থান্বেষী এসব ব্যবসায়ীর দৌরাত্ম্যে কতটা?

এদের মানসিকতা বদলাতে হবে তাহলেই হবে সমাধান। প্রথাগত উত্তর দেয়া যেতেই পারে। প্রথাগত উত্তর যেমন সমাধান নয়, তেমনি প্রতিরোধ কর্মকাণ্ডগুলোও প্রথাগত হলে চলবে না। সময়োপযোগী ও বাস্তবমুখী হতে হবে প্রতিরোধ কর্মকাণ্ড। স্বার্থান্বেষী ব্যবসায়ীদের যতই সচেতন করেন বা বাস্তবতা বুঝান তাদের মন গলবে না। সোজা আঙুলে যেহেতু ঘি ওঠে না সুতরাং প্রশাসনের আইনগত কাঠামোর যুগোপযোগী বাস্তবায়নের দিকে অবশ্যই নজর দেয়া উচিত।

বাংলাদেশে নিরাপদ খাদ্য ও পণ্যের মান নিয়ন্ত্রণকারী রাষ্ট্রীয় সংস্থা হলো বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ড এন্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই)। ভোক্তাদের অধিকার দেখার জন্য রয়েছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর এবং বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন-২০০৯ এবং নিরাপদ খাদ্য আইন-২০১৩- এই দুটি আইনের মাধ্যমে সরকার দেশে বাজার মনিটরিং করে থাকে। দেশে ভোক্তাদের অধিকার দেখার জন্য দুটি সময়োপযোগী আইন থাকার পরও কেন পণ্যে ভেজাল বন্ধ হচ্ছে না এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হচ্ছে না? এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের ভাবতে হবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কোনো গাফিলতি থাকলেও সে বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়ার সময় এখনই। জনগণের কষ্টকে আমলে নিয়ে এসব বিষয়ের বিরুদ্ধে সরকার, প্রশাসন ও আপনার/আমার মতো লোকদের জ্বলে উঠা অতীব প্রয়োজন।

খাদ্যপ্রাপ্তি রাষ্ট্রের প্রতিটি নাগরিকের অধিকার তেমনি নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। এই দুইয়ের সংমিশ্রণ ঘটানো অবশ্যই উচিত। এসব বিষয়ে হেলাফেলার কোনো সুযোগ আর বিন্দুমাত্র দেয়া উচিত না। অসাধু ব্যবসায়ীদের টুঁটি চেপে ধরার সময় এখনই। খাদ্য থাকুক নিরাপদ, খাদ্যের চাহিদা ভোগ করুক খাদ্যবঞ্চিত নিষ্পেষিত জনগণ। সবুজ শ্যামল মাঠ উঠুক আবারো শস্যদানায় ভরে। হাসুক কৃষক, হাসবে বাংলাদেশ।

শিক্ষার্থী, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়।

[email protected]

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়