আমেরিকায় বন্ধ হচ্ছে গুয়ান্তানামো কারাগার

আগের সংবাদ

কারিনার ছোট ছেলে দেখতে যার মতো

পরের সংবাদ

‘বিষন্নতা থেকে মুক্তি পেতে পরিবারকে হত্যা করেছি’

প্রকাশিত: এপ্রিল ৬, ২০২১ , ১:০৫ অপরাহ্ণ আপডেট: এপ্রিল ৬, ২০২১ , ১:১১ অপরাহ্ণ

বেশ কয়েক বছর ধরেই বিষন্নতায় ভুগছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যে পরিবারের সঙ্গে বসবাসরত বাংলাদেশি। পরীক্ষায় বারবার ফেল করছিলেনও তিনি। তাই সিদ্ধান্ত নেন বেঁচে থাকবেন না আর। কিন্তু তিনি আত্মহত্যা করলে তো পরিবার কষ্ট পাবে! পরিবারকেও সে কষ্টটা যেন পেত না হয়, তাই সিদ্ধান্ত নিলেন পরিবারের সবাইকেই হত্যা করবেন। আর এ কাজে সহযোগিতা করতে সঙ্গে নিলেন নিজেরই আরেক ভাইকে।

টেক্সাসের ডালাস শহরের উপকণ্ঠের একটি বাড়ি থেকে একই পরিবারের ৬ বাংলাদেশির মরদেহ উদ্ধার হওয়ার পর উঠে আসে এসব তথ্য। প্রবাসী বাংলাদেশি ও পুলিশের ধারণা, বড় ভাই তানভীর তৌহিদ (২১) ছোট দুই ভাই ফারহান তৌহিদ মানসিক বিষণ্নতায় ভুগছিল। হতাশা থেকেই পরিবারের চার সদস্যকে হত্যা করেন তারা এবং পরে নিজেরা আত্মহত্যা করেন। দুই ভাইয়ের একজনের ফেসবুক স্ট্যাটাস থেকে এমন ধারণা করছেন তারা।

হত্যাকাণ্ডের আগে ফারহান তৌহিদ ইনস্টাগ্রামে একটি দীর্ঘ ‘সুইসাইড নোট’ পোস্ট করেছেন। এতে তিনি লিখেছেন, ‘আমি নিজেকে ও আমার পরিবারকে হত্যা করেছি।’ নবম শ্রেণি থেকে মানসিক হতাশার বিরুদ্ধে কীভাবে লড়াই করেছেন ফারহান সে কথাও লিখেছেন। তার বড় ভাইও হতাশার সঙ্গে লড়াই করেছেন বলে জানিয়েছেন।

পুলিশ জানিয়েছে, দুই ভাই ‘সুইসাইড নোট’ রেখে গেছেন। এই নোট থেকে মনে করা হচ্ছে, তারা হতাশায় ভুগছিলেন। পরিবারকে লজ্জা ও কষ্ট থকে মুক্তি দেওয়ার জন্য দুই ভাই সবাইকে হত্যা করে নিজেরা আত্মহননের পথ বেছে নিয়েছেন বলে সুইসাইড নোটে উল্লেখ রয়েছে।

সুইসাইড নোটে ফারহান জানান, তার ঘনিষ্ঠ তিন বন্ধু তাকে ত্যাগ করেছেন। এমনি হতাশার মধ্যেই তাকে ভর্তি করা হয় ইউনিভার্সিটি অব অস্টিনে কম্পিউটার সায়েন্স ডিপার্টমেন্টে। এরপর তিনি ভাবেন যে, এবার জীবনটা সঠিক ট্র্যাকে উঠেছে। বাস্তবে তা ঘটেনি। বিষণ্নতায় জর্জরিত হয়ে পুনরায় নিজের শরীর রক্তাক্ত করেন এবং কাঁদতে কাঁদতে বিছানায় ঘুমাতে যান।

যেভাবে পরিকল্পনা সাজিয়েছিল তারা:

‘যদি আত্মহত্যা করেন তাহলে গোটা পরিবার সারাজীবন কষ্ট পাবে। সেটি তিনি চান না। সেজন্য পরিবারের সকলকে নিয়ে মারা যাবার চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে ভাইকে সামিল করেন। দু’ভাই যান বন্দুক ক্রয় করতে। তিনি হত্যা করবে ছোট বোন আর নানীকে। আর তার ভাই করবে মা-বাবাকে। এরপর উভয়ে আত্মহত্যা করবেন এমন সিদ্ধান্ত নেন তারা। কেউ থাকবে না কষ্ট পাবার।’

‘বন্দুক ক্রয়ের ব্যাপারটি খুবই সহজ। তার ভাই গেলেন দোকানে। বললেন যে, বাড়ির নিরাপত্তার জন্য বন্দুক দরকার। দোকানি কয়েকটি ফরম ধরিয়ে দিলেন, সেখানে স্বাক্ষর করলেন ভাই। এরপর হাতে পেয়ে যান কাঙ্ক্ষিত বস্তুটি।’ তার লেখা থেকে ধারণ করা হচ্ছে, এই বন্দুক দিয়ে নিজেদের কষ্ট এবং পরিবারের কষ্ট সহজ করতে মা আইরিন ও বাবা তৌহিদুল ইসলামসহ নানী এবং একমাত্র বোনকে তারা নির্মমভাবে হত্যা করে নিজেরা আত্মহত্যা পথ বেছে নেন।

এমআই

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়