রোনালদোর গোলে হার এড়াল জুভেন্টাস

আগের সংবাদ

গুণ্ডা আনতে বাংলাদেশে গিয়েছিলেন মোদি

পরের সংবাদ

টিকার মজুতে ঘাটতি তবে ‘কার্যক্রম’ চলবে

প্রকাশিত: এপ্রিল ৪, ২০২১ , ৮:৩৯ পূর্বাহ্ণ আপডেট: এপ্রিল ৪, ২০২১ , ৮:৩৯ পূর্বাহ্ণ

সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী ৮ এপ্রিল থেকে দেশে করোনা টিকার দ্বিতীয় ডোজ দেয়া শুরু হবে। এদিকে দেশে দ্রুত করোনার সংক্রমণ বাড়ায় এক সপ্তাহ চলাচলে কড়াকড়ি করার সিদ্ধান্তও নিয়েছে সরকার। আগামীকাল থেকেই তা কার্যকর হচ্ছে। এমন খবরে প্রথম ডোজ টিকা নেয়া ব্যক্তিদের মনে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে তারা টিকা নিতে পারবেন কিনা?

এক প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মুখপাত্র অধ্যাপক ডা. রোবেদ আমিন ভোরের কাগজকে জানিয়েছেন, এর প্রভাব টিকাদান কর্মসূচির ওপর পড়বে না। টিকাদান কর্মসূচি চলমান থাকবে। কেন্দ্রে গিয়ে টিকা কার্ড দেখিয়ে টিকা নেয়া যাবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে জানা যায়, আগামী ৫ এপ্রিল থেকে টিকার প্রথম ডোজ দেয়া বন্ধ করা হবে। মাঝে ৩ দিন বিরতি দিয়ে ৮ এপ্রিল থেকে টিকার দ্বিতীয় ডোজ দেয়া শুরু হবে। ডা. রোবেদ আমিন বলেন, এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে শনিবার রাতে টিকা ব্যবস্থাপনা কমিটির বৈঠক হওয়ার কথা। এরপরই সিদ্ধান্ত জানা যাবে।

এদিকে এরই মধ্যে দেশে দ্বিতীয় ডোজ টিকা কার্যক্রমও শুরু হয়েছে গতকাল শনিবার। ঢাকার কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে ১০ জন টিকার দ্বিতীয় ডোজ নিয়েছেন। তবে প্রথম ডোজ পাওয়া সবাইকে দ্বিতীয় ডোজ দেয়ার মতো পর্যাপ্ত টিকা এই মুহূর্তে স্বাস্থ্য বিভাগের হাতে নেই। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এমআইএস শাখার করোনা ভাইরাসের টিকাবিষয়ক তথ্যানুযায়ী, দেশে এ পর্যন্ত টিকাগ্রহীতার সংখ্যা ৫৪ লাখ ৫২ হাজার ৬৩৪ জন। আর ২১ জানুয়ারি থেকে কয়েক ভাগে ভারত থেকে উপহার হিসেবে এবং কেনা টিকার চালানসহ দেশে মোট টিকা এসেছে ১ কোটি ২ লাখ। এদিকে আগামী ১৬ এপ্রিলের মধ্যে কিছু টিকার মেয়াদও শেষ হওয়ার কথা। ফলে একটা ঘাটতি থেকেই যাচ্ছে। পরবর্তী চালান কবে আসবে সে ব্যাপারে সরকারের পক্ষ থেকে ‘শিগগিরই জানা যাবে’ বলা হলেও নির্দিষ্ট তারিখ কেউ বলতে পারছেন না।

সম্প্রতি নিজস্ব চাহিদার কথা বিবেচনা করে ভারত টিকা রপ্তানি সাময়িকভাবে স্থগিত করার ঘোষণার পরই এই সংকট দেয়া দেয়। দেশে সময়মতো করোনা টিকার চালান না পৌঁছায় টিকা কার্যক্রম অব্যাহত রাখার ক্ষেত্রে ব্যত্যয় হতে পারে। যদিও ভারত সরকার বলছে বাংলাদেশের সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী টিকা প্রাপ্তির বিষয়ে এর কোনো প্রভাব পড়বে না।

শুধু বাংলাদেশেই নয় করোনা টিকা প্রাপ্তি নিয়ে বিশ্বের অনেক দেশেরই রয়েছে সংশয়। টিকা সরবরাহে বৈষম্য নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন খোদ জাতিসংঘের মহাসচিব ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস টিকা মজুত করায় ধনী দেশগুলোর সমালোচনা করেন। মহামারি অবসানে সহায়তা করতে মজুত করা টিকা অন্য দেশগুলোর সঙ্গে ভাগাভাগি করার পরামর্শও দেন। বিশ্বের সব দেশের মধ্যে করোনা টিকার সমবণ্টন নিশ্চিত করতে গঠন করা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কোভ্যাক্স কর্মসূচিও টিকা প্রাপ্তির বিষয়টি নিশ্চিত করতে পারছে না।

টিকার সংকট প্রসঙ্গে অধ্যাপক ডা. রোবেদ আমিন বলেন, এখন পর্যন্ত আমাদের হাতে বেশ কিছু ডোজ টিকা মজুত আছে। আশা করা হচ্ছে মে মাসের মধ্যেই এই সমস্যার সমাধান হবে।

২৯ মার্চ এক অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক টিকা সময়মতো না পেলে অন্য পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন। তবে অন্য কী পরিকল্পনা সে ব্যাপারে তিনি কিছু বলেননি। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ভারতের সিরাম ইনস্টিটিউট থেকে এ মাসের টিকা আমরা পাইনি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে টিকা কেনার বিষয়ে জানিয়েছেন। এছাড়া কোভ্যাক্সের টিকা পেতে মে-জুন মাস সময় লাগবে। টিকা পেতে দেরি হলে আমাদের অন্য পরিকল্পনা করতে হবে।

প্রসঙ্গত, ২০২০ সালের ৫ নভেম্বর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, ভারতের সিরাম ইনস্টিটিউট এবং বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালসের মধ্যে টিকা আমদানির বিষয়ে চুক্তি হয়। এরপর ২১ জানুয়ারি ভারত সরকারের উপহার হিসেবে দেশে আসে ২০ লাখ ডোজ টিকা। ২৫ জানুয়ারি কেনা টিকার প্রথম চালান আসে। ওই সময় ৫০ লাখ ডোজ টিকা আসে দেশে। কেনা টিকার দ্বিতীয় চালান আসে ২২ ফেব্রুয়ারি। প্রতি চালানে ৫০ লাখ ডোজ টিকা আসার কথা থাকলেও ওই দিন ২০ লাখ ডোজ টিকা আসে। ২৬ মার্চ ভারত সরকার আবারো ১২ লাখ ডোজ উপহার হিসেবে দেয় বাংলাদেশকে।

এদিকে সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক ও টিকা বিতরণ কমিটির প্রধান অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা বলেন, এ কথা সত্যি, সবার জন্য দ্বিতীয় ডোজের টিকা নেই। কিন্তু আমরা যখন কাজ শুরু করব, টিকা যাতে এসে যায়, সে বিষয়ে আমরা কাজ করছি। আমরা আশাবাদী, দ্বিতীয় ডোজের টিকা পাব। আশা করছি, আগামী মাসে কিছু টিকা পেয়ে যাব। তার ভিত্তিতে দ্বিতীয় ডোজের টিকা সবাইকে যাতে দিতে পারি, সেটা নিশ্চিত করার জন্য আমরা কাজ করছি।

এদিকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এমআইএস শাখার করোনা ভাইরাসের টিকাবিষয়ক তথ্য অনুযায়ী, দেশে করোনার টিকাগ্রহীতার সংখ্যা দিন দিন কমছে। সোমবার (২৯ মার্চ) টিকা নিয়েছেন ৫৬ হাজার ৪৩১ জন। ২৮ মার্চ ৫৮ হাজার ৪২৪ জন, ২৭ তারিখ ৬৫ হাজার ৩৬৮ জন টিকা নেন। ২৫ মার্চ ৭০ হাজার ৪০৭ জন ২৪ মার্চ ৭৮ হাজার ৮১৭ জন সারাদেশে টিকা নিয়েছেন। ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে সরকারি ছুটির দিন বাদে প্রতিদিন সকাল সাড়ে ৮টা থেকে দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত টিকাদান কর্মসূচি চলছে।

পিআর

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়