চ্যাম্পিয়ন্স লিগে খেলার স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখলো লিভারপুল

আগের সংবাদ

ইস্টার সানডে উপলক্ষে ইতালিতে কঠোর লকডউন

পরের সংবাদ

প্রকাশকদের মাঝে হতাশা

আজই শেষ হতে পারে অমর একুশে গ্রন্থমেলা

প্রকাশিত: এপ্রিল ৪, ২০২১ , ৯:৩৭ পূর্বাহ্ণ আপডেট: এপ্রিল ৪, ২০২১ , ৯:৩৭ পূর্বাহ্ণ

লকডাউনের বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি হতে পারে আজ রবিবার। আর এর মধ্য দিয়েই এবারের বইমেলা বন্ধের ঘোষণা আসবে। এমন ইঙ্গিত পাওয়া গেছে সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যে। সে হিসেবে আজ ১৮তম দিনটিই এ বছরের বইমেলার শেষ দিন হতে যাচ্ছে। সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, মন্ত্রণালয়ের বৈঠকে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসবে। তবে মেলা বন্ধ হওয়ার আশঙ্কাই বেশি।

রবিবার (৪ এপ্রিল) সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ে বইমেলা বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে বৈঠক ডাকা হয়েছে। বইমেলা বন্ধ হবে নাকি চলমান থাকবে সে বিষয়ে বৈঠকে আলোচনা হবে। সেখান থেকে নেয়া সিদ্ধান্ত জানানো হবে গণমাধ্যমকে।

মন্ত্রী বলেন, যেভাবে করোনা বিস্তার লাভ করছে সে পরিস্থিতিতে মেলা চলমান রাখার ঝুঁকি কেউ নিতে চাইছে না। তাছাড়া সারাদেশ লকডাউন হলে বইমেলা চালু থাকার সুযোগ নেই।

এদিকে গতকাল বিকালে বাংলা একাডেমির পক্ষ থেকে বইমেলার ভবিষ্যৎ বিষয়ে কোনো দিক-নির্দেশনা কেউ দেয়নি। তারা সাংবাদিক ও প্রকাশকদের এড়িয়ে চলছেন। বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক সারাদিন অফিসেই ছিলেন না। তিনি অফিসে আসেন বিকালে। কারো ফোনও ধরেননি। প্রকাশকরা আলোচনা করতে চাইলেও তিনি তাদের সঙ্গে বসেননি। একইভাবে বইমেলা পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব ড. জালাল আহমেদও প্রকাশক বা সংবাদকর্মী কারোর সঙ্গেই কথা বলেননি।

বাংলাদেশ জ্ঞান ও সৃজনশীল প্রকাশনী সমিতির সভাপতি ফরিদ আহমেদ বলেন, বইমেলা চলবে কিনা সে বিষয়ে কিছুই জানি না। এ বিষয়ে বারবার যোগাযোগ করার পরও বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক হাবীবুল্লাহ সিরাজী আমাদের সঙ্গে বৈঠকে বসতে রাজি হননি। সব মিলিয়ে প্রকাশকরা অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন। তবে তিনি এক সাক্ষাৎকারে বলেন, লকডাউন বিষয়ে সরকারি প্রজ্ঞাপন জারির পরই সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় থেকে বইমেলার সিদ্ধান্ত আসবে।

সেই হিসেবে আজই মন্ত্রণালয়ের বৈঠকের পর বিষয়টি পরিষ্কার হবে। তবে ফরিদ আহমেদ বলেন, আমরা চাই লকডাউনের পরে বইমেলা সচল হোক। কারণ বইমেলা করতে এসে প্রকাশকরা আরো ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

প্রকাশকদের মাঝে হতাশা: প্রকাশকদের মধ্যে মেলা নিয়ে কিছুটা হতাশা তৈরি হয়েছে। বড় বড় প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানগুলো ক্ষতি স্বীকার করে টিকে গেলেও শঙ্কায় আছেন ছোট প্রকাশনাগুলো। এবারের বইমেলায় তেমন বিক্রি হয়নি। অনেক প্রকাশনী স্টলের সাজসজ্জা ও কর্মচারীদের বেতনের খরচ পর্যন্ত তুলতে পারেননি। প্রতি বছর মেলার শেষ দিকে বইয়ের বিক্রি বেড়ে যায়, এ ধারণা নিয়েই তারা কিছুটা আশায় ছিলেন। এখন বইমেলা বন্ধ হয়ে গেলে অবিক্রীত বইগুলোর বোঝা বয়ে বেড়ানোর ভার কীভাবে বইবেন সে আশঙ্কার কথা জানালেন প্রকাশকরা।

অবসর প্রকাশনীর ব্যবস্থাপক মাসুদ রানা বলেন, এবারের বইমেলা শুরুতে জমেনি। যখন জমতে শুরু করল তখনই মেলার সময় কমিয়ে দেয়া হলো। এখন লকডাউনের কবলে পড়ল বইমেলা। প্রকাশকদের অবস্থা মোটেও ভালো নয়।

গতকাল ছুটির দিনটি পাঠকের আনাগোনায় প্রাণবন্ত হয়ে উঠেছিল। স্টলে স্টলে বিক্রিও জমে উঠেছিল। সকালে তেমন ভিড় দেখা না গেলেও বিকাল গড়াতেই মানুষের ঢল দেখা গেছে। বইপ্রেমীরা দলবেঁধে এসেছিলেন বই কিনতে। মেলা আজ রবিবার খোলা থাকবে কিনা এ নিয়েও প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়েছে প্রকাশকদের।

মেলা বন্ধের ঘোষণা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তাম্রলিপির স্বত্বাধিকারী এ কে এম তারিকুল ইসলাম বলেন, সরকার প্রতিটি সেক্টরে প্রণোদনা কিংবার সহযোগিতা করলেও প্রকাশনা শিল্প খাতে কোনো সহযোগিতা করছে না। এক্ষেত্রে পাঠকই আমাদের ভরসা।

এ প্রসঙ্গে পল্টন থেকে আসা সায়মন হক বললেন, অফিস শেষ করে বই কিনতে এসেছিলাম। কিন্তু ভলান্টিয়ারের তাড়া খেয়ে না কিনেই বেরিয়ে এলাম।

জানতে চাইলে ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেডের (ইউপিএল) কাওসার আহমেদ বলেন, যে সময়ে মানুষ ঢোকে, সেই সময়েই বন্ধ করে দিতে হচ্ছে। এতে পাঠক ও প্রকাশক উভয়েই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

অন্য প্রকাশকের মো. আসিফুর রহমান বলেন, বিকালের পর থেকেই বিক্রি জমেছে। কিন্তু যত বিক্রি হওয়া উচিত ছিল তত হয়নি। অথচ আমরা আশায় বুক বেঁধে মাঠে নেমেছিলাম।

আফসার ব্রাদার্সের বিক্রয় প্রতিনিধি জানান, আমাদের প্রতিষ্ঠানের বয়স ৫১ বছর। ৫১ বছরের পথচলায় বেচা-বিক্রিতে এই প্রথম এভাবে ধস নামল।

এমএইচ

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়