বইপ্রেমীরা দলবেঁধে এসেছিলেন বই কিনতে

আগের সংবাদ

তজুমদ্দিনে পোস্টার লাগানো কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, আহত ২৫

পরের সংবাদ

শেষের আগেই শেষ হচ্ছে বইমেলা

প্রকাশিত: এপ্রিল ৩, ২০২১ , ৯:৫৬ অপরাহ্ণ আপডেট: এপ্রিল ৩, ২০২১ , ১০:০০ অপরাহ্ণ

লকডাউনের প্রজ্ঞাপন জারি হবে আগামিকাল রবিবার। আর এর মধ্য দিয়েই এবারের বইমেলা বন্ধের ঘোষণা আসবে। এমন ইঙ্গিত পাওয়া গেছে সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যে। সেদিক থেকে বলতে গেলে আগামীকাল রবিবার ১৮তম দিনটিই এ বছরের বইমেলার শেষ দিন হতে চলেছে। সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, মন্ত্রণালয়ের বৈঠকে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসবে। তবে মেলা বন্ধ হওয়ার আশংকাই বেশি। কারণ মানুষের জীবন আগে।বইমেলার ইতিহাসে ইতোপূর্বে এমন ঘটনা ঘটেনি। এবারই প্রথম শেষের আগে শেষ হচ্ছে বইমেলা।

আগামিকাল রবিবার সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ে বইমেলা বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে বৈঠক ডাকা হয়েছে। বইমেলা বন্ধ হবে নাকি চলমান থাকবে সে বিষয়ে বৈঠকে আলোচনা হবে। সেখান থেকে নেওয়া সিদ্ধান্ত জানানো হবে গণমাধ্যমকে। মন্ত্রী বলেছেন, যেভাবে করোনা বিস্তার লাভ করছে সে পরিস্থিতিতে মেলা চলমান রাখার ঝুঁকি কেউ নিতে চাইছে না। আমি ব্যক্তিগত মেলা চলমান রাখতে চাইলেও স্বাস্থ্য ঝুঁকির বিষয়টি তা অনুমোদন দেয় না। লকডাউন দিলে বইমেলা চালু থাকার সুযোগ নেই।

এদিকে, বিকেলে বাংলা একাডেমির পক্ষ থেকে বইমেলার ভবিষ্যত বিষয়ে কোন দিক নির্দেশনা কেউ দেয়নি। তারা সাংবাদিক ও প্রকাশকদের এড়িয়ে চলছেন। বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক সারাদিন অফিসেই ছিলেন না। তিনি অফিসে এসেছেন বিকালে। কারো ফোনও ধরেননি। প্রকাশকরা আলোচনা করতে চাইলেও তিনি তাদের সঙ্গে কোন আলোচনায় বসেননি। একইভাবে বইমেলা পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব ড. জালাল আহমেদও প্রকাশক ও সংবাদকর্মী কারোর সঙ্গেই কথা বলেননি।

মেলার স্টলে দাঁড়িয়ে বই দেখছেন দর্শনার্থীরা। ছবি: মাসুদ পারভেজ আনিস

বাংলাদেশ জ্ঞান ও সৃজনশীল প্রকাশনী সমিতির সভাপতি ফরিদ আহমেদ বলেন, বইমেলা চলবে কি না সে বিষয়ে শনিবার পর্যন্ত কিছুই জানি না। এ বিষয়ে বারবার যোগাযোগ করার পরেও বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক হাবীবুল্লাহ সিরাজী আমাদের সঙ্গে বৈঠকে বসতেও রাজি হননি। সব মিলিয়ে প্রকাশকরা অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে। তবে তিনি এক সাক্ষাতকারে বলেছেন, লকডউন বিষয়ে সরকারি প্রজ্ঞাপন জারির পরেই সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় থেকে বইমেলার সিদ্ধান্ত আসবে।

সেই হিসেবে আজই মন্ত্রনালয়ের বৈঠকের পর বিষয়টি পরিস্কার হবে। তবে ফরিদ আহমেদ প্রকাশকদের পক্ষে আহবান জানিয়ে বলেছেন, আমরা চাই, লকডাউনের পরে বইমেলা সচল হোক। কারণ, একবছর পর বইমেলা করতে এসে প্রকাশকরা আরও ক্ষতির মুখে পরেছে।

প্রকাশকদের মাঝে হতাশা

প্রকাশকদের মধ্যেও মেলা নিয়ে কিছুটা হতাশা তৈরি হয়েছে। বড় প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানগুলো ক্ষতি স্বীকার করে টিকে গেলেও শঙ্কায় আছেন ছোট প্রকাশনাগুলো। এবারের বইমেলায় তেমন বিক্রি হয়নি। অনেক প্রকাশনী স্টলের সাজসজ্জা ও কর্মচারীদের বেতনের খরচ পর্যন্ত তুলতে পারেন নি। প্রতিবছর মেলার শেষদিকে বইয়ের বিক্রি বেড়ে যায়, এ ধারণা নিয়েই তারা কিছুটা আশায় ছিলেন। এখন বইমেলা বন্ধ হয়ে গেলে অবিক্রিত বইগুলোর বোঝা বয়ে বেড়ানোর ভার কিভাবে বইবেন সে আশংকার কথা জানালেন প্রকাশকরা।

অবসর প্রকাশনীর ব্যবস্থাপক মাসুদ রানা বলেন, এবারের বইমেলা শুরু থেকে জমেনি। যখন জমতে শুরু করলো তখনই মেলার সময় কমিয়ে দেয়া হলো। এখন লকডাউনের কবলে পরলো বইমেলা। প্রকাশকদের অবস্থা সঙ্গীন।

গতকাল ছুটির দিনটি পাঠকের আনাগোনায় প্রাণবন্ত হয়ে উঠেছিল। স্টলে স্টলে বিক্রিও জমে উঠেছিল। সকালে তেমন ভিড় দেখা না গেলেও বিকেল গড়াতেই মানুষের ঢল দেখা গেছে। বইপ্রেমীরা দলবেঁধে এসেছিলেন বই কিনতে। মেলা আজ রবিবার খোলা থাকবে কি না এ নিয়েও নানা জনের প্রশ্নের মুখে পরতে হয়েছে প্রকাশকদের।

মেলা বন্ধের ঘোষণা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তাম্রলিপির স্বত্বাধিকারী একেএম তারিকুল ইসলাম বলেন, সরকার প্রতিটি সেক্টরে প্রনোদনা কিংবার সহযোগিতা করলেও প্রকাশনা শিল্প খাতেকোন সহযোগিতা করছে না। এক্ষেত্রে পাঠকই আমাদের ভরসা।

বাংলা একাডেমির উপর ক্ষোভ প্রকাশ করে এই প্রকাশক আরও বলেন, সবচেয়ে হাস্যকর ব্যাপার হচ্ছে বাংলা একাডেমি আমাদের পাশে দাঁড়াচ্ছে না। এমন পরিস্থিতিতে আলোচনা করে যৌথ কোন সিদ্ধান্ত নেবে তা-ও করছে না।

এ প্রসঙ্গে পল্টন থেকে আসা সায়মন হক বললেন, অফিস শেষ করে বই কিনতে এসেছিলাম। কিন্তু ভলান্টিয়ারের তাড়া খেয়ে না কিনেই বেরিয়ে এলাম। কিছুই করার নেই, এক্ষেত্রে সরকারি সিদ্ধান্ত তো মানতেই হবে।

জানতে চাইলে ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেড (ইউপিএল) এর কাওসার আহমেদ বলেন, যে সময়ে মানুষ ঢোকে, সে সময়েই বন্ধ করে দিতে হচ্ছে। এতে করে পাঠকও প্রকাশক উভয়েই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

অন্য প্রকাশের আসিফুর রহমান বলেন, বিকালে পর থেকেই বিক্রি জমেছে। কিন্তু যত বিক্রি হওয়া উচিত ছিল তত হয়নি। অথচ আমরা আশায় বুক বেধে মাঠে নেমেছিলাম। তবে ইতিবাচক দিক হচ্ছে আগে দশ জন পাঠক আসলে তার মধ্য থেকে তিন জন বই কিনত। এখন দশজন আসলে দশজনই বই কিনছে।

আফসার ব্রাদার্স-এর বিক্রয় প্রতিনিধি জানান, আমাদের প্রতিষ্ঠানের বয়স ৫১ বছর। ৫১ বছরের পথ চলায় বেচা বিক্রিতে এই প্রথম এভাবে ধ্বস নামল। যা অবিশ্বাস্য।

করোনার কারণে ফেব্রুয়ারির পরিবর্তে এ বছর ১৮ মার্চ মেলা শুরু হয়। সেদিন বিকেলে মেলার উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরপর ছুটির দিন সকাল ১১টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত চলে মেলা। অন্যান্য দিনে বিকেল ৩টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত মেলা চলে। কিন্তু দেশে করোনার সংক্রমণ বেড়ে গেলে ৩১ মার্চ বইমেলার সূচি পরিবর্তন করে বিকেল ৩টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা পর্যন্ত করা হয়।

এসআর

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়