ঋণের জালে জর্জরিত সায়ন্তিকা

আগের সংবাদ

মেট্রোরেলের কোচের প্রথম চালান খালাস হবে বুধবার

পরের সংবাদ

অন্তঃসত্ত্বা ও স্তনদানকারী নারীর টিকা নিতে সমস্যা নেই

প্রকাশিত: মার্চ ৩০, ২০২১ , ১:২৬ অপরাহ্ণ আপডেট: মার্চ ৩০, ২০২১ , ১:৪৬ অপরাহ্ণ

করোনা প্রতিরোধে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশে শুরু হয়েছে টিকাদান কর্মসূচি। তবে এখনো পর্যন্ত বিভিন্ন পর্যায়ের মানুষের মধ্যে টিকার প্রয়োগ না হওয়ায় পর্যাপ্ত তথ্য না থাকায় কিছুটা সীমাবদ্ধতা রয়েছে। এ সীমাবদ্ধতার আওতায় রয়েছে অন্তঃসত্ত্বা নারী ও শিশুদের বুকের দুধ পান করান মায়েরা। তারা টিকা নিতে পারছেন না।

তবে বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক তথ্য উপাত্তের ভিত্তিতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং আন্তর্জাতিক প্রসূতি ও স্ত্রীরোগ ফেডারেশন (এফআইজিও) সম্প্রতি জানিয়েছে অন্তসত্ত্বা ও শিশুকে স্তনদানকারী নারীরা টিকা নিতে পারবেন।

আজ মঙ্গলবার (৩০ মার্চ) রাতে কোভিড-১৯ প্রতিরোধে গঠিত জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটির সভায় এই বিষয়ে আলোচনা হবে। কমিটির সদস্য বিখ্যাত প্রসূতি ও স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. রওশন আরা বেগম। বাংলাদেশে তা কার্যকর হবে কি না সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানা যাবে আজ রাতেই। আজ সকালে অনলাইনে বাংলাদেশ হেলথ রিপোর্টার্স ফোরামের সাথে বাংলাদেশ প্রসূতি ও স্ত্রীরোগ সোসাইটি (ওজিএসবি) আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা জানান।

তিনি বলেন, বৈজ্ঞানিকভাবে বলা হচ্ছে অন্তঃসত্ত্বা ও সন্তানকে স্তনদানকারী মায়েরা টিকা নিতে পারবেন। তবে সরকার এখনো এই বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি। আজকে পরামর্শ কমিটির সভায় কমিটির একজন সদস্য হিসেবে বিষয়টি আমি উত্থাপন করবো। আশা করছি আজ রাতেই বিষয়টি পরিস্কার হবে।

এর আগে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা সম্প্রতি ভোরের কাগজকে বলেছিলেন, অন্তঃসত্ত্বা নারী ও শিশুদের বুকের দুধ পান করান এমন মায়েদের ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত তথ্য না থাকায় তারা এখন করোনার টিকা নিতে পারবেন না। আমাদের এমন সিদ্ধান্তই রয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বর্তমানের জরুরি জনস্বাস্থ্যগত পরিস্থিতিতে, বিশেষ করে করোনার নতুন নতুন ধরন মোকাবিলা করতে হলে করোনা টিকার আওতার বাইরে রাখা আমাদের দেশের বিপুলসংখ্যক অন্তসত্ত্বা ও বুকের দুধ খাওয়ানো মায়ের ও তাদের বাচ্চাদের নিরাপত্তার বিষয়টি পর্যালোচনার দাবি রাখে।

জানা যায়, টিকা আবিষ্কারক কোম্পানিগুলো, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাসহ সব দেশের ওষুধ ও টিকা নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থাগুলো মায়েদের এই পর্যায়ে টিকা না দেওয়ার জন্য সুপারিশ করেছে এবং তা বাস্তবায়ন করছে। কিন্তু পরবর্তী সময়ে এ বিষয়ক গবেষণায় নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠিত হলে অন্তঃসত্ত্বা ও স্তনদানকারী মায়েদের এবং নিরাপদ মাত্রা নির্ধারিত হওয়ার পর টিকা দেওয়ার সুপারিশও করা হচ্ছে।

বিভিন্ন করোনা টিকার পরীক্ষামূলক প্রয়োগ চলার সময় পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবকের ওপর এগুলোর পরীক্ষা হয়। সেখানে কিন্তু অন্তঃসত্ত্বা মায়েরা সংখ্যায় কম হলেও ছিলেন। তাদের বিষয়ে কোম্পানিগুলোর রিপোর্টে কিছু উল্লেখ না থাকলেও তাদের রিপোর্টে মায়েদের কোনো মারাত্মক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার কথা জানা যায়নি। কোম্পানি বলেছে, তারা আরো গবেষণা করে এদের সম্পর্কে জানাবে। কেউ কেউ সেই পরীক্ষা শুরুও করেছে। কিন্তু এতে সময় লাগবে।

যুক্তরাষ্ট্রের আমেরিকান কলেজ অব অবস্টেটরিসিয়ানস অ্যান্ড গাইনোকোলজিস্টস (এসিওজি), আমেরিকান একাডেমি অব পেডিয়াট্রিকস, একাডেমি অব ব্রেস্টফিডিং মেডিসিন, সোসাইটি ফর মেটারনাল ফিটাল মেডিসিন, এমনকি মার্কিন নীতিনির্ধারণী সংস্থা সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল এন্ড প্রিভেনশন এবং ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন পর্যন্ত এ সম্পর্কে সাবধানতাসূচক কিন্তু কোনো নেতিবাচক কথা বলেনি।

এসিওজি তাদের গত বছরের ডিসেম্বরে প্রকাশিত এবং চলতি বছরের ২৭ হালনাগাদকৃত রিপোর্টে বলেছে, অন্তসত্ত্বা কিংবা বুকের দুধ খাওয়ানো মায়েদের করোনার টিকা দেওয়া থেকে বিরত রাখা ঠিক হবে না। এই টিকা নেওয়ার আগে নারী অন্তঃসত্ত্বা কি না তা পরীক্ষা করে নিশ্চিত হবার কোনো দরকার নেই। তবে কোনো অন্তঃসত্ত্বা মা যদি এই টিকা নিতে না চান, তাহলে তার সিদ্ধান্তকে সম্মান করতে হবে।

আমেরিকান একাডেমি অব পেডিয়াট্রিকস তাদের প্রশ্নোত্তর পেজে এ বিষয়ে বলছে, যদিও যথেষ্ট তথ্য উপাত্ত নেই এবং গবেষণা চলছে, তবে অন্তঃসত্ত্বা বা বুকের দুধ খাওয়ালে করোনার টিকা নেওয়া যাবে না এমন নয়। এ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে যতটুকু গবেষণার ফল পাওয়া গেছে, তাতে বুকের দুধ খাওয়ালে বাচ্চার ক্ষতি হওয়ার কথা নয়।

মার্কিন নীতিনির্ধারণী সংস্থা সিডিসি চলতি বছরের ৭ জানুয়ারি প্রকাশিত রিপোর্টে বলেছে, সম্মুখ সারির করোনা যোদ্ধাদের মধ্যে যারা সন্তান সম্ভবা, তাদের করোনার টিকা নেওয়াই ভালো। কারণ অন্যদের তুলনায় তাদের মারাত্মক পর্যায়ের স্বাস্থ্যঝুঁকি কিছুটা বেশি। অন্তঃসত্ত্বা মায়েরা টিকা নিলে সম্ভাব্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সম্পর্কেও সিডিসি বলেছে যে এটা তাদের জন্য ভিন্ন কিছু হবে না, বরং অন্যদের মতোই দ্বিতীয় ডোজের পর হালকা জ্বর, কিছুটা ব্যথা বা ফোলার সম্ভাবনা আছে। টিকা নেওয়ার আগে অন্তঃসত্ত্বা কি না পরীক্ষা করে নিশ্চিত হবার প্রয়োজন নেই। যারা গর্ভধারণের পরিকল্পনা করছেন, তাদেরও টিকা নেওয়া থেকে বিরত থাকার প্রয়োজন নেই।

এফবি

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়