আবির মেখে ঐশ্বরিয়ার কোলে অভিষেক

আগের সংবাদ

মোবাইল চার্জে থাকলে যেসব সাবধনতা জরুরি

পরের সংবাদ

পশ্চিমবঙ্গে দফায় দফায় ভোট কেন

প্রকাশিত: মার্চ ২৯, ২০২১ , ৩:০৫ অপরাহ্ণ আপডেট: মার্চ ২৯, ২০২১ , ৩:০৫ অপরাহ্ণ

পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচন চলছে। এবারই প্রথম আট দফায় ভোটগ্রহণ হবে রাজ্যে। কিন্তু কেন আট দফায় ভোট সে নিয়ে রয়েছে আলোচনা-সমালোচনা। ২০১৬ সালে ভোটগ্রহণ পর্ব টানা ৭৭ দিন ধরে চলেছিল পশ্চিমবঙ্গে। সাত দফায় ভোটগ্রহণ হয় সেবার। কিন্তু আট দফায়, ধাপে ধাপে ভোটগ্রহণ পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনি ইতিহাসে এই প্রথম। খবর ডয়েচ ভেলে

এমন নজিরবিহীন ভোটের ঘটনা স্বাভাবিকভাবেই বিভিন্ন মহলে সৃষ্টি করছে নানা প্রশ্ন। কী কারণে এমন নির্বাচনসূচি? এর প্রভাবই বা কেমন হতে পারে?

শুধু প্রথম দফার নির্বাচনেই মোতায়েন করা হয়েছে ৭৩২ কোম্পানি সিএপিএফ বা সেন্টাল আর্মড পুলিশ ফোর্সেস সদস্য। এর আগে, ভোটারদের মধ্যে সাহস জোগাতে ও তথাকথিত ‘অশান্ত’ অঞ্চলে শান্তির আশ্বাস দিতে রাজ্যজুড়ে মোতায়েন করা হয়েছিল ১২৫ কোম্পানি কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা বাহিনী সদস্যদের। বলা হয়, শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন শেষ করতেই এই পদক্ষেপ।

পাশাপাশি, করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে বাড়ানো হয়েছে ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা, যেন স্বাস্থ্যবিধি যথাযথভাবে পালন করা যায়।

২০২০ সালের জাতীয় অপরাধ দপ্তরের প্রতিবেদন ও তৃণমূলের বিরোধী সমস্ত দলের তরফ থেকে ‘ফিডব্যাক’ নিয়েই পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় আট দফায় ভোটের সিদ্ধান্ত নেয় নির্বাচন কমিশন, বলে জানান মুখ্য নির্বাচন কমিশনার সুনীল অরোরা। এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, গুন্ডামি থেকে শুরু করে আইনহীনতা, অপরাধের বাড়বাড়ন্তের মতো ঘটনা, এমন কি রাজনৈতিক হত্যা ঘিরে তাদের কাছে বহু নালিশ জমা পড়াতেই আট দফার নির্বাচনের সিদ্ধান্ত।

এছাড়া ভোটের নির্ঘন্ট এভাবে সাজানোর পিছনে নির্বাচন কমিশন বলেছেন ধর্মীয় উৎসবের কথাও। নির্বাচনের সময়ে একই সাথে চলবে দোল ও রমজানের মতো গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় উদযাপন। এ বছর পবিত্র রমজান এপ্রিলের দ্বিতীয় সপ্তাহ শুরু হতে পারে। অথচ পশ্চিমবঙ্গের মুসলিম ভোটারদের একটা বড় অংশ যেখানে রয়েছেন, যেমন মুর্শিদাবাদ, মালদা ও দক্ষিণ দিনাজপুর, সেখানে ভোট হবে এপ্রিল ২২ থেকে, অর্থাৎ রমজান চলাকালীন সময়ে। ফলে যে রাজ্যের বাসিন্দাদের প্রায় ৩০ শতাংশ ইসলাম ধর্মাবলম্বী, সেখানে এমন ভোটের নির্ঘন্ট স্থানীয় ভোটার ও নির্বাচনকর্মীদের জন্য অস্বস্তিকর হতে পারে বলেও মনে করছেন অনেকে।

এবার ৬৬ দিন ধরে পশ্চিমবঙ্গের প্রায় সাত কোটি ৩৩ লাখ ভোটার তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করবেন। ভোটকেন্দ্র সংখ্যা মোট এক লাখ এক হাজার ৯১৬টি। কেন্দ্রের এ সংখ্যাটিও নতুন। এর আগে এতগুলো ভোটকেন্দ্র পশ্চিমবঙ্গে কখনোও স্থাপন হয়নি। সর্বশেষ অর্থাৎ, ২০১৬ সালে ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা ছিল ৭৭ হাজার ৪১৩টি। নির্বাচন কমিশনের হিসাব বলছে, এবারের নির্বাচনে প্রতি দফায় আনুমানিক ১২ হাজার ভোটকেন্দ্রে ভোট গ্রহণ হবে।

শুধু তাই নয়, এবারই প্রথমবারের মতো দু’দফায় অর্থাৎ ২৬ ও ২৯ এপ্রিলে ভোট দেবে কলকাতা। শহর কলকাতার আশেপাশের কিছু অঞ্চল, যেমন যাদবপুর, ভাঙড় ইত্যাদি দক্ষিণ ২৪ পরগণার অন্তর্গত হওয়ায় সেখানে ভোটগ্রহণ হবে ১০ এপ্রিল।

পিআর

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়