স্ত্রীর জন্মদিনে অনিল কাপুরের কোটি টাকার গাড়ি উপহার

আগের সংবাদ

পঞ্চগড়ে নদী খননের সময় কামানের গোলা উদ্ধার

পরের সংবাদ

লিটলম্যাগ চত্বর জমাতে গান-বাজনা

প্রকাশিত: মার্চ ২৭, ২০২১ , ৯:২১ অপরাহ্ণ আপডেট: মার্চ ২৭, ২০২১ , ৯:২৭ অপরাহ্ণ

প্রতিবাদের মুখে স্থানান্তর করা লিটলম্যাগ চত্বর এখনও জমে ওঠেনি। পাঠক বা বইপ্রেমিদেরও তেমন পদচারণা নেই। লিটলম্যাগের প্রকাশক সম্পাদকরা মেলা জমিয়ে তোলার চেষ্টা করছেন। এজন্য তারা সুরের মোহজাল তৈরির চেষ্টা করছেন, কেউ কেউ গিটারে সুর তুলে গান গাইছেন। কেউবা কবিতা আবৃত্তি করে মুগ্ধতা ছড়াচ্ছেন।

শনিবার (২৭ মার্চ) সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের মুক্তমঞ্চের পাশের জায়গাটিতে নতুন করে গড়ে তোলা স্টলগুলোতে এমনই চিত্র দেখা গেছে। প্রাণ ফেরেনি লেখক তৈরির ঐতিহ্যবাহী প্ল্যাটফর্ম লিটলম্যাগ চত্বরে। নেই তরুণ কবি লেখকদের পদচারণা, নেই তুমুল আড্ডাবাজি। পাঠক বা বইপ্রেমীদেরও তেমন দেখা মিলছে না। অনেকটা যেন শোকের বাড়ির মতোই মেলার এক কোণায় নিশ্চল হয়ে রয়েছে। স্টলে বিক্রয়কর্মীদের মধ্যেও নেই চঞ্চলতা। তবে এই বিষণ্ণতা ছুঁয়ে যাওয়া প্রান্তরেও হাজির হয়েছে তারুণ্যে ভরপুর লেখায় প্রায় ১৫টির অধিক নতুন লিটলম্যাগ।

গেল বছরে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের মুক্তমঞ্চের পাশে লিটলম্যাগ চত্বর স্থান পেয়েছিল। তবে এবার কোনো কারণ ছাড়াই উদ্যানের পূর্বদিকে লেখক বলছি মঞ্চের পেছনে বহেরা তলায় চত্বরটি রাখা। সেখানে সবমিলিয়ে ১৪০টি স্টল বরাদ্দ দেয়া হয়। তবে স্থান পরিবর্তনের কারণে খোলামেলা লিটলম্যাগ চত্বর হয়ে ওঠে অনেকটা ঘিঞ্জি, অন্ধকারাচ্ছন্ন। প্রকাশক ও সম্পাদকরা দাবি তোলেন লিটলম্যাগ চত্বরকে মূল মেলা থেকে বিচ্ছিন্ন করে রাখা হয়েছে।

 

এ নিয়ে লিটলম্যাগ কর্মীদের হতাশা এবং ক্ষোভ এক পর্যায়ে আন্দোলনে রূপ নেয়। লিটলম্যাগ পুনঃস্থাপনের দাবিতে তারা সব স্টল বন্ধ রাখার ঘোষণাও দেন। অবশেষে ২১ মার্চ লিটলম্যাগ চত্বর আগের জায়গায় ফেরাতে প্রদর্শনী, বিক্রিসহ সব স্টল বন্ধ রেখে প্রতিবাদী অবস্থান কর্মসূচি ও বিক্ষোভ শুরু করে। এ নিয়ে আলোচনা সমালোচনা হলে পরে কর্তৃপক্ষ দাবি মেনে নিয়ে আগের জায়গায় স্টল স্থানান্তরের ঘোষণা দেয়। এরপর গত ২৫ মার্চ থেকে দ্বিতীয় দফায় লিটলম্যাগ চত্বর পুণস্থাপিত হয়।

জানতে চাইলে সুদূর চট্টগ্রামের আনোয়ারা থানা থেকে আসা লিটল ম্যাগ ‘দেয়াঙ’ সম্পাদক মাহমুদ নোমান বললেন, বাণিজ্য করতে নয়, প্রাণের টানেই বইমেলায় অংশ নিতে চট্টগ্রাম থেকে এসেছি। এই টান সুপ্ত অনুভবের টান। অন্যান্য ব্যয় ছাড়া প্রতিদিন হোটেল ভাড়া দিতে হচ্ছে ৫০০টাকা। আনন্দের কথা হচ্ছে সবার সাথে সংযোগের সেতুটা নির্মিত হচ্ছে। মতবিনিময় হচ্ছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে আসা ‘কবির কলম’নামে লিটল ম্যাগাজিন সম্পাদক ষাটোর্ধ সরকার জাহানারা ফরিদ বলেন, স্থানান্তরের কারণে আমার কবির কলম এর জায়গাটা হারিয়ে গেছে। উপায়ান্তর না দেখে সময়চিহ্নর স্টলে বসেছি। বিক্রি নেই তারপরও এটা একটা নেশা। এই নেশায় জড়িয়ে গেছি প্রায় ৩০ বছর হলো। বইমেলায় আসার জন্য মন ছটফট করছে।

এদিকে স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উৎসবের পরদিন আজ বইমেলায় ছিল ঢিলেঢালা ভাব। বেশিরভাগ স্টল ফাঁকা। পাঠক বইপ্রেমিদের তেমন ভিড় ছিল না। বেচা বিক্রিও তেমন নেই। কারণ হিসেবে প্রকাশকরা বলছেন, বিদেশী অতিথিদের ঠেকাতে মৌলবাদী মাঠে নেমে অরাজকতা সৃষ্টি করায় অনেকেই মেলামুখি হননি। পাশাপাশি রাস্তায় যান চলাচল কিছুটা বিঘ্নিত হওয়ায় অনেকে আসতে পারেননি।

ইভূ

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়