মিতালী এক্সপ্রেসের উদ্বোধন করলেন হাসিনা-মোদি

আগের সংবাদ

বঙ্গভবনে নরেন্দ্র মোদি

পরের সংবাদ

উগ্র সাম্প্রদায়িক অপশক্তির তৎপরতায় নিন্দা বাম জোটের

প্রকাশিত: মার্চ ২৭, ২০২১ , ৭:২৯ অপরাহ্ণ আপডেট: মার্চ ২৭, ২০২১ , ৭:৩১ অপরাহ্ণ

স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীতে নরেন্দ্র মোদীর সফরকে কেন্দ্র করে স্মৃতিসৌধসহ সারাদেশ অবরুদ্ধ করা, রাষ্ট্রীয় দমন-পীড়ন ও গ্রেপ্তারের প্রতিবাদ এবং উগ্র সাম্প্রদায়িক অপশক্তির দূরভিসন্ধিমূলক তৎপরতায় নিন্দা জানিয়েছে বাম গণতান্ত্রিক জোট। শনিবার (২৭ মার্চ) বাম গণতান্ত্রিক জোটের কেন্দ্রীয় পরিচালনা পরিষদের এক সভায় এ নিন্দা জানান জোটের নেতারা।

জোটের সমন্বয়ক ও বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)’র প্রেসিডিয়াম সদস্য আব্দুল্লাহ ক্বাফী রতন ও জোটের কেন্দ্রীয় পরিচালনা পরিষদের সদস্য সিপিবি সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ শাহ আলম, বাসদ সাধারণ সম্পাদক খালেকুজ্জামান, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, বাসদ (মার্কসবাদী)’র সাধারণ সম্পাদক মুবিনুল হায়দার চৌধুরী, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি, কমিউনিস্ট লীগের সাধারণ সম্পাদক মোশাররফ হোসেন নান্নু, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির সাধারণ সম্পাদক মোশরেফা মিশু, ওয়ার্কার্স পার্টি (মার্কসবাদী)’র সাধারণ সম্পাদক ইকবাল কবির জাহিদ, সমাজতান্ত্রিক আন্দোলনের আহ্বায়ক হামিদুল হক এক বিবৃতিতে এ নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।

তারা বলেন, স্বাধীনতার রজত জয়ন্তী অনুষ্ঠানে ভারতের উগ্র সাম্প্রদায়িক আরএসএস ও বিজেপি নেতা নরেন্দ্র মোদীর বাংলাদেশ সফরকে কেন্দ্র করে জাতীয় স্মৃতিসৌধসহ সারাদেশ অবরুদ্ধ করায় এবং মোদীর সফরের প্রতিবাদকারী অসাম্প্রদায়িক গণতান্ত্রিক বামপন্থী ছাত্র-যুব সমাজ ও জনসাধারণের ওপর রাষ্ট্রীয় দমন-নির্যাতন-গ্রেপ্তার এবং সরকার দলীয় সন্ত্রাসীদের হামলার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও তীব্র নিন্দা প্রকাশ করেছেন। একইসঙ্গে এই উপমহাদেশ ঘিরে মৌলবাদী-সাম্প্রদায়িক রাজনৈতিক শক্তির অপতৎপরতায়ও গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

বিবৃতিতে নেতারা বলেন, সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে সেক্যুলার চিন্তা নিয়ে যে বাংলাদেশের সৃষ্টি সেই দেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে হিন্দুত্ববাদের শিরোমনি, গুজরাট গণহত্যার প্রধান হোতা নরেন্দ্র মোদীকে স্বাধীনতা দিবসে সম্মানিত অতিথি করায় মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, ৩০ লাখ শহীদ ও আড়াই লাখ নারীকে চরমভাবে অবমাননা করা হয়েছে। দেশের বিবেকবান মানুষ, ছাত্র-যুব সমাজ ও প্রগতিশীল-গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক শক্তি প্রথম থেকেই এই সফরের বিরোধিতা করে তা বাতিলের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিল । কিন্তু সরকার তা না করে উল্টো জনগণের প্রতিবাদী কন্ঠস্বর দমন করতে সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ করে কার্যত সারাদেশের মানুষকে অবরুদ্ধ করে রেখেছে। যারাই প্রতিবাদ করছে সেই বাম-প্রগতিশীল রাজনৈতিক শক্তি, ছাত্র-যুব সমাজসহ সকলের ওপর রাষ্ট্রীয়ভাবে চরম দমন-নির্যাতন ও গ্রেপ্তার অব্যাহত রেখেছে। যা রাষ্ট্রের স্বৈরাচারী ও ফ্যাসিবাদী চরিত্রের বহিঃপ্রকাশ মাত্র।

তারা আরো বলেন, সরকারের এমন ন্যাক্কারজনক তাবেদারি ও গণবিরোধী ফ্যাসিস্ট পদক্ষেপের পটভূমিতে এ দেশের উগ্র সাম্প্রদায়িক অপশক্তি তাদের দুরভিসন্ধিমূলক তৎপরতায় নেমে পড়েছে। এসব শক্তিকে সরকার আসকারা ও মদদ দিয়ে মাথায় তোলার আত্মঘাতী পথ অনুসরণ করছে। তাদেরকে আদর্শিক, সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করার বদলে দমন-পীড়ন চালিয়ে সরকার প্রকারান্তরে তাদের তৎপরতাকে জনপ্রিয় করার ক্ষেত্রে ইন্ধন জোগাচ্ছে।

বিবৃতিতে নেতারা আরো বলেন, স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী সকল মানুষের অংশগ্রহণে স্বতঃস্ফূর্তভাবে পালিত হওয়ার কথা, কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিরোধী সাম্প্রদায়িক নরেন্দ্র মোদীকে বাংলাদেশে আমন্ত্রণ করে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীকে যেমন কালিমালিপ্ত করা হয়েছে, তেমনি দেশের মানুষকেও অংশগ্রহণ থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে।

নেতৃবৃন্দ ভারতের উগ্র সাম্প্রদায়িক রাজনৈতিক শক্তি বিজেপি ও আরএসএস নেতা নরেন্দ্র মোদীকে তাদের দেশের হীন নির্বাচনী এজেন্ডা বাস্তবায়নে বাংলাদেশকে ব্যাবহার করারও কঠোর সমালোচনা করেন। নেতারা প্রতিবাদী মানুষের ওপর রাষ্ট্রীয় ও সরকার দলীয় দমন-নির্যাতন বন্ধ ও গ্রেপ্তারকৃতদের অবিলম্বে মুক্তির দাবি জানান।

ইভূ

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়