বাংলাদেশের স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছর

আগের সংবাদ

স্মৃতিসৌধে ও বঙ্গবন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধা ভারতের প্রধানমন্ত্রীর

পরের সংবাদ

বাংলাদেশের কষ্টার্জিত সাফল্য কোনো ‘মিরাকল’ নয়

প্রকাশিত: মার্চ ২৬, ২০২১ , ১২:৩৭ অপরাহ্ণ আপডেট: মার্চ ২৬, ২০২১ , ১২:৩৭ অপরাহ্ণ

বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়ে গেছে। একই সঙ্গে চলছে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকীর উৎসবমালা। যদিও করোনা সংকট আমাদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক জীবনচলায় নানামাত্রিক প্রতিবন্ধকতা তৈরি করেই চলেছে। তা সত্ত্বেও বঙ্গবন্ধু-অন্তপ্রাণ বাঙালির উৎসাহের কোনো কমতি নেই। দশ দিন ধরে রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানের পাশাপাশি সারাদেশের সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো এ দুটো অনুষ্ঠানই সোৎসাহে উদযাপন করছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্মশতবার্ষিকী। সামনের পয়লা জুলাই থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আনুষ্ঠানিকভাবে শতবর্ষে পা দেবে। তবে এই মাইলস্টোন ঘিরে নানা ধরনের অনুষ্ঠান ইতোমধ্যেই উদযাপিত হতে শুরু করেছে। আমাদের জাতির পিতা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুকন্যাও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী। তাই তিনটি স্রোত এ বছর এক মোহনায় মিলিত হয়ে এক অসাধারণ আবহ সৃষ্টি করেছে। এমন মাহেন্দ্রক্ষণে বাংলাদেশের অসামান্য অর্জন নিয়ে দেশে-বিদেশে কথা হবে সেটিই তো স্বাভাবিক। দক্ষিণ এশিয়ার সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধানরা এরই মধ্যে বাংলাদেশ সফর করে গেছেন এবং এখনো করছেন। তারা সবাই বঙ্গবন্ধুর দূরদর্শী নেতৃত্ব এবং বঙ্গবন্ধুকন্যার বিচক্ষণ নেতৃত্বের পরম্পরার বিপুল প্রশংসা করেছেন। চলমান মহামারি সত্ত্বেও বাংলাদেশ অর্থনৈতিক উন্নয়নে বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিতে পেরেছে সে কথা বলতেও তারা ভোলেননি। তাছাড়া বিশ্বখ্যাত গণমাধ্যমগুলোও বাংলাদেশের অসামান্য অর্জনের কথা তুলে ধরতে কার্পণ্য করছে না। কেউ কেউ অবশ্য ছাই-ভস্ম থেকে উঠে দাঁড়ানো এই মাথা উঁচু করা বাংলাদেশকে ‘মিরাকল’ বলতে চাইছেন। আমি তাদের প্রতি সম্মান রেখেই বলছি, বাংলাদেশের এই সাফল্যের গল্প মোটেও ‘মিরাকল’ বা ‘সারপ্রাইজ’ নয়। এটা তার কষ্টার্জিত প্রাপ্য সাফল্য। খনি শ্রমিকের মতো ইঞ্চি ইঞ্চি করে এই অসামান্য অর্জনের দিকে এগিয়েছে লড়াকু বাংলাদেশ। এমন করে এগিয়ে যাওয়ার দীক্ষা সে পেয়েছে জাতির পিতার কাছ থেকেই। তিনিই আমাদের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে দৃঢ়চিত্তে এগিয়ে যাওয়ার লড়াকু মন উপহার দিয়ে গেছেন।
কল্পনা করুন, ১৯৭২ সালের মুক্তিযুদ্ধোত্তর বাংলাদেশের চেহারাটা। সত্যি সত্যি সেদিনের বাংলাদেশ ছিল একটি ধ্বংসস্তূপ। বছরের শুরুতে আমাদের মোট অর্থনীতির আকার মাত্র ৬ দশমিক ৩ মার্কিন ডলার। মাথাপিছু আয় ৯৩ ডলার। সঞ্চয় জিডিপির ৩ শতাংশ। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শূন্য। নেই কোনো প্রতিষ্ঠান। প্রাদেশিক অফিসগুলোকে নতুন করে স্বাধীন দেশের উপযোগী করে গড়তে হয়েছে। ছিল না কেন্দ্রীয় ব্যাংক। নতুন করে গড়তে হয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ব্যাংকগুলোকেও জাতীয়করণ করে নতুন নামে দাঁড় করাতে হয়েছে। ব্যাংক নোটও ছিল না। শুরুতে পাকিস্তানি নোটই চলেছে। এরপর ভারত থেকে কিছু নোট ছেপে আনা হয়। অল্প সময়ের মধ্যে যুক্তরাজ্য থেকে উপযুক্ত নিরাপত্তা প্রতীকসহ বাংলাদেশের নোট ছাপা হয়। রাস্তাঘাট, রেল, বন্দর, সেতু, ফেরি সব ধ্বংসপ্রাপ্ত। আবার এগুলো মেরামত করে শুরু মোটেও সহজ কাজ ছিল না। তরুণদের প্রত্যাশা আকাশচুম্বী। তাদের মনে হতাশা ছড়ানোর মানুষের অভাব ছিল না। এমন কি বর্ষীয়ান অনেক পোড় খাওয়া নেতাও বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশকে পুনর্বাসন ও পুনর্নির্মাণের চ্যালেঞ্জিং কাজকে সর্বক্ষণ সমালোচনার চোখে দেখেছেন। দলছুট একদল অতিবিপ্লবী নিরন্তর সমালোচনার ঢেউ তুলে তরুণদের মন বিষিয়ে দিচ্ছিলেন। তাদের মুখপাত্র সদ্য স্বাধীন দেশটি পরিচালনার চ্যালেঞ্জের কথা না বলে নিরন্তর সমালোচনার মাধ্যমে অশান্তির বন্যা বইয়ে দিচ্ছিল। স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি অশান্ত এই তরুণদের মন আরো বিষাক্ত করার নানা ফন্দি আঁটছিল। সামাজিক বিশৃঙ্খলা, জাতীয় সম্পদে আগুন দেয়া, যখন তখন অস্ত্রের ব্যবহার, দুর্নীতিবাজদের বাড়াবাড়ি, ঘরের শত্রু বিভীষণদের চতুর্মুখী ষড়যন্ত্র এক হাতে মোকাবিলা করেই এগোচ্ছিলেন বঙ্গবন্ধু। এরই মধ্যে মাত্র ৯ মাসের মাথায় একটি আধুনিক গণমুখী উন্নয়ন-বান্ধব সংবিধান উপহার দেন তিনি। পাশাপাশি চলে এক কোটি শরণার্থীর পুনর্বাসন। দেশের ভেতরে বাস্তুচ্যুতদের পুনর্বাসন ছাড়াও এক লাখ কৃষকের সার্টিফিকেট মামলা প্রত্যাহার করে নেন। ২৫ বিঘা পর্যন্ত জমির খাজনা মাফ করে দেন। কৃষিকে আধুনিক করার জন্য উন্নত বীজ ও সেচ ব্যবস্থা চালু করেন। পাকিস্তানি উদ্যোক্তাদের ফেলে যাওয়া মিল-কারখানা রাষ্ট্রীয় মালিকানায় এনে সেসব পুনরায় চালু করেন। ১৯৭৪-৭৫-এর দিকে ব্যক্তি খাতে বিনিয়োগ সীমা ২৫ লাখ থেকে ৩ কোটি টাকায় উন্নীত করেন। প্রাকৃতিক দুর্যোগ লেগেই ছিল। যুক্তরাষ্ট্র খাদ্য সাহায্যের নামে অন্যায় কূটনৈতিক চাপ দিচ্ছিল। হঠাৎ করে তেলের দাম চারগুণ বেড়ে যায়। গমের দাম বাড়ে তিন গুণ। খাদ্য উৎপাদনে জোর দিয়েও পরিস্থিতি সামলানো বেশ কঠিনই ছিল। এরই মধ্যে সারাদেশে রেশনিং ব্যবস্থা চালু করেন। অসহায় ও নির্যাতিত মা-বোনদের পুনর্বাসন, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের পুনর্বাসনসহ কত উদ্যোগই না তিনি অতি অল্প সময়ে নিয়েছিলেন। কিন্তু হাতে তো অর্থ ছিল না। বন্ধু দেশের সহায়তা এবং নিজস্ব সম্পদ দিয়ে যদ্দুর পারা যায় দেশটাকে সামনের দিকে টেনে নিয়ে যাচ্ছিলেন বঙ্গবন্ধু।
বাহাত্তর সালে মাত্র ৭৮৬ কোটি টাকার বাজেট দিতে পেরেছিল বঙ্গবন্ধুর সরকার। সেখান থেকে স্বদেশ কতটা এগিয়েছে তার প্রমাণ মেলে ২০২০-২১ সালের ৫ লাখ ৬৮ হাজার কোটি টাকার বাজেটের দিকে তাকালেই। বাহাত্তরে দারিদ্র্যের হার ছিল ৮০ শতাংশের মতো। এখন ২০.৫ শতাংশ। তখন জীবনের গড় আয়ু ছিল ৪৭ বছর। এখন ৭৩ বছর। একটি দম্পতির সন্তান সংখ্যা ছিল ৬ থেকে ৭। এখন সেই সংখ্যা দুইয়ের মতো। এই পরিবর্তন এমনি এমনি ঘটেনি। নেতৃত্বের গুণপনার কথা অস্বীকারের কোনো উপায় নেই। মুক্তিযুদ্ধোত্তর সেই চ্যালেঞ্জিং সময়ে বঙ্গবন্ধু তাঁর সুদূরপ্রসারী রাষ্ট্রনায়কোচিত নেতৃত্বের গুণে ছাই-ভস্ম থেকে বাংলাদেশকে উন্নয়নের মহাসড়কে তুলে আনেন। তিনি মনে করতেন, ‘এই স্বাধীনতা তখনই আমার কাছে প্রকৃত স্বাধীনতা হয়ে উঠবে যেদিন বাংলাদেশের কৃষক-মজুর ও দুঃখী মানুষের সব দুঃখের অবসান হবে। …আমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে আরও শক্তিশালী শত্রু। এই শত্রু হলো অভাব, দারিদ্র্য, ক্ষুধা, রোগ, অশিক্ষা, বেকারি ও দুর্নীতি। … এই যুদ্ধে জয় সহজ নয়। অবিরাম এই যুদ্ধ চালিয়ে যেতে হবে এবং একটি সুখী, সুন্দর অভাবমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে। তবেই আমাদের সংগ্রাম সফল। আপনাদের শেখ মুজিবের স্বপ্ন ও স্বাধনার সমাপ্তি।’ (উদ্ধৃত : শেখ হাসিনা ও কবি মওদুদ সম্পাদিত ‘বাংলা আমার-আমি বাংলার’ গ্রন্থ থেকে)। এই স্বপ্ন ও সাধ পূরণে তিনি নিরন্তর কাজ করে গেছেন। মাত্র সাড়ে তিন বছরেই তিনি ৯৩ ডলার মাথাপিছু আয়কে ২৭৩ ডলারে উন্নীত করেছিলেন। অথচ বঙ্গবন্ধুবিহীন বাংলাদেশে ১৯৭৬ সালেই মাথাপিছু আয় ১৩৮ ডলারে পড়ে গিয়েছিল। এর পরের বছর ১২৮ ডলার। দীর্ঘ ১৩ বছর লেগেছিল বঙ্গবন্ধুর রেখে যাওয়া মাথাপিছু আয়ের ধারে কাছে যেতে। ১৯৮৮ সালে তা ২৭১ ডলারে উঠে এসেছিল। নেতৃত্ব যে কত গুরুত্বপূর্ণ এই পরিসংখ্যান থেকে অনুমান করা যায়।
তিনটি সুদূরমুখী নীতির ওপর বঙ্গবন্ধু জোর দিয়েছিলেন। এক, সামাজিক সচেতনতা ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বাড়িয়ে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার দ্রুত কমিয়ে আনা; দুই, গবেষণা ও উন্নয়নে সমর্থন দিয়ে কৃষি উৎপাদন বাড়িয়ে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের চেষ্টা নিরন্তর চালিয়ে যাওয়া; এবং তিন, সরকারি অর্থে দেশের প্রতিটি কোণে প্রাথমিক শিক্ষার আলো জ্বালিয়ে দেয়া। এছাড়াও তিনি মানুষের জীবনচলার সুবিধার জন্য স্বাস্থ্য, শিক্ষা, আবাসনসহ মৌলিক চাহিদা পূরণের অঙ্গীকার করেন সংবিধানে। সেই অঙ্গীকার পূরণে প্রথম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা প্রণয়ন করেন। আর পানি ব্যবস্থাপনা, বিদ্যুৎ সরবরাহ, জনপ্রশাসনকে দক্ষ করা এবং পরিবেশ উন্নয়নসহ নানামাত্রিক নীতি-উদ্যোগ গ্রহণ করেন। ফলে দারিদ্র্যের হার কমতে শুরু করে। কিন্তু আমাদের দুর্ভাগ্য, হঠাৎ করেই তাঁকে শারীরিকভাবে বিচ্ছিন্ন করে ফেলা হয় তার প্রিয় স্বদেশবাসীদের কাছ থেকে। এরপর স্বদেশ চলতে থাকে উল্টো পথে। অন্ধকারের পানে। অনেক ত্যাগ ও সংগ্রামের পর বঙ্গবন্ধু কন্যার হাত ধরে ১৯৯৬ সালে মুক্তিযুদ্ধের পথে ফিরে এলেও তা স্থায়ী হয়নি। ফের ছন্দপতন ২০০১ সালে। আবার সংগ্রাম। আবার রক্তক্ষয়। ‘দিন বদলের সনদ’ হাতে নিয়ে ফের ২০০৯ সালে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পান বঙ্গবন্ধুকন্যা। এরপর বঙ্গবন্ধুর দেখানো পথেই হাঁটছে বাংলাদেশ। বঙ্গবন্ধুকন্যা সুদূরপ্রসারী জনবান্ধবনীতি গ্রহণ করছেন একের পর এক। সেখানে অর্থনৈতিক উদারিকরণ দরকার সেখানেই সংস্কার করেছেন। আর ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ গড়ার অভিপ্রায়ে প্রশাসন ও অর্থায়নের ধারাকে করে ফেলেছেন ডিজিটাল। ভয়ঙ্কর করোনাকালেও সাহসের সঙ্গে মহামারি মোকাবিলা করে ‘জীবন ও জীবিকা’ সংরক্ষণ করে চলেছেন। কৃষি, প্রবাসী আয় এবং রপ্তানি খাতের মতো প্রবৃদ্ধির চালকগুলো সক্রিয় রেখেছেন এক লাখ পঁচিশ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা দিয়ে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকিংকে উন্নয়নমুখী করে রেখেছেন অবকাঠামো উন্নয়ন ও সব পর্যায়ের উদ্যোক্তাদের সহায়তা দেবার লক্ষ্যে। বিশেষ করে ডিজিটাল প্রশাসনিক ও আর্থিক সেবা দেশের আনাচে কানাচে পৌঁছে গেছে তাঁর এই সুদূরপ্রসারী প্রযুক্তিপ্রীতির কল্যাণে। দীর্ঘ বারো বছর ধরে একটানা দেশ পরিচালনার কারণে পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্রবন্দর, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে এবং বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলো এখন দৃশ্যমান হয়ে উঠেছে। এগুলো চালু হলে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে কী ধরনের দিনবদল ঘটবে তা অনেকে কল্পনাও করতে পারছেন না। এসবই সম্ভব হচ্ছে নেতৃত্বের গুণেই। যে পাটাতন গড়ে দিয়ে গিয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু তারই ওপর সমৃদ্ধ বাংলাদেশের উপরিকাঠামো গড়ে চলেছেন তাঁর কন্যা। নেতৃত্বের এই পরম্পরার কারণে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে যেসব পরিবর্তন এসেছে সেসবের কয়েকটিমাত্র উল্লেখ করছি।
বাহাত্তরের ৯৩ ডলার মাথাপিছু আয় এখন দুহাজার ডলারের বেশি। ওই সময়ের ৬.৩ বিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির আকার এখন ৩৩০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি। ১৯৭৫-এর পর মোট যে প্রবৃদ্ধি হয়েছে তার ৭৩ শতাংশই হয়েছে বিগত ১২ বছরে। এ সময়ে রপ্তানি বেড়েছে ১৩৩ গুণ। প্রবাসী আয় বেড়েছে ২৮৫ গুণ। এমডিজি পূরণ ছাড়াও সামাজিক ও মানবউন্নয়ন ঘটেছে অভাবনীয় হারে। গত বারো বছরে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়েছে ৭ গুণ। পঞ্চাশ বছরে চালের উৎপাদন বেড়েছে চারগুণ। সব খাদ্য উৎপাদন মিলে বেড়েছে ছয়গুণ। এখন ৩৬% নারী অনুষ্ঠানিক কর্মসংস্থানে নিয়োজিত। জিডিপির ৩৬% আসছে শিল্প খাত থেকে। বিদেশি গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও গণমাধ্যম তাই বাংলাদেশের অগ্রগতির উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করে চলেছে। পুলিৎজার পুরস্কারপ্রাপ্ত সাংবাদিক নিকোলাস ক্রিস্টফ মনে করেন দারিদ্র্য কি করে নিরসন করা যায় বাইডেন প্রশাসন ও পুরো বিশ্ব তা বাংলাদেশের কাছ থেকে শিখতে পারে। ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল বলেছে বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে গতিময় ‘রানিং বুল কেইস’। ব্রিটিশ গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর ইকোনমিকস এন্ড বিজনেস রিসার্চ মনে করে, ২০৩২ সালে বাংলাদেশ বিশে^র ২৫টি বৃহৎ অর্থনীতির একটি দেশে পরিণত হবে। আগামী পনের বছর ধরেই দেশটির প্রবৃদ্ধির হার ৭ শতাংশের বেশি থাকবে। স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশের সুপারিশ পাওয়া বাংলাদেশ যদি এই তালে চলতে পারে তাহলে ২০৪১ সালের আগেই উন্নত দেশের খাতায় যে নাম লেখাতে সক্ষম হবে তা এখনই বলা যায়। তবে উন্নয়নের বাড়ন্ত এই ধারা ধরে রাখতে হলে উদ্ভাবনীমূলক নীতিমালা গ্রহণে সদাই তৎপর থাকতে হবে বাংলাদেশকে। আমলাতান্ত্রিক মন্থরতা কাটিয়ে নিয়মনীতি সহজ করে যেতে হবে যাতে উদ্যোক্তারা ও জনগণ দ্রুত কাক্সিক্ষত সেবা পান। বিচার ব্যবস্থাকে আরো চনমনে হতে হবে। আইনের শাসন জোরদার করতে হবে। রাস্তাঘাটে পরিবহন বিশৃঙ্খলা কমাতে হবে। রাজস্ব আয় বাড়িয়ে দ্বিগুণ করতে হবে। শিক্ষা ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আনতে হবে। আগামীর পৃথিবী হবে সবুজ। তাই পরিবেশের প্রতি অবহেলা এখনই বন্ধ করতে হবে। জলবায়ু-বান্ধব সবুজ প্রবৃদ্ধির জন্য সবুজ বিদ্যুৎ, অবকাঠামো ও জনসচেতনতা নিশ্চিত করার জন্য যা করা দরকার তাই করতে হবে। নিঃসন্দেহে বাংলাদেশের উন্নয়নের গল্পের সবে মাত্র শুরু। তাই এখনই অবাক না হয়ে অপেক্ষা করুন আগামীর পরিবর্তনের জন্য। এই সাফল্যের গল্প একান্তই আমাদের। ব্যক্তি, সরকারি, বেসরকারি খাতের তথা পুরো জাতির। উন্নয়নের এই অভিযাত্রা অব্যাহত থাকুক।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়