র‌্যাবের নতুন মুখপাত্র কমান্ডার মঈন

আগের সংবাদ

বাউফলে আওয়ামী লীগ নেতাদের হত্যা চেষ্টা মামলায় ২৪ আসামি জেলে

পরের সংবাদ

আ. লীগের শাসনামলে সংখ্যালঘু নির্যাতন বেড়েছে: বিএনপি

প্রকাশিত: মার্চ ২৫, ২০২১ , ৪:২৯ অপরাহ্ণ আপডেট: মার্চ ২৫, ২০২১ , ৪:৪৯ অপরাহ্ণ

আওয়ামী লীগের শাসনামলে নির্যাতনের মাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ায় সংখ্যালঘুরা ভারতে চলে যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে বিএনপি। দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকার পরও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষের ভারতে চলে যাওয়ার কারণ হলো, এই সময়ে তাদের ওপর নির্যাতনের পরিমাণ আরো বেশি করে বেড়ে গেছে। এর লক্ষ্যই হচ্ছে- তাদের সম্পত্তি দখল করা, তাদের বিভিন্ন রকমের সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ করা এবং মালামাল লুট করা।

বৃহস্পতিবার (২৫ মার্চ) দুপুরে গুলশানে দলীয় চেয়ারপারসেনর গুলশান কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি মহাসচিব এই অভিযোগ করেন। এ সময় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স ও নির্বাহী কমিটির সদস্য নিপুণ রায় চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।

ফখরুল বলেন, আওয়ামী লীগে মুখে বলে যে, তারা হচ্ছে আপনারা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষা করতে চান, সংখ্যালঘুদের স্বার্থ তারা রক্ষা করতে চান। কিন্তু এখন পর্যন্ত শত্রু সম্পত্তি আইন তারা বাতিল করেনি, তাদের যে ন্যায্য অধিকারগুলো রয়েছে তা দেয়নি। এ সময় পাকিস্তান আমলে তৈরি শত্রু সম্পত্তি আইন কেন সরকার বাতিল করছে না তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেন বিএনপি মহাসচিব।

সুনামগঞ্জের শাল্লায় উপজেলায় নোয়াগাঁও গ্রামে সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার সাম্প্রতিক ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, বছর দুয়েক আগে ঠাকুরগাঁওয়ে একজন প্রভাবশালী এমপি তিনি কয়েকশ’ জমি দখল করেছিলেন। সেটার বিরুদ্ধে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষের মিছিল করেছে, মানববন্ধন করেছে কিন্তু কোনো সুরাহা বা সমাধান পায়নি। ফরিদপুরেও একই রকম ঘটনা।

এবারে দেখেন, বিভিন্ন গণমাধ্যমে এসেছে শাল্লার ঘটনার নেতৃত্বে দিচ্ছে যুব লীগের নেতা। অথচ ওবায়দুল কাদের সাহেব বলছেন, এখানে বিএনপি নেতৃত্ব দিয়েছে। বিএনপির নাম গন্ধ নেই এখানে। মানুষকে বিভ্রান্ত করা, ভুল পথে নিয়ে যাওয়াই আওয়ামী লীগের লক্ষ্য।

আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই, আওয়ামী লীগ কখনোই সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের পক্ষের শক্তি ছিলো না। এদেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির পক্ষে তারা কখনোই ছিলো না। তারা যেমন সন্ত্রাসী কায়দায় ক্ষমতায় টিকে আছে ঠিক একই কায়দায় সংখ্যালঘুদের সম্পত্তিও দখল করেছে।

সংবাদ সম্মেলনে শাল্লায় ঘটনা সরেজমিনে পরিদর্শন করে আসা বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, সম্প্রতি শাল্লা উপজেলায় হিন্দু অধ্যুষিত নোয়াগাও গ্রামে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে হিন্দুদের বাড়ি, মন্দিরে উপাসনালয়ে ব্যাপক ভাঙচুর, লুটপাট ও নারকীয় ধ্বংসযোগ্য চালানো হয়। আমরা সরেজমিনে ক্ষতিগ্রস্থ ভুক্তভোগীদের বাড়ি ঘরে, উপাসনালয়ে অবর্ণনীয় ধ্বংস লীলা দেখতে পেয়েছি।

ক্ষতিগ্রস্থরা ভীত সন্ত্রস্ত অবস্থায় অকপটে বলেছেন, ঘটনার দিন মাইকে প্রচার করে ঘটনার সময় স্থানীয় যুবলীগ নেতা স্বাধীন মিয়ার নেতৃত্বে তার অনুসারী শত শত মানুষ ওই গ্রামে উপস্থিত হয়ে প্রায় ৬০/৭০টি বাড়ি ঘরের সমস্ত মালামাল ও আসবাবপত্র লুটপাট করতে থাকে, বাড়ি ঘরের জানালা, দরজা, বেড়া কুপিয়ে ছিন্ন বিচ্ছিন্ন করে, নারী-পুরুষ ও শিশুদের মারধর করে।

শিশু বাচ্চাদের নিয়ে বাথরুমে প্রাণ ভয়ে পালিয়ে থাকা নারীদের বের করে এনে লাঞ্ছিত করে। আওয়ামী যুব লীগের সন্ত্রাসী বাহিনী হিন্দুদের বাড়িঘর, মন্দির উপাসনালয়ে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। প্রশাসনের গাফিলতি ও ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের প্রচ্ছন্ন মদদে শাল্লার নোয়াগাঁ গ্রামে ন্যাক্কারজনক এই ঘটনা ঘটেছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, ঘটনা ঘটার পরও স্থানীয় প্রশাসন তাৎক্ষণিক কোনো ব্যবস্থা নেয় নি। পরে ব্যাপক সমালোচনার মুখে দুটি মামলা দায়ের করা হয়। সেই মামলার প্রধান আসামি স্থানীয় যুবলীগ সভাপতি স্বাধীন মিয়া। অন্য আসামিরাও ক্ষমতাসীন দলের। এ পর্যন্ত ২৫ জনকে আটক করা হয়েছে, তাদের অধিকাংশই ক্ষমতাসীন দলের সমর্থক।

আমরা সুনামগঞ্জের শাল্লায় হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর ন্যাক্কারজনক নির্মম এই ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত সকলের গ্রেপ্তার ও শাস্তি দাবি করছি। এই ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্থ ঘর বাড়ি, মন্দির, উপাসনালয় পুনঃনির্মাণ ও পুনর্বাসনে সরকারকে সর্বাত্মকভাবে এগিয়ে আসার এবং ওই এলাকাসহ হিন্দু সম্প্রদায় অধ্যুষিত অন্যান্য এলাকায় সার্বিক নিরাপত্তা বিধান করতে প্রশাসনের প্রতি আহবান জানাচ্ছি।

এসআর

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়