সুবর্ণজয়ন্তীর চতুর্থ দিনের থিম ‘তারুণ্যের আলোক শিখা’

আগের সংবাদ

ফক্স বাটারফিল্ডের ‘শেখ মুজিবের বাড়ি ফেরা’

পরের সংবাদ

সুনামগঞ্জে হিন্দুদের ওপর হামলা

প্রতিটি অপরাধের বিচার হোক

প্রকাশিত: মার্চ ২০, ২০২১ , ১২:১৪ পূর্বাহ্ণ আপডেট: মার্চ ২০, ২০২১ , ১২:১৫ পূর্বাহ্ণ

ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্রে করে দেশে সাম্প্রদায়িক হামলার ঘটনা নতুন নয়। গত বুধবার সুনামগঞ্জের শাল্লার একটি গ্রামে হেফাজতে ইসলামের নেতা মামুনুলের অনুসারীরা হিন্দু সম্প্রদায়ের ৬০-৭০টি বাড়িঘর, কয়েকটি মন্দির ভাঙচুর এবং লুট করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ২০১২ সালে কক্সবাজারের রামুতে বৌদ্ধদের বাড়িঘর ও বৌদ্ধবিহারে ভয়াবহ হামলার ঘটনা ঘটে। ২০১৬ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর হামলা চালানো হয়। উভয় ক্ষেত্রেই ফেসবুকে দেয়া পোস্টে ধর্মীয় অবমাননা করা হয়েছে বলে অভিযোগ আনা হয়। ঘটনাগুলো দুঃখজনক ও বেদনাদায়ক। আমরা বলি আমাদের দেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। কিন্তু ইদানীংকালে অসহিষ্ণুতা ও অধৈর্যের যে প্রকাশ প্রায়ই দেখা যাচ্ছে, তা কোনোভাবেই প্রত্যাশিত নয়। জানা গেছে, বুধবার সকালে হামলার দুদিন আগে সোমবার হেফাজত নেতা জুনায়েদ বাবুনগরী ও মামুনুল হক শাল্লার পাশের উপজেলায় দিরাইতে একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠানে বক্তৃতা দেন। শাল্লার নোয়াগাঁও গ্রামের ঝুমন দাস নামে এক হিন্দু যুবক তখন মামুনুল হকের সমালোচনা করে একটি ফেসবুক পোস্ট দেন। তার জেরে মঙ্গলবার রাত ৮টার দিকে পাশের কাশিপুরসহ আরো কয়েকটি গ্রামের হেফাজত সমর্থকরা প্রথমে হিন্দু পল্লী নোয়াগাঁও আক্রমণ করতে আসে। কিন্তু ওই যুবককে তখন স্থানীয় হিন্দু নেতারা ধরে পুলিশে দেন এবং উত্তেজিত হেফাজত সমর্থকদের নিবৃত করতে সমর্থ হন। তারা হামলা না করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে চলে যান। কিন্তু বুধবার সকালে মাইকে ঘোষণা দিয়ে কয়েক হাজার লোক হামলা চালায়। ঝুমন দাস যদি ধর্মীয় অবমাননাকর পোস্ট দিয়ে থাকেন তার অপরাধের শাস্তি আইন অনুযায়ী হবে, এটাই স্বাভাবিক। এ জন্য একটি ধর্মীয় সম্প্রদায়ের ওপর কোনো যুক্তিতেই হামলা হতে পারে না। আমরা লক্ষ করছি, ইসলামের অবমাননা করা হয়েছে- এই জিকির তুলে স্বার্থান্ধ সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী মাঝে মাঝেই ধর্মপ্রাণ নিরীহ মানুষকে এমনভাবে উত্তেজিত করছে যে, তারাও হয়ে পড়ছে উন্মত্ত। সত্যি সত্যি ধর্মের অবমাননা হচ্ছে কিনা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে না অথবা হলেও প্রকৃত অপরাধীর পরিবর্তে টার্গেট হয়ে পড়ছে সামগ্রিকভাবে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়। এ প্রবণতা বিপজ্জনক। ফেসবুকের পোস্টকে কেন্দ্র করে যখন সুনামগঞ্জে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির উদ্ভব হয়, তখনই প্রশাসনের আগাম নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেয়া উচিত ছিল। কিন্তু তা করা হয়নি। আক্রান্তরা বলছেন, পুলিশকে আগে হামলার আশঙ্কার কথা জানানো হলেও তারা কোনো নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নেয়নি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণেও প্রশাসন চরম ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। সংখ্যালঘুদের ওপর এ রকম আক্রমণ জাতীয় সংহতির ওপর বিরাট আঘাত। এই হামলার ফলে বাংলাদেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায় আরো নিরাপত্তাহীনতায় ভুগবে। এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করতে না পারলে বাংলাদেশে মিলেমিশে বসবাসের যে সংস্কৃতি তা বাধাগ্রস্ত হবে এবং মানুষের জীবনযাপনের স্বাভাবিকতা হারাবে। দেশের বিভিন্ন স্থানে হওয়া সাম্প্রদায়িক হামলার ঘটনার বিচার না হওয়ায় প্রতিনিয়ত এ ধরনের ঘটনা ঘটছে। রামুর হামলার ঘটনার এখনো বিচার হয়নি। বিচার হয় না বলে এখন অনেকে বিচার চান না। সুনামগঞ্জের হামলার ঘটনায় ২২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে জেনেছি। আমরা চাই, দেশে ঘটা প্রতিটি সাম্প্রদায়িক হামলার বিচার হোক। হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনতে হবে। সঙ্গে সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িঘর পুনর্নির্মাণ-মেরামত করাসহ ক্ষতিগ্রস্তদের ন্যায়সঙ্গত ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করাও জরুরি।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়