জুড়ীর ফুলতলা সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত

আগের সংবাদ

সুবর্ণজয়ন্তীতে বিশৃঙ্খলা করলে সমুচিত জবাব: কাদের

পরের সংবাদ

নদী পারাপারে ভরসা দড়ি টানা নৌকা

প্রকাশিত: মার্চ ২০, ২০২১ , ২:৪৯ অপরাহ্ণ আপডেট: মার্চ ২০, ২০২১ , ২:৪৯ অপরাহ্ণ

এপারে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সদর উপজেলার বরিশল গ্রাম। ওপারে আখাউড়া উপজেলার ধরখার ইউনিয়নের কৃষ্ণনগর গ্রাম। দুই গ্রামের বুক চিড়ে বয়ে গেছে ছোট্ট তিতাস নদী। এপারের বরিশল গ্রামে পাকাসড়কসহ সবধরনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থাকলেও একেবারে বিপরীত চিত্র নদীর ওপারের কৃষ্ণনগর গ্রামে। পাকা রাস্তা তো অনেক দূরের কথা গ্রামে যাওয়ার জন্য কোনো মেঠো পথও নেই। ভরসা একমাত্র দড়ি টানা নৌকা।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নদীর দুই তীরে বাঁশের সাথে শক্ত করে বাধা আছে একটি প্লাস্ট্রিকের দড়ি। নদীর উপর সেতু না থাকায় গ্রামের মানুষ ঝুঁকি নিয়ে দড়ি টানা নৌকা দিয়ে নদী পারাপার হচ্ছে। গ্রামে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান না থাকায় শিক্ষার্থীদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দূর গ্রামে গিয়ে পড়াশোনা করতে হয়। কৃষকরা তাদের পন্য সঠিক সময়ে বাজারে নিতে না পারায় ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। অথচ নদীর উপর একটি সেতু নির্মাণ হলে বদলে যেত কৃষ্ণনগর গ্রামের চিত্র।

আহামেদ হোসেন নামের এক যুবক জানায়, সারাবছরই আমরা পানিবন্দী থাকি। আমাদের গ্রামে আসা-যাওয়ার কোনো রাস্তা নেই। তাই নৌকা দিয়ে নদী পারাপার হতে হয়। যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো না হওয়ায় গ্রামে আজ পর্যন্ত কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেনি। তাই এ গ্রামের শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার জন্য পাশের গ্রামে যেতে হয়। নদীর উপর সেতু না থাকায় দড়ি টানা নৌকা দিয়ে তাদের নদী পার হতে হয় । এতে প্রায় সময়ই দূর্ঘটনা ঘটে। তবে সব চেয়ে বেশি কষ্ট হয় বর্ষাকালে এসময় নদীতে নৌকাডুবি ও প্রাণহানির মতো ঘটনা ঘটে।

বাদল মিয়া নামে এক কৃষক জানায়, এ গ্রামের সব মানুষ কৃষি কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে। উপজেলা সদরের সাথে ভালো যোগাযোগ ব্যবস্থা না থাকায় কৃষকরা তাদের কৃষি পন্যের ন্যায্য মূল্যে পায় না। নদীর উপর একটি সেতু নির্মাণ হলে গ্রামের কৃষি, যোগাযোগ ও শিক্ষা ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন হবে। বৃদ্ধ হাজী আবু তাহের জানান, যাতায়ত ব্যবস্থা ভালো না হওয়ার কারণে এই গ্রামে কেউ আত্মীয়তা করতে চাই না। শুধু যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে এই গ্রামের মানুষ সব কিছুতেই পার্শ্ববর্তী অন্য গ্রামগুলোর চেয়ে অনেক পিছিয়ে আছে। আব্দুল খালেক নামের গ্রামের এক প্রবীণ ব্যক্তি বলেন, কৃষ্ণনগর একটি অবহেলিত গ্রাম।স্বাধিনতার এতো বছর পেরিয়ে গেলেও এ গ্রামে কোনো উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি। গ্রামে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় নেই। কোনো মানুষ অসুস্থ হলে প্রথমে নদী পার হতে হয়। তারপর বরিশল পাকা সড়ক ধরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যেতে হয়। অনেক সময় দেখা যায় রোগী পথেই মারা যায়।

ধরখার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আরিফুল হক বাছির বলেন, ইউনিয়ন সদরের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য একটি মাটির রাস্তা করে দেওয়া হয়েছে। এখন একটি সেতু নির্মাণ হলে খুব সহজে এ গ্রামের মানুষ উপজেলা সদরে যেতে পারবে। তিনি আরো জানান, গ্রামবাসীর যাতায়তের জন্য আইনমন্ত্রী ও স্থানীয় সংসদ সদস্য আনিসুল হক একটি সেতু করে দিচ্ছেন। এ জন্য মন্ত্রী মহোদয়ের প্রতি অশেষ কৃতজ্ঞতা।

উপজেলা সহকারি প্রকৌশলী (এলজিইডি) জহিরুল ইসলাম জানান, ১৯ কোটি ৬৫ লাখ টাকা ব্যয়ে তিতাস নদীর উপর সেতুটি নির্মাণ করা হচ্ছে। টেন্ডারসহ সব প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে। অচিরেই সেতুর নির্মা কাজ শুরু হবে।

ইভূ

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়