জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিয়ে কি ভাবছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়?

আগের সংবাদ

ডিপ ফ্রিজই যেন সমাধি!

পরের সংবাদ

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের এক বছর

মো. আরিফুল ইসলাম

শিক্ষার্থী, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

প্রকাশিত: মার্চ ১৮, ২০২১ , ১২:১৬ পূর্বাহ্ণ আপডেট: মার্চ ১৮, ২০২১ , ১২:১৬ পূর্বাহ্ণ

মো. আরিফুল ইসলাম
মধ্য চীনের উহান শহর থেকে ২০১৯ সালে করোনা ভাইরাসের সূচনা। ১ ডিসেম্বর প্রথম কোভিড-১৯ রোগী শনাক্ত হয় চীনে। ১১ জানুয়ারি প্রথম মৃত্যু হয় করোনা ভাইরাসে। দ্রæত এই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ে আশপাশের এলাকায়। ফলে ২৩ জানুয়ারি থেকে উহানে লকডাউন শুরু হয়। চীনে অবস্থানরত প্রবাসীরা নিজ দেশে ফিরে আসে। তাদের অনেকের সঙ্গে ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে। ফলে এই ভাইরাস আর চীনের জন্য নয় বরং পৃথিবীর জন্য হুমকি হয়ে ওঠে।
বাংলাদেশি চীনা প্রবাসী ও চীন থেকে অন্য দেশ তারপর বাংলাদেশে আসা মানুষের মাধ্যমে করোনা ভাইরাস চলে আসে বাংলাদেশে। বাংলাদেশে ৮ মার্চ ২০২০ প্রথম করোনা আক্রান্ত রোগী শনাক্তের ঘোষণা আসে। অন্যদিকে এ সময়ের মধ্যে চীনের উহান থেকে সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়া এই ভাইরাস ১৩ হাজার মানুষের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে, আক্রান্ত প্রায় ২ লাখ। ২০২০ সালের ১১ মার্চ তারিখে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা রোগটিকে একটি বৈশ্বিক মহামারি হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। ১৭ মার্চ ২০২০ থেকে বাংলাদেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের ঘোষণা দেয় সরকার, করোনা সংক্রমণ রোধের জন্য। দেশে প্রথম ১৯ মার্চ সত্তরোর্ধ্ব এক ব্যক্তি করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা যান।
২২ মার্চ বাংলাদেশ সরকার ১০ দিনের সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছিল যা পরবর্তীতে বাড়ানো হয়। ২৬ মার্চ থেকে লকডাউন শুরু হয়। লকডাউনে সারাদেশেই জরুরি সেবা, পণ্য পরিবহন, চিকিৎসা ইত্যাদি অতি-প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রগুলো ছাড়া সব কিছু বন্ধ ছিল। বাস, ট্রেনসহ সব গণপরিবহন চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের পরামর্শে ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তে করোনা ভাইরাসের প্রকোপে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো দীর্ঘ ছুটিতে থাকায় শিক্ষার্থীদের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে অনলাইনে ক্লাস কার্যক্রম শুরু হয় এপ্রিলের শেষের দিকে বিভিন্ন বেসরকারি ও পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়।
মে মাস থেকেই অনলাইনে শিক্ষার্থীদের পড়ানোর কাজ শুরু করে অনেক স্কুলে। অনলাইন ক্লাস বলতে বোঝায় জুম, গুগল ক্লাসরুম, গুগল মিট, ওয়েবএক্সের মতো অ্যাপস ব্যবহার করে সরাসরি ক্লাস পরিচালনা।
স্মার্টফোন না থাকা, গ্রামাঞ্চলের ধীরগতির ইন্টারনেট-সেবা ও করোনার কারণে মানসিক দুশ্চিন্তক অসচ্ছলতা বিভিন্ন ধরনের প্রতিবন্ধকতা থাকার পরও এখনো চলছে অনলাইন ক্লাস।
করোনাকালীন অনলাইন শিক্ষার জন্য স্মার্টফোন (মোবাইল) কিনতে দেশের সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত ৩৯টি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীকে বিনাসুদে ৮ হাজার টাকা করে ঋণ দেয়া হয় বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) সিদ্ধান্তে। বিশ্ববিদ্যালয় খোলার পর অথবা অধ্যয়নকালীন চারটি কিস্তিতে বা এককালীন আসল টাকা শিক্ষার্থীরা পরিশোধ করতে পারবেন।
‘নাই মামার থেকে কানা মামা ভালো’ এই কথার ওপর ভর করে চলছে অনলাইন ক্লাস। তবে এক্ষেত্রে মনে রাখতে হবে এটা কানা মামা অর্থাৎ ক্লাস রুমে ক্লাস আর অনলাইন ক্লাসের মধ্যে রয়েছে অনেক পার্থক্য।
আমাদের দেশে অনলাইন ক্লাস পরিচালনার জন্য পর্যাপ্ত ডিজিটাল অবকাঠামো পুরোপুরি তৈরি হয়নি। স্কুলগুলোর ক্লাস টিভির মাধ্যমে প্রচার করছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। অনেক প্রতিষ্ঠান সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের কাছে পৌঁছে দিচ্ছে ক্লাস ভিডিও।
স্কুল পর্যায়ে অ্যাসাইনমেন্টের মাধ্যমে ছাত্রদের মূল্যায়ন করে তোলা হয়েছে পরের ক্লাসে। এইচএসসি-২০২০ দেয়া হয়েছে অটোপাস দেয়া হয়েছে। সামনে আসছে ভর্তিযুদ্ধ। সেখানে চান্স পাওয়ার চেয়ে ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করা বেশ কঠিন হয়ে পড়েছে শিক্ষার্থীদের।
২০২০-এর শেষের দিকে লকডাউন শিথিল করা হয়। তবে শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার কথা ভেবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছুটি বারবার বাড়ানো হচ্ছে।
সবচেয়ে খারাপ সংবাদ হলো, করোনা ভাইরাস (কোভিড-১৯) নিয়ে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) এক জরিপে সম্প্রতি উঠে এসেছে এক তথ্য। কোভিডকালীন ১০ মাসে মহামারি কোভিডে আক্রান্ত হয়ে ৫ হাজার ও একই সময়ে আত্মহত্যায় ১১ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে। অনার্স শেষ বর্ষের চলমান পরীক্ষা করোনার কারণে বন্ধ হয়ে যায় ২০২০ সালে। সেটা শেষ হয় ২০২১। তারপর শুরু হয় মাস্টার্সদের পরীক্ষা। তা স্থগিত হয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নতুন সিদ্ধান্তের জন্য।
করোনা ভাইরাস অতিমারির কারণে প্রায় এক বছর বন্ধ থাকার পর ৩০ মার্চ দেশের প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেয়া হবে। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে ১৭ মে খোলা হবে হলো এবং ২৪ মে খোলা হবে বিশ্ববিদ্যালয়। এ সময় চলমান সব পরীক্ষা স্থগিত এবং তা প্রতিষ্ঠান খোলার পরে নেয়া হবে।
করোনা মহামারির সূচনালগ্নে মানুষের মনে যে ভয় ছিল তা প্রায় চলে গেছে এখন। সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা, মাস্ক ব্যবহার করা, বারবার হাত ধোয়া এসব নিয়ম যেন এখন বিলীন হতে চলছে। মনে নাই কোনো ভয়, নাই কোনো আতঙ্ক। সব কিছু স্বাভাবিক চলছে।
গত বছর এ সময়ে করোনা মহামারির জন্য মানুষ দেখেছিল ভিন্ন এক পৃথিবী। এই বছর আবার করোনা ভাইরাস সংক্রমণ বাড়তে পারে বলে মনে করছে বিশেষজ্ঞের অনেকে। সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তারিখে কি খোলা হবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নাকি আবার বাড়ানো হবে ছুটি? এ বিষয় এখনো পরিষ্কার না আমাদের কাছে। বর্তমানে ভাইরাসের নতুন স্ট্রেইন দেখা যাচ্ছে, যা আগের তুলনায় অনেক শক্তিশালী। ফলে সামনে কী হতে চলেছে তা এখনো অনিশ্চিত।
করোনামুক্ত সুন্দর এক পৃথিবী যেন আমরা পাই খুব শিগগিরই সেই প্রত্যাশা।
শিক্ষার্থী, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়।
[email protected]

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়