বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়ন

আগের সংবাদ

প্রধানমন্ত্রীর কাছে খোলা চিঠি

পরের সংবাদ

রমজানকে সামনে রেখে সক্রিয় বাজার সিন্ডিকেট

শাকিবুল হাসান

শিক্ষার্থী, বরেন্দ্র কলেজ, রাজশাহী

প্রকাশিত: মার্চ ১৮, ২০২১ , ১২:১৬ পূর্বাহ্ণ আপডেট: মার্চ ১৮, ২০২১ , ১২:১৬ পূর্বাহ্ণ

শাকিবুল হাসান
বাজারে সাধারণ মানুষের নাভিশ^াস। সরকারের পক্ষ থেকে পর্যাপ্ত মজুতের কথা উল্লেখ করে আসন্ন রমজানে দ্রব্যের মূল্য বাড়বে না বলে জানানো হয়েছে। কিন্তু রমজানের আগেই নিত্যপণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় শঙ্কিত সাধারণ মানুষ। রমজানকে ঘিরে এবারো ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট নতুন করে ফাঁদ পেতেছে। রমজান শুরুর এক মাস আগ থেকে নিত্যপণ্যের দাম নীরবে পরিকল্পিতভাবে বাড়ানো হচ্ছেÑ রমজানে পণ্যের দাম বেড়েছে এমন অভিযোগ যাতে না ওঠে। এক মাসের ব্যবধানে রাজধানীসহ সারাদেশের খুচরা বাজারে সব ধরনের ডাল, ভোজ্যতেল, আদা-রসুন-পেঁয়াজ, হলুদ-মরিচ, চিনি-লবণ এমনকি খেজুরের দাম বাড়ানো হয়েছে। গরুর মাংস ও মুরগির দামও বেড়েছে। বরাবরের মতো এবারো ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে পরিকল্পিতভাবে নিত্যপণ্যের দাম বাড়াচ্ছে। বাজারে এক মাসের ব্যবধানে সব ধরনের পণ্যের দাম বাড়ানো হয়েছে। মনে হচ্ছে, কয়েক বছরের মতো এবারো ৫-১০ রোজা পর্যন্ত নিত্যপণ্যের দাম বাড়ানো হবে। এরপর হয়তো ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সরকার সংশ্লিষ্টদের বৈঠকের পর দাম কমতে শুরু করবে। কিন্তু দেখা যাবে, যে পরিমাণে দাম বেড়েছে, সে পরিমাণে কমানো হয়নি। তাই রোজার আগে বাজারের দিকে সংশ্লিষ্টদের নজরদারি বাড়াতে হবে। কঠোর মনিটরিংয়ের মাধ্যমে বাজার নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে। অনিয়ম পেলে সঙ্গে সঙ্গে কঠোর শাস্তির আওতায় আনতে হবে। এক মাসের ব্যবধানে খুচরা বাজারে প্রায় সব ধরনের নিত্যপণ্যের দাম বেড়েছে। খুচরা বাজারে প্রতি লিটার খোলা সয়াবিন বিক্রি হচ্ছে ১১৪ টাকা, এক মাস আগে যা বিক্রি হয়েছে ১১০ টাকা। প্রতি লিটারের বোতলজাত সয়াবিন বিক্রি হচ্ছে সর্বোচ্চ ১৫০ টাকা। ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে প্রায় ২০০ টাকা কেজি, ক’দিন আগেই ছিল ১২০-১৩০ টাকা কেউ, প্রতি কেজি পাকিস্তানি মুরগি বিক্রি হচ্ছে প্রায় ৩০০ টাকা কেজিতে। কী কারণে দাম বাড়ছে, তা খতিয়ে দেখা উচিত। এক্ষেত্রে কারসাজির মাধ্যমে দাম বাড়ানো হলে অভিযুক্তদের খুঁজে বের করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া উচিত। বরাবর দেখা গেছে ব্যবসায়ীরা রমজানে পণ্যের দাম খুব কম বাড়ায়। রমজান আসার ১-২ মাস আগে তারা দাম বাড়িয়ে দেয়। এ কারণে রমজান আসার আগে বিষয়টি নিয়ে কঠোর মনিটরিং করে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। এছাড়া বাজার ব্যবস্থায় বর্তমানে কোনো ধরনের প্রতিযোগিতা নেই। অযৌক্তিক মুনাফা করতে ব্যবসায়ীরা সময় ও সুযোগ বুঝে পণ্যের দাম বাড়ায়। এ প্রবণতা ভোক্তা কিংবা সরকার কারো জন্যই শুভ নয়। এখন থেকে বাজার ঠিকমতো মনিটরিং করা না হলে যে সিন্ডিকেট তৈরি হচ্ছে, তা রমজান পর্যন্ত থামানো যাবে না। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে বারবার বলা হচ্ছে বাজার সিন্ডিকেট আটকাতে মনিটরিং করা হচ্ছে, প্রয়োজনীয় দ্রব্য মজুত আছে ইত্যাদি কিন্তু তারপরও দাম বাড়ছে লাগামহীনভাবে। তাই এখন থেকে বাজার গভীরভাবে পর্যালোচনা করে তদারকি করা উচিত। রমজান ঘিরে ভোক্তাদেরও সচেতন হতে হবে। ১৫ দিনের পণ্য যাতে একদিনে না কেনেন, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। এতে বাজারে পণ্যের ঘাটতি দেখা দেয়। এ কারণেও ব্যবসায়ীরা সুযোগ বুঝে পণ্যের দাম বাড়িয়ে দেন। করোনা ভাইরাসের কারণে এক বছর ধরে দেশের জনগণের দুরবস্থার শেষ নেই। কাজ-কর্ম হারিয়ে মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারগুলো কোনো মতো খেয়ে পরে বেঁচে আছে। এমন পরিস্থিতিতে এক মুঠো চাল দিয়ে সাহায্য করা কেউ নেই। এমতাবস্থায় নিত্যপণ্যের এমন লাগামহীনভাবে দাম বাড়লে মানুষের দিন পার হওয়া খুবই কঠিন হয়ে যাবে। তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আকুল আবেদন, সময় থাকতে নিত্যপণ্যের বাজার সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করুন। সাধারণ মানুষকে এভাবে তিলে তিলে শেষ করে দিয়েন না। সব পণ্যের সহনীয় দাম নির্ধারণ করে নিয়মিত বাজার মনিটরিং করুন। দেশের মানুষকে একটু শান্তিতে বাঁচার সুযোগ করে দিন।
শিক্ষার্থী, বরেন্দ্র কলেজ, রাজশাহী
[email protected]

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়