রমজানকে সামনে রেখে সক্রিয় বাজার সিন্ডিকেট

আগের সংবাদ

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিয়ে কি ভাবছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়?

পরের সংবাদ

প্রধানমন্ত্রীর কাছে খোলা চিঠি

এম আবির হাসান ইবনে হাবিব

শিক্ষার্থী, ঢাকা কমার্স কলেজ

প্রকাশিত: মার্চ ১৮, ২০২১ , ১২:১৬ পূর্বাহ্ণ আপডেট: মার্চ ১৮, ২০২১ , ১২:১৬ পূর্বাহ্ণ

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী,
মুজিব শতবর্ষে ১৪ আগস্ট তাঁর ঢাবির ছাত্রত্ব ফিরে পাওয়ার দিনটি ‘জাতীয় শিক্ষার্থী দিবস’ (National Students Day) হিসেবে পালনের জন্য আপনার কাছে সবিনয়ে প্রস্তাব করছি। আপনি অবগত আছেন, ১৯৪৯ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের আন্দোলনে সংহতি প্রকাশ করায় বঙ্গবন্ধু ২৬ মার্চ বহিষ্কৃত হন। তৎকালীন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ মুচলেকা ও ১৫ টাকা জরিমানার বিনিময়ে ছাত্রত্ব ফিরিয়ে দিতে চেয়েছিল। কিন্তু তিনি অন্যায়ের সঙ্গে আপস করেননি এবং ছাত্রত্ব ফিরিয়ে নেননি। এ দিনটি বাংলার ইতিহাসের এক কলঙ্কিত দিন। ৬১ বছর পর ১৪ আগস্ট ২০১০ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বঙ্গবন্ধুর ছাত্রত্ব বাতিলের নির্দেশ প্রত্যাহার করে। কিন্তু আমার মতে এ সিদ্ধান্তেই এ কলঙ্কিত ইতিহাসের দায় শোধ হয় না। বাংলাদেশের রূপকার, স্থপতি, জাতির জনক, বিশ্বনেতা বঙ্গবন্ধুর জন্য এ সিদ্ধান্ত যথেষ্ট নয়। প্রধানমন্ত্রী, বঙ্গবন্ধুর পারিবারিক জীবন, ব্যক্তি জীবন, রাজনৈতিক জীবনের মতো তাঁর শিক্ষাজীবনও ইতিহাস বহুল ও অবিস্মরণীয়। বঙ্গবন্ধু এক মহান শিক্ষার্থী। কারণ ১৯৪৯ সালের ২৬ মার্চ যে শিক্ষার্থী বহিষ্কৃত হয়, সেই শিক্ষার্থীই ঠিক ২২ বছর পর ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ নিজ দেশের অর্থাৎ বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। তাই আমি এই মুজিব শতবর্ষে প্রস্তাব করছি, আহŸান জানাচ্ছি যেন এ বছর থেকেই প্রতি বছর ১৪ আগস্ট এ মহান শিক্ষার্থী বঙ্গবন্ধু স্মরণে তাঁর ঢাবির ছাত্রত্ব ফিরে পাওয়ার দিনটি ‘জাতীয় শিক্ষার্থী দিবস’ হিসেবে পালন করা হয়। তাহলে ওইদিন দেশের সব শিক্ষার্থী বুঝতে পারবে এ দিনের গুরুত্ব ও তাৎপর্য। যতদিন বাংলাদেশ রবে ততদিন প্রত্যেক শিক্ষার্থী এই ইতিহাস শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করবে। বঙ্গবন্ধু নিজের জীবনে, পরিবারে, সমাজে, দেশে লেখাপড়াকে অনেক গুরুত্ব দিয়েছেন। তিনি শিক্ষার্থী হিসেবে লেখাপড়াকে যে গুরুত্ব দিয়েছেন তা তাঁর লেখা দুটি চিঠির দিকে তাকালে বোঝা যায়। ১৬ এপ্রিল ১৯৫৯ সালে ঢাকা জেল থেকে বঙ্গবন্ধু, বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিবকে চিঠি লিখলেনÑ ‘আমার কবে মুক্তি হবে তার কোনো ঠিক নাই। তোমার একমাত্র কাজ হবে ছেলেমেয়েদের লেখাপড়া শিখানো। টাকার দরকার হলে আব্বাকে লিখিও। কিছু কিছু মাসে মাসে দিতে পারবেন। হাসিনাকে মন দিয়ে পড়তে বলিও। কামালের স্বাস্থ্য মোটেই ভালো হচ্ছে না। ওকে নিয়মমতো খেতে বলিও। জামাল যেন মন দিয়ে পড়ে আর ছবি আঁকে। এবার একটা ছবি এঁকে যেন নিয়ে আসে আমি দেখব। রেহানা খুব দুষ্টু। ওকে কিছুদিন পর স্কুলে দিয়ে দিও জামালের সঙ্গে। যদি সময় পাও নিজেও একটু লেখাপড়া করিও।’ আরো একটি চিঠি ১৬ এপ্রিল ১৯৬৭ সালে তিনি লিখেন কারাগারে বসে। তিনি লিখেছেনÑ ‘কয়েকদিন পর্যন্ত মাথার যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরে স্যারিডন খাই। খাওয়ার পরে কিছু সময় ভালো থাকি। মাথার যন্ত্রণা হলে লেখাপড়া করতে পারি না, লেখাপড়া না করলে সময় কাটাই কী করে!’ এ দুটি চিঠি দেখলেই বোঝা যায় তাঁর কাছে ছিল শিক্ষার গুরুত্ব অপরিসীম। তাই প্রতিবছর বঙ্গবন্ধু স্মরণে ১৪ আগস্ট ‘জাতীয় শিক্ষার্থী দিবস’ পালনের প্রস্তাব করছি। এই মুজিব শতবর্ষে বাঙালি জাতির জন্য এটাই হবে বড় প্রাপ্তি। প্রধানমন্ত্রী, বঙ্গবন্ধুকন্যা আপনি নিজেও এই বাংলার মানুষের জন্য অনেক ত্যাগ, জুলুম, নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। যে দেশটিকে তলাবিহীন ঝুড়ি বলে উপহাস করা হতো সেই বাংলাদেশকে আপনি জাতিসংঘের বেঁধে দেয়া তিনটি সূচক (GNI, HAI & EVI) এর সব পূরণ করতে যোগ্য নেতৃত্ব দেন। যার ফলে বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে জাতিসংঘের তিনটি শর্তই পূরণ করতে সক্ষম হয় বাংলাদেশ এবং উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা লাভ করে। প্রধানমন্ত্রী, আপনি জীবনে অনেক সম্মাননা অর্জন করেছেন। ২০১০ সালে শান্তি, নিরস্ত্রীকরণ ও উন্নয়নে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ইন্দিরা গান্ধী শান্তি পুরস্কার, ২০১৩ সালে দারিদ্র্য দূরীকরণ ও খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের জন্য ‘সাউথ সাউথ’ অ্যাওয়ার্ড, ২০১৬ সালে সমাজের নিগৃহীত জনগণের জীবনমান উন্নয়ন ও দারিদ্র্য দূরীকরণে সাফল্য অর্জনের স্বীকৃতিস্বরূপ ‘সাউথ সাউথ কোঅপারেশন ভিশনারি’ অ্যাওয়ার্ড, নারীর ক্ষমতায়নে অবদান রাখায় ‘প্লানেট ফিফটি চ্যাম্পিয়ন’ ও ‘এজেন্ট অব চেঞ্জ’ অ্যাওয়ার্ড, ২০১৮ সালে ‘গেøাবাল উইম্যান্স লিডারশিপ’ অ্যাওয়ার্ডসহ আরও নানা সম্মাননা অর্জন করেন। আপনি আল্লাহর রহমতে প্রায় দশ লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে মানবতার যে বিরল দৃষ্টান্ত দেখিয়েছেন তা সত্যি অবিস্মরণীয় ও অতুলনীয়। বঙ্গবন্ধুর স্মরণে ১৪ আগস্ট ‘জাতীয় শিক্ষার্থী দিবস’ হিসেবে আমার প্রস্তাব গ্রহণ করেন তাহলে আনন্দিত হবো। আপনার সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করছি। ভালো থাকবেন বঙ্গবন্ধু কন্যা।
এম আবির হাসান ইবনে হাবিব
শিক্ষার্থী, ঢাকা কমার্স কলেজ
[email protected]

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়