৭ বছরেও চালু হয়নি ‘বাহুবল ট্রমা সেন্টার’

আগের সংবাদ

বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়ন

পরের সংবাদ

এই দায় এড়ানোর সুযোগ নেই

প্রকাশিত: মার্চ ১৮, ২০২১ , ১২:১৫ পূর্বাহ্ণ আপডেট: মার্চ ১৮, ২০২১ , ১২:১৫ পূর্বাহ্ণ

গতকাল সকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের নতুন ভবনের তৃতীয় তলায় করোনা আক্রান্ত রোগীদের জন্য বরাদ্দ আইসিইউতে অগ্নিকাÐের ঘটনায় তিনজন মারা গেছেন। এর আগে গত বছর মে মাসে ইউনাইটেড হাসপাতালে আগুন লেগে পাঁচজন করোনা রোগী মারা যান। হাসপাতালের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থানে এমন ঘটনায় আমরা ক্ষুব্ধ, মর্মাহত। চিকিৎসা নিতে এসে হাসপাতালে গাফিলতির কারণে ঢামেকে তিন রোগীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। তারা হাসপাতালের করোনা ইউনিটে আইসিইউতে ছিলেন। সবাই ক্রিটিক্যাল কন্ডিশনে ছিলেন। ভেন্টিলেটর সাপোর্টে ছিলেন। প্রচÐ ধোঁয়ার কারণে আইসিইউতে থাকা রোগীরা মারা যেতে পারেন।
এই মর্মান্তিক ঘটনায় যারা প্রাণ হারিয়েছেন, তাদের স্বজনদের প্রতি সমবেদনা জানানোর ভাষা আমাদের নেই। আমরা শুধু মৃতদের আত্মার শান্তি কামনা করতে পারি। করোনা ভাইরাসের কারণে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে সাধারণ রোগীরা চিকিৎসাসেবা প্রতিনিয়ত হয়রানির শিকার হয়েছেন। এ ভাইরাসের উপসর্গের সঙ্গে মিল না থাকলেও রোগী ভর্তি অথবা চিকিৎসাসেবা দিতে অনীহা প্রকাশ করছেন চিকিৎসক, নার্স ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। প্রতিনিয়ত হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অবহেলায় সাধারণ রোগীর মৃত্যুর খবর গণমাধ্যমে দেখতে হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে কিডনি ডায়ালাইসিসসহ চিকিৎসা গ্রহণ করা রোগীরা বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসায় বাধার সম্মুখীন হয়েছেন। হৃদরোগ কিংবা কিডনি রোগে ভুগলেও মেলেনি চিকিৎসাসেবা। এমন পরিস্থিতিতে অনেক রোগী এক হাসপাতাল থেকে আরেক হাসপাতালে ছোটাছুটি করতেই প্রাণ হারিয়েছেন। এখন সে পরিস্থিতি নেই। অনেকটা স্বাভাবিক হয়েছে। করোনা আক্রান্ত রোগীরা চিকিৎসাসেবা পাচ্ছেন। মৃত্যুর হারও কমে আসছে। দেশের এমন স্বাভাবিক অবস্থায় ঢাকা মেডিকেলে তিনজন করোনা রোগী মারা যাওয়া মেনে নেয়া যায় না। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আরেকটু দায়িত্বশীল হলে এমন ঘটনা নাও ঘটতে পারত। যে কোনো জায়গায় কিংবা প্রতিষ্ঠানে অগ্নিকাÐ যে কোনো সময় ঘটতে পারে। সেজন্য প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে, প্রতিটি ভবনে পর্যাপ্ত প্রস্তুতি থাকা প্রয়োজন। ফায়ার সার্ভিস অভিযোগ করছে, মেয়াদোত্তীর্ণ ফায়ার এক্সটিংগুইশার দিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেছিলেন ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালের সংশ্লিষ্টরা। মেয়াদোত্তীর্ণ ফায়ার এক্সটিংগুইশার দিয়ে আগুন নেভানো যায় না। এগুলো কাজ করে না। এর দায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের। ফায়ার এক্সটিংগুইশারগুলো রিফিল করা উচিত ছিল বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস। তিনজন রোগীর মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। হাসপাতালটির অ্যানেসথেসিওলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. মো. মোজাফ্ফর হোসেনকে প্রধান করে ১০ সদস্যের এ কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিকে ৭ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। আমরাও চাই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত হোক। অভিযুক্তদের কোনোভাবেই ছাড় নয়। যারা আগুনে দগ্ধ হয়ে মারা গেছেন তাদের পরিবার যেন আর্থিক ক্ষতি পূরণ পায় সেই বিষয়ে তদন্ত কমিটিকে উপস্থাপন করতে হবে।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়