‘আমি বাঙালি, বাংলা আমার দেশ, বাংলা আমার ভাষা’

আগের সংবাদ

তোমার শততম জন্মদিন

পরের সংবাদ

শতবর্ষেও অবিনশ্বর অম্লান

প্রকাশিত: মার্চ ১৭, ২০২১ , ১২:০১ পূর্বাহ্ণ আপডেট: মার্চ ১৭, ২০২১ , ১২:১৬ পূর্বাহ্ণ

মহাকালের অনন্ত সময়ে হয়তো একশ বছর এমন কিছু নয়, কিন্তু মানব জীবনের প্রেক্ষিত চিন্তা করলে শতবর্ষের গুরুত্ব অন্যরকম। অনাদি-অনন্তকালের গর্ভে শতবর্ষ ক্ষুদ্র সময়। ইতিহাসেও শতবর্ষের প্রেক্ষিত ভিন্ন, গুরুত্বটাও ভিন্ন। মনুষ্য জীবনের ক্ষেত্রে পেছন ফিরে তাকানোর লম্বা ইতিহাস খুবই কম। আবার শিক্ষা-সংস্কৃতির ইতিহাস খুঁজতে গেলে হাজার হাজার বছর পেছনেও যাওয়া যায়। তাই একশ বছর এই বাংলার মাটিতে গড়ে ওঠা এক মানুষের জীবন যদি হয়ে ওঠে মহাকাব্যিক এবং ক্ষণজন্মা সে জীবনের ব্যাপ্তি যদি হয় বিশাল, তাহলে সে জীবন বিস্তৃত হয় অনাদি-অনন্তকালজুড়ে।

মাত্র ৫৫ বছরের এক বর্ণময় জীবন এবং যে জীবন মানুষের কল্যাণের জন্য উৎসর্গকৃত, সে জীবনকে সময়ের কোনো ফ্রেমে বাঁধা যাবে? বাঙালির হাজার বছরের ইতিহাসে এই অল্প সময়টুকু কেন এত উল্লেখ করার মতো? ইতিহাসবিদগণ মাটি খুঁড়ে তুলে আনছেন হাজার বছরের স্মৃতিচিহ্ন। কিন্তু মাত্র পাঁচ দশকের এই অল্প সময় কীভাবে ওলট-পালট করে দিল পুরো বাঙালির ইতিহাসকে। বাঙালিত্ব ও বাঙালিয়ানায় একটি জাতি রাষ্ট্রের জন্মদাতার এই মহামূল্যবান এবং ঐতিহাসিক ভ‚মিকা কোন প্রেক্ষাপটে মূল্যায়ন করব?

তাই আজ শতবর্ষের প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে আমরা উপলব্ধি করব এক মহামানবের জীবন, যে জীবন উৎসর্গকৃত মানুষের জন্য, যে জীবন উৎসর্গকৃত দেশের জন্য। পৃথিবীর ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যাবে, অনেক মহামানবের জীবন অল্প সময়ের, কিন্তু তারা সময়টাকে বিস্তৃত করে দিয়েছেন কালের অনন্ত স্রোতের মধ্যে। জীবনের প্রবহমানতায় তাই আবদ্ধ নয় সেই জীবন। মহাজীবনের অনন্ত প্রবাহে প্রবহমান এক জীবন তাই সেটি।

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ১০০তম জন্মবার্ষিকীতে কি উপলব্ধি করব আমরা? এক ক্ষণজন্মা মানুষের মহাজীবন যা শতবর্ষেও অবিনশ্বর অমøান। আমরা যে যাই বলি না কেন ইতিহাসের বাঁকে বাঁকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান থাকবেন এক অবিনশ্বর স্মৃতি হয়ে। বাংলা ও বাঙালির জীবনের প্রদীপ হিসেবে। যখনই অন্ধকার, যখনই সংকট, যখনই বিভ্রান্তি তখনই তিনি পথ দেখাবেন আলোকবর্তিকা হিসেবে। বাঙালির সংকটে, বাঙালির বিভ্রান্তিতে তিনিই তো একমাত্র সহায়। আজকে তার হাতে গড়া বাংলায় যে সংকট এবং যে বিভ্রান্তির মুখোমুখি আমরা, এখান থেকে একমাত্র তিনিই তো মুক্তি দিতে পারেন। আজীবন গণতান্ত্রিক, আজীবন অসাম্প্রদায়িক এবং আজীবন মানুষের অধিকারের জন্য লড়াই করে যাওয়া এক সংগ্রামী জীবন আজ কত বেশি মূর্ত তা তো বলার অপেক্ষা রাখে না।

১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর জাতীয় সংসদে দেয়া এক ভাষণে বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, ভবিষ্যৎ বংশধররা যদি সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র, জাতীয়তাবাদ ও ধর্মনিরপেক্ষতার ভিত্তিতে শোষণহীন সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে পারে তাহলে আমার জীবন সার্থক হবে। বঙ্গবন্ধুর সেই স্বপ্ন, সেই আকাক্সক্ষা কতখানি বাস্তবায়ন করছি, তা আর বিশ্লেষণের দাবি রাখে না। আজকে শতবর্ষে দাঁড়িয়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে শ্রদ্ধা জানাতে হলে মূল্যায়ন করতে হবে তার স্বপ্নকে, তার সংগ্রামকে। সেটি আমরা কতখানি করছি সে আত্মজিজ্ঞাসাই সামনে রাখছি। কবিগুরু লিখেছেন-
‘তোমার কথা হেতা কেহ তো বলে না
করে মিছে শুধু কোলাহল,
সুধা সাগরের তীরেতে বসিয়া
পান করে শুধু হলাহল…’
জীবনচর্চায় বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে যদি আমরা সামনে না রাখি তাহলে মনে হবে শুধু তাকে নিয়ে আমরা কোলাহলই করছি। রাষ্ট্র ও মনন চিন্তায় বঙ্গবন্ধু ও তার আদর্শ যদি না থাকে তাহলে শ্রদ্ধা জানানোটা রবীন্দ্রনাথের গানের মতোই হয়তো হবে।

এসএইচ/পিআর

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়