হাইফ্লো নেজাল ক্যানোলা থেকে আগুনের সূত্রপাত

আগের সংবাদ

কাবুলে বৌদ্ধ মূর্তি ধ্বংসের ২০ বছর

পরের সংবাদ

মামুনুল হককে ফেসবুকে কটূক্তি, সুনামগঞ্জে বাড়িঘরে হামলা ও লুটপাট

প্রকাশিত: মার্চ ১৭, ২০২১ , ১:৫৫ অপরাহ্ণ আপডেট: মার্চ ১৭, ২০২১ , ৩:৩৫ অপরাহ্ণ

ফেসবুকে হেফাজত নেতা মামুনুল হককে নিয়ে কটূক্তি করায় সুনামগঞ্জের শাল্লায় ঝুমন দাস নামে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তবে এ ঘটনার পরই ওই যুবকের গ্রাম ঘেরাও করে পুলিশ ও উপজেলা চেয়ারম্যানের সামনেই হামলা ও লুটপাট চালায় মামুনুল হকের অনুসারীরা।

বুধবার (১৭ মার্চ) সকাল ৯টার দিকে শাল্লা উপজেলার নোয়াগ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় তারা গ্রামের অন্তত ২০টি ঘরবাড়ি ভাঙচুর চালায়। তছনছ করা হয় ওইসব পরিবারের আসবাবপত্র।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার রাত ১১টার দিকে শাল্লার শাঁসকাই বাজারে তাকে আটক করে গ্রামবাসী। পরে তাকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়।

জানা যায়, সোমবার দিরাইয়ে হেফাজতের একটি সমাবেশে বক্তব্য রাখেন হেফাজতের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব আল্লামা মামুনুল হক। এরপর থেকেই নিজের ফেসবুক আইডি থেকে মামুনুল হককে নিয়ে পোস্ট করেন ঝুমন। এনিয়ে স্থানীয় মুসলমানদের মাঝে প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।

বুধবার সকালে মামুনুল হকের অনুসারীরা লঠিসোটা হাতে মিছিল নিয়ে ওই গ্রামে হামলা চালায়। হামলার আগেই বাড়ি ছেড়ে হাওরে গিয়ে আশ্রয় নেন নোয়াগ্রামের বাসিন্দারা। এ সুযোগে আসবাবপত্র ভাংচুর ও লুটপাট চালায় তারা। তবে বাড়ি ছেড়ে যাওয়ায় হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

শাল্লায় ভাঙচুর করা ঘরবাড়ি। ছবি: ভোরের কাগজ।

শাল্লার নোয়াগ্রামের শৈলেন্দ্র দাস, অনিল দাস, দিগেন দাস, হরিপদ দাস, রবিন্দ্র দাস , রন্টু দাস, অসীম চক্রবর্তী, দেবেন্দ্র কুমার দাস, নগেন্দ্র কুমার দাস, মানকি দাসসহ অন্তত ২০ বাড়িতে হামলা চালায় মামুনুল সমর্থকরা।

ভুক্তভোগী শৈলেন্দ্র দাস জানান, যে ছেলেটি ফেসবুকে লিখেছে তাকে তারা মঙ্গলবার ধরে পুলিশে দিয়েছেন। তাদেরকে আশ্বস্ত করা হয়েছিল আর কিছু হবে না। কিন্তু সকালেই লাঠিসোটা নিয়ে কয়েকশ’ মানুষ পুলিশ ও উপজেলা চেয়ারম্যানের সামনেই হামলা চালায়। গ্রামের নারীসহ পুরুষরা শিশুদের নিয়ে হাওরের দিকে ছুটতে থাকে। পরে বাড়ি ফিরে এসে দেখে ঘরের আসবাব ভাংচুর করে লুটপাট চালানো হয়েছে। এ সময় তিনি অভিযোগ করেন তার ঘরে থাকা স্বর্ণ ও টাকাও লুটে নিয়ে যায় হামলাকারীরা।

শাল্লায় এভাবেই ভাঙচুর করা হয়েছে ঘরবাড়ি। ছবি: সংগৃহীত

এবিষয়ে শাল্লা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নাজমুল হক জানান, আটক মামুনুল হককে কটাক্ষকারীর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। সকালে হঠাৎ শতাধিক লোকজন লাঠিসোটা নিয়ে নোয়াগ্রামের দিকে মিছিল নিয়ে যাচ্ছে এমন খবর পেয়ে পুলিশও তাদের পিছু নেয়। কিন্তু কিছু লোক আগেই নদী পার হয়ে নোয়াগ্রামে হামলা চালায়। এ সময় ঝুমন দাসের বাড়িসহ প্রায় ২০ বাড়িঘরে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ওই গ্রামে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পরিস্থিতি এখন শান্ত রয়েছে বলে জানান তিনি।

এমআই

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়