ইউপি ভোটে ল্যামিনেটেড পোস্টার ও মোটর শোভাযাত্রা নয়

আগের সংবাদ

এনআইডি জালিয়াতিতে উপসচিবসহ ইসির ৫ কর্মকর্তা বরখাস্ত

পরের সংবাদ

রাজস্ব ঘাটতি পূরণে গুরুত্ব দিতে হবে

প্রকাশিত: মার্চ ১৬, ২০২১ , ১২:২৪ পূর্বাহ্ণ আপডেট: মার্চ ১৬, ২০২১ , ১২:২৪ পূর্বাহ্ণ

চলতি অর্থবছরে প্রত্যাশা অনুযায়ী রাজস্ব আদায় করা সম্ভব হচ্ছে না বলে ঘাটতি বেড়েই চলেছে। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, করোনা ভাইরাসের কারণে বাণিজ্যে স্থবিরতা দেখা দেয়ায় রাজস্ব ঘাটতি আরো বাড়বে বলে আশঙ্কা রয়েছে। জানা গেছে, চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেটে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) ৩ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে দিয়েছে সরকার। ইতোমধ্যে অর্থবছরের আট মাস চলে গেছে। এই সময়ে এনবিআর রাজস্ব আদায় করেছে ১ লাখ ৫১ হাজার ৪৭২ কোটি টাকা। এদিকে অর্থবছরের আরো বাকি ৪ মাস। সরকার নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে হলে এই সময়ে এনবিআরকে আদায় করতে হবে ১ লাখ ৭৮ হাজার ৫২৮ কোটি টাকা। মহামারিকালে মানুষের আয়-উপার্জন কম। ব্যবসা-বাণিজ্য কমে গেছে। আমদানিও কম। তাহলে ট্যাক্স আসবে কোত্থেকে? দোকানপাটে বিক্রি নেই, ফলে ভ্যাট আদায়ও কম। অর্থবছরের প্রথম আট মাসে আমদানি-রপ্তানিতে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৬২ হাজার ৩৯৪ কোটি টাকা। আলোচ্য সময়ে আদায় হয়েছে ৪৬ হাজার ১৭৭ কোটি টাকা। অর্থাৎ ৮ মাসে আমদানি রপ্তানিতে রাজস্ব ঘাটতি ১৬ হাজার ২২১ কোটি টাকা। ভ্যাট আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৭৭ হাজার ৩২৩ কোটি টাকা, আদায় হয়েছে ৫৮ হাজার ৩১৪ কোটি টাকা। অর্থাৎ শুধু ভ্যাট আদায়ে ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ১৯ হাজার ৯ কোটি টাকা। আয়করে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৫৬ হাজার ৪২৯ কোটি টাকা, আদায় হয়েছে ৪৬ হাজার ৯৭৯ কোটি টাকা। অর্থাৎ আয়করে রাজস্ব ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৯ হাজার ৪৪৯ কোটি টাকা। রাজস্ব আদায়ের ৩টি খাতেই ঘাটতি বেড়ে চলছে। সবচেয়ে বেশি রাজস্ব ঘাটতি বাড়ছে ভ্যাটে। নতুন আইন করে নানা ধরনের প্রণোদনা দিয়েও ভ্যাটে কার্যকর সাফল্য আসছে না। করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে বাংলাদেশের অর্থনীতির আকার-আয়তন, বাণিজ্যসহ অন্যান্য তথ্য-উপাত্ত আমলে নিলে নির্দিষ্ট রাজস্ব আহরণ কঠিন কিছু নয়। পরিকল্পিত উদ্যোগ নিলে এটা সম্ভব। সরকারের লক্ষ্য ছিল ভ্যাট আইন বাস্তবায়ন হলে আয় বাড়বে। কিন্তু ভ্যাট আইন বাস্তবায়ন হলেও লক্ষ্যমাত্রার উন্নতি নেই। এতে ভ্যাট আদায়ের যে লক্ষ্যমাত্রা ছিল তা আদায় কষ্টসাধ্য হয়ে দাঁড়াবে এনবিআরের জন্য। এমনি পরিস্থিতিতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড করের আওতা বাড়ানোসহ নানা পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। তবে এসব পরিকল্পনা খুবই শ্লথ গতির। ২০২১ সালে আমাদের লক্ষ্য মধ্যম আয়ের দেশের সারিতে পৌঁছানো। এ জন্য অপরিহার্য শর্ত জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার ৭ থেকে ৮ শতাংশ নিশ্চিত করা। বিনিয়োগ বাড়াতে পারলেই কেবল এ লক্ষ্য অর্জন সম্ভব। রাজস্ব আয় বাড়ানো এর শর্ত। এ ক্ষেত্রে সর্বাগ্রে দরকার করবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি। সেখানে রাজস্ব প্রদানে সেবা নিশ্চিত, অনুকূল রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং আইন-কানুন সময়োপযোগী করা গুরুত্ব পাবে। পরিকল্পনাজনিত সমস্যা তো রয়েছেই, সঙ্গে রয়েছে প্রাতিষ্ঠানিক নানা জটিলতা। আছে দুর্নীতির অভিযোগও। এসব বিষয়ে সরকারকে আরো জোরালো ভূমিকা নিতে হবে।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়