বাংলার ইতিহাসে জিয়া তৃতীয় বিশ্বাসঘাতক: প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী

আগের সংবাদ

কর্তৃপক্ষের সতর্কতা জরুরি

পরের সংবাদ

বিশ্ব নদীকৃত্য দিবস আজ: দখল দূষণে বিপন্ন নদ-নদী

প্রকাশিত: মার্চ ১৪, ২০২১ , ১২:৩৬ পূর্বাহ্ণ আপডেট: মার্চ ১৪, ২০২১ , ১:১৪ অপরাহ্ণ

বিশ্ব নদীকৃত্য দিবস আজ। ১৯৯৭ সালের ১৪ মার্চ থেকে ব্রাজিলে কুরিতিবা শহরে এক সমাবেশ থেকে দিবসটি পালনের ঘোষণা হয়।

বাংলাদেশেও দিবসটি উপলক্ষে নদী অঞ্চলগুলোতে নানা আয়োজন করা হয়। রাজধানী ঢাকাতেও প্রতি বারই বিভিন্ন আলোচনা সভার আয়োজন করেন বিশিষ্ট ব্যক্তিরা। নদী রক্ষায় বিভিন্ন দাবি তোলেন সরকারের কাছে।

কিন্তু নাদীমাতৃক এই বাংলাদেশে সত্যিই কি নদী রক্ষা হচ্ছে? নাকি সারাদেশে অসংখ্য নদী নালা চলে যাচ্ছে দখলদারদের খপ্পরে! নদীগুলোকে যেন প্রতিনিয়ত ব্যবহার করা হচ্ছে বিভিন্ন ধরনের বর্জ্যের ভাগার হিসেবে।

সারাদেশের নদ-নদী-জলাশয় থেকে অবিলম্বে দখলদারদের, মাছ প্রকল্প, স্লুইচগেট, বাঁধ ও স্বল্প দৈর্ঘ্যের সেতু অপসারণ করার দাবি জানিয়েছেন সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা সুলতানা কামাল।

শনিবার (১৩ মার্চ) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাংবাদিক সাগর-রুনি মিলনায়তনে দিবসটি নিয়ে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা), ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশ, জাতীয় নদী জোট ও জাতীয় নদী রক্ষা আন্দোলন।

এসময় সুলতানা কামাল বলেন, ‘প্রাকৃতিক সম্পদের বড় অংশজুড়ে রয়েছে নদী। তাই এই প্রকৃতি বাঁচাতে হবে। নদী দিয়েই প্রাচীনকাল থেকে আমাদের সভ্যতা গড়ে উঠেছে। এমনকি শিল্প-সংস্কৃতিও নদীকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে।

এসময় সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে আন্তর্জাতিক নদী দিবস উপলক্ষে বেশকিছু দাবি তুলে ধরা হয়। সেগুলো হলো-

১. আদালতের রায়ের ভিত্তিতে সব নদীর সীমানা নির্ধারণ, নির্মোহভাবে দখলদার উৎখাত ও তা দখলমুক্ত রাখতে হবে।

২. নদী নামক জীবন্ত স্বত্তার অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।

৩. নদীতে ‘বাঁধ-ব্যারেজ-রেগুলেটর বসানোর বেষ্টনী নীতি’ ভিত্তিক নদী ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম বন্ধ করতে হবে এবং ‘বাংলাদেশ ডেল্টা পরিকল্পনার-২১০০’ নামের সেই একই ভুল ব্যবস্থাপনা বন্ধ করতে হবে।

৪. মৃত ও ভরাট নদী ড্রেজিং করে তার প্রবাহ ও নাব্য পুনরুদ্ধার করতে হবে এবং নদীর মাটি/পাড় ইজারা দেওয়া বন্ধ করতে হবে।

৫. ভূমি মন্ত্রণালয়, পানি উন্নয়ন বোর্ড, ওয়াসা, সিটি করপোরেশন, পৌরসভাসমূহ, নগর উন্নয়ন সংস্থাসমূহ, বিআইডব্লিটিএ ও নদী কমিশনকে দৃঢ়ভাবে নদীবান্ধব নীতি অনুসরণ করতে হবে।

৬. বাংলাদেশকে জাতিসংঘ প্রণীত পানি প্রবাহ আইন-১৯৯৭ অবিলম্বে অনুস্বাক্ষর ও সে অনুযায়ী নদীরক্ষায় পদক্ষেপ নিতে হবে, তার ভিত্তিতে একটি আঞ্চলিক পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা নীতি-কৌশল প্রণয়ন ও সব আন্তঃসীমান্ত নদীর ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।

৭. সব শিল্প কারখানায় বর্জ্য পরিশোধন প্লান্ট সংযোজন ও ব্যবহার বাধ্যতামূলক করতে হবে।

৮. শহুরে গৃহস্থালী ও হাসপাতাল বর্জ্য নদীতে ফেলা বন্ধ ও তরল বর্জ্য পরিশোধন করা সম্পূর্ণ বাধ্যতামূলক করতে হবে।

৯. নদীর ওপর কাঁচা/পাকা পায়খানা নির্মাণ বন্ধ এবং জমিতে রাসায়নিক সার-কীটনাশক ব্যবহার বন্ধ করতে হবে।

১০. নৌ-যান নির্গত ময়লা,বর্জ্য, তেল পানিতে ফেলা নিষিদ্ধ ও নৌ-যানে তেলের পরিবর্তে গ্যাস বা সোলার ব্যবহার বাধ্যতামূলক করতে হবে।

অনুষ্ঠানটি প্রয়াত সাংবাদিক ও লেখক সৈয়দ আবুল মকসুদকে উৎসর্গ করা হয়।

১৯৯৭ সালে ১৪ মার্চ বাঁধের বিরূপ প্রতিক্রিয়ার শিকার তাইওয়ান, ব্রাজিল, চিলি, আর্জেন্টিনা, থাইল্যান্ড, রাশিয়া, ফ্রান্স, সুইজারল্যান্ড ও যুক্তরাষ্ট্র এই কয়েকটি দেশের প্রতিনিধিরা ওই সমাবেশে অংশ নেন। নদীর প্রতি দায়বদ্ধতা, দায়িত্ববোধ মনে করিয়ে দিতেই তখন থেকে দিবসটি পালন হয়ে আসছে।

এমআই

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়