বিশ্ব নদীকৃত্য দিবস আজ: দখল দূষণে বিপন্ন নদ-নদী

আগের সংবাদ

বিএনপির ৭ মার্চ : ভ‚তের মুখে রাম নাম?

পরের সংবাদ

নদী রক্ষায় অভিযান

কর্তৃপক্ষের সতর্কতা জরুরি

প্রকাশিত: মার্চ ১৪, ২০২১ , ১২:৪৯ পূর্বাহ্ণ আপডেট: মার্চ ১৫, ২০২১ , ৫:৪১ অপরাহ্ণ

নদ-নদী রক্ষায় সরকারি বা বেসরকারি কোনো উদ্যোগই কাজে লাগছে না। হস্তক্ষেপ করতে হচ্ছে উচ্চ আদালতকে। গভীর হতাশা ও উদ্বেগের বিষয় হলো উচ্চ আদালতের নির্দেশনা উপেক্ষা করেও চলছে দখল-দূষণ। নদ-নদী রক্ষায় উচ্চ আদালতের নির্দেশ বাস্তবায়নও গতি পাচ্ছে না। উল্টো আদালতের নির্দেশ বাস্তবায়ন করতে গিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিতর্কে জড়াচ্ছে বলে খবর আসছে। গতকাল ভোরের কাগজের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঢাকার চারপাশের নদ-নদী দখলমুক্ত করতে গিয়ে নানা বিতর্কে জড়িয়ে পড়েছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডবিøউটিএ)। উচ্ছেদের সময় সিএস-আরএস ছাড়িয়ে অনেক বেশি, আবার কোথাও কম ভাঙার তথ্য পাওয়া গেছে।

বিতর্ক দেখা দিয়েছে সীমানা পিলার স্থাপন নিয়েও। এমন ঘটনা দুঃখজনক। জানা গেছে, বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, শীতলক্ষ্যা ও বালুÑ ঢাকার চারপাশের চার নদ-নদী বাঁচাতে ২০০৯ সালের ২৫ জুন হাইকোর্ট নির্দেশ দেন। নদী তীরবর্তী অবৈধ স্থায়ী ও অস্থায়ী স্থাপনা উচ্ছেদ, নদীর সীমানা নির্ধারণ করে সীমানায় পাকা খুঁটি বসানো, নদীর তীরে হাঁটার পথ নির্মাণ, নদীর তীরে বনায়ন করা, নদীগুলো খনন করা, নদীর তীরের জমি জরিপ করা, পানিপ্রবাহ বাড়ানোর জন্য নিয়মিত খননকাজ পরিচালনা করাসহ ১২টি নির্দেশনা দেন হাইকোর্ট। দীর্ঘ এই সময়ে নির্দেশনার পূর্ণ বাস্তবায়ন হয়নি। এছাড়া একাধিকবার নির্দেশ দানের পরও এখনো নদী তীরবর্তী অবৈধ স্থাপনা সরানো যায়নি। এর জন্য দায়ী কারাÑ এমন প্রশ্নও সামনে আসছে। ২০১৬ সালের নভেম্বরে তুরাগ নদ রক্ষায় সংশ্লিষ্টদের নিষ্ক্রিয়তা চ্যালেঞ্জ করে আরেকটি রিট করে এইচআরপিবি। এর চ‚ড়ান্ত শুনানি শেষে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থাসহ ১৭ দফা নির্দেশনাসহ রায় দেন হাইকোর্ট।

এরপরও কি কোনো অগ্রগতি হয়েছে? গবেষকরা জানিয়েছেন, প্রতি বছর গড়ে দশটি নদী তার অস্তিত্ব হারাচ্ছে। ইতোমধ্যে দখল ও দূষণের কারণে হারিয়ে গেছে ২৫টি নদী। বর্তমানে বিপন্ন নদীর সংখ্যা ১৭৪টি। এর মধ্যে ১১৭টি নদীর মরণদশা ঘনিয়ে এসেছে। এই চিত্র বদ্বীপটির কৃষি, যোগাযোগ, পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য, মানুষের জীবনযাত্রা সবকিছুর জন্যই ভয়াবহ হুমকিস্বরূপ। সংকট কোথায়? দখল-দূষণকারীরা কি এতই শক্তিশালী যে, রাষ্ট্রীয় সব উদ্যোগ তাদের কাছে অসহায়। নাকি সরকারের এ সংক্রান্ত কর্মকাÐের মধ্যে শিথিলতা রয়েছে। অভাব রয়েছে সংশ্লিষ্টদের দৃঢ়তায় ও সদিচ্ছায়। আমরা দেখছি, বিভিন্ন সময়ে সরকারের পক্ষ থেকে নদ-নদী মুক্ত করতে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করতে, কিন্তু বেশি দূর যাওয়ার আগেই তা আবার থেমেও যায়। আবার নিরবচ্ছিন্ন নজরদারির অভাবে অবমুক্ত স্থানে আবার গড়ে ওঠে অবৈধ স্থাপনা। আদালতের নির্দেশ বাস্তবায়ন সংশ্লিষ্টদের জন্য বাধ্যতামূলক। এখানে শৈথিল্যের কোনো সুযোগ নেই। যারা নদ-নদী দখল-দূষণের সঙ্গে জড়িত তারা হয়তো নানাভাবে শক্তিশালী, ক্ষমতা-ঘনিষ্ঠও। তাদের আমল দিলে চলবে না। নদ-নদী রক্ষা করতে হবে জাতীয় স্বার্থকে সব ধরনের ব্যক্তি ও গোষ্ঠী স্বার্থের ঊর্ধ্বে রেখে। দখলকারী-দূষণকারীদের শাস্তি দিতে হবে, নতুন করে দখল-দূষণ রোধে টেকসই ব্যবস্থা নিতে হবে। দখল উচ্ছেদ করতে গিয়ে যে বিতর্ক দেখছি এটার সমাধান বের করতে হবে। বৈধরা যেন অভিযানে ক্ষতিগ্রস্ত না হয় সেদিকেও নজর দিতে হবে।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়