আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত দৃঢ় হোক, রূঢ় হোক

আগের সংবাদ

আমাজন ফ্রেশ

পরের সংবাদ

অদ্ভূতুড়ে সব খাবার দোকান

প্রকাশিত: মার্চ ১৪, ২০২১ , ১২:৪৯ পূর্বাহ্ণ আপডেট: মার্চ ১৫, ২০২১ , ৫:৩৯ অপরাহ্ণ

রেপটাইল রেস্টুরেন্ট, কম্বোডিয়া

বিশ্বজুড়ে বিচিত্র রকমের মানুষ এবং তাদের কর্মকান্ডও বিচিত্র রকমের। যেসব বিষয় থেকে স্বাভাবিক ভাবে মানুষ দূরে থাকেন সেইসব নিয়েই হয়তো কারো একজনের নিত্য উঠাবসা। এই যেমন ঘরের মধ্যে সাপ, গিরগিটি দেখলে আপনি দু হাত লাফ দিয়ে সরে যান, অথচ কম্বোডিয়ায় গেলে আপনি লোকদের এদের পাশে নিয়ে বসে চা খেতে দেখবেন। বিষয়টি যতোটা রোমহর্ষক ততোটাই আবার বুদ্ধিদীপ্ত এবং অদ্ভুত।

কম্বোডিয়ায় এর পূর্বে ক্যাটস ক্যাফের ধারণা পুরাতন হলেও সরিসৃপ প্রাণীদের নিয়ে এই প্রথম গড়ে ওঠে একটি ক্যাফে যা রেপটাইল রেস্টুরেন্ট নামে পরিচিত। ভাবুন তো একবার, রেস্তোরায় বসে যখন কফির জন্য অপেক্ষা করছেন, তখন ওয়েটার এসে কফির পেয়ালার সাথে বয়াম থেকে বের করে একটি সাপ টেবিলে রাখলো!

ব্যাপারটা নিঃসন্দেহে রোমাঞ্চকর। চারপাশে সাপ, গিরগিটি, কচ্ছপ, ইগুয়ান, বিছা এমন প্রায় ২০ প্রজাতির সরিসৃপ প্রাণী বিভিন্ন টেবিলে দেখতে পাবেন। কেউবা গলায় সাপ পেছিয়ে বসে বসে কফি খাচ্ছে কিংবা একটা কাকড়াবিছা বা গিরগিটির সাথে সেল্ফি তুলছে! কেউবা দেখবেন ইগুয়ানাদের কোলে নিয়ে সময় কাটিয়ে দিচ্ছে দারুণ ফ‚র্তিতে।

ব্যতিক্রমি এবং অভিনব এই ক্যাফে চালু করেন কম্বোডিয়ার অধিবাসি ‘চি রেতি’। সরিসৃপ প্রাণীর প্রতি তার ভালোবাসাই এই ক্যাফে খুলতে তাকে উদ্ভুদ্ধ করে। ক্যাফের দেয়ালে বিভিন্ন বয়ামে বয়ামে সাজানো আছে ভিন্ন ভিন্ন প্রজাতির সাপ সহ এইসব প্রাণী। এখানে এছাড়াও আছে একটি আমেরিকান কাকাতুয়া। এই রেস্টুরেন্টে প্রবেশে কোন টিকেট এর প্রয়োজন হয় না।

বার্ডস নেস্ট রেস্টুরেন্ট, থাইল্যান্ড

থাইল্যান্ডের সোনেভা কিরি ইকো রিসোর্টে অবস্থিত এ রেস্টুরেন্টটিতে খাওয়ার অভিজ্ঞতা নাকি সারা জীবনে ভোলা যায় না! নাম দেখেই নিশ্চয় বুঝতে পারছেন, রেস্টুরেন্টটি পাখির সাথে সম্পর্কিত। সত্যিই তাই! বার্ড’স নেস্ট রেস্টুরেন্টটি গাছের ওপর পাখির বাসার আদলে তৈরি এবং এখান থেকে চারপাশের একটি ‘বার্ড’স আই’ ভিউও পাওয়া যায়। এখানে গোর্মে মিলগুলো পরিবেশন করতে যারা আসবেন, তারা ছুটে আসবেন জিপলাইনে চড়ে। সব মিলিয়ে, পাখির নীড়ে বসে খাবারের স্বাদ নেয়ার বিচিত্র এক অভিজ্ঞতা হবে।

জিরাফ ম্যানর, কেনিয়া

নাইরোবির জিরাফ সংরক্ষণশালার পাশেই এটি অবস্থিত। আদতে এটি একটি অভিজাত বুটিক হোটেল, তবে এর ডাইনিং হলে ব্রেকফাস্ট-লাঞ্চ-ডিনারের অভিজ্ঞতা হতে পারে ভীষণ রকম অদ্ভুত! ১৯৩২ সালে নির্মিত এ স্কটিশ হান্টিং লজটি রথশিল্ড জিরাফের অভয়ারণ্য তৈরির উদ্দেশ্যে কিনে নেন অ্যামেরিকান কনজারভেসনিস্ট (সংরক্ষণবাদী) বেটি লেজলি-মেলভিল। পরবর্তীতে তার ছেলে এটিকে বুটিক হোটেলে রুপান্তরিত করেন। এ হোটেলের ডাইনিং হলে প্রায়ই দেখা যায় খাবারের সন্ধানে জানালা দিয়ে মাথা গলিয়ে দিয়েছে বুনো জিরাফ। অদ্ভুত সুন্দর এ দৃশ্যটি মন ছুঁয়ে যাওয়ার মতোই!

কোথাও খাবারের স্বাদ নেয়া যায় সাগরের তলদেশে বসে, আবার কোথাও সে সুযোগ হয় গাছের উঁচু ডালে। কোথাও রেস্তোরায় ঘুরে বেড়াচ্ছে ওয়েটার রূপী বানর, আবার কোথাও এসে উঁকি দিয়ে যায় বুনো জিরাফের দল।

ইথা রেস্টুরেন্ট, মালদ্বীপ

কনর‌্যাড মালদ্বীপে অবস্থিত রাঙ্গালি রিসোর্টের ইথা রেস্টুরেন্টটির খাবার অন্যান্য ফিউশন রেস্টুরেন্টের মতোই। তবে সেই খাবার খেতে সমুদ্রের তলদেশে ১৬ ফিট গভীরে যেতে হবে আপনাকে! ছাদ ও দেয়াল হিসেবে সাগরতলের এ রেস্টুরেন্টে ব্যবহৃত হয়েছে কাঁচ। তাই খাবার খেতে খেতে অতিথিরা দেখতে পান সাগরের অতলে ভেসে বেড়ানো মাছের ঝাঁক, সবুজ কোরালের অসাধারণ সৌন্দর্য। তবে সেইসাথে ইথা রেস্টুরেন্টে আপনি মুখরোচক খাবার ও ভালো সার্ভিসও পাবেন।

চিলআউট আইস লাউঞ্জ, দুবাই

গরম, রুক্ষ-শুষ্ক আবহাওয়ার জন্য বিখ্যাত মধ্যপ্রাচ্যের দুবাই শহর। কিন্তু, এখানেই চারপাশের পরিবেশ ভুলে গিয়ে গড়ে উঠেছে বরফের তৈরি এক খাবার ঘর। এ অদ্ভুত রেস্টুরেন্টে প্রবেশের সময় অতিথিদের দেয়া হয় জ্যাকেট, হাতমোজা, জুতা ও টুপি। কারণ, ভেতরে যে হাড় কাঁপানো শীত! ভেতরের সবকিছু বরফের তৈরি, এমনকি চেয়ার-টেবিলও! শুভ্র তুষার আর স্নিগ্ধ আলোকসজ্জার চিলআউট আইস লাউঞ্জ যেন মূহুর্তেই ভিন্ন জগতে পৌছে দেয়।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়