গেরিলাযোদ্ধা থেকে অভিনেতা আসাদ

আগের সংবাদ

সরগরম মঞ্চপাড়া

পরের সংবাদ

জ্যোতির বই পড়া

প্রকাশিত: মার্চ ১৩, ২০২১ , ১২:৪৭ পূর্বাহ্ণ আপডেট: মার্চ ১৩, ২০২১ , ১২:৪৭ পূর্বাহ্ণ

বই মানুষকে আলোকিত করে। অনেকের কাছে বই পড়া মানে বেঁচে থাকার অবলম্বন। একাকী মনকে সাহস জোগানোর হাতিয়ার। সম্প্রতি বই পড়া নিয়ে মেলার সঙ্গে কথা বলেছেন অভিনেত্রী জ্যোতিকা জ্যোতি
বই পড়ার নেশা
বই পড়ার নেশা ছোটবেলা থেকেই ছিল। এটাই আমার মূল নেশা। তবে মধ্যে অনেকটা দিন বইয়ের সঙ্গে সম্পর্কটা কমে গিয়েছিল। খুব জরুরি না হলে পড়তাম না। এখন আবারো পড়ছি। পড়ুয়া কিছু মানুষের সঙ্গে মেশার সুবাদে কিংবা নিজের কাজের প্রয়োজনে। আমাদের শুটিংয়ে পড়ার কালচার একদমই নেই, যে কারণে বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছিলাম। বছরখানেক ধরে আবারো বই পড়তে শুরু করেছি। একটা কৃষি খামার শুরু করছি। কৃষি নিয়ে কিছু করার চেষ্টা করছি। এ সম্পর্কে পড়াশোনা না করে তো কাজ করা সম্ভব না। যেহেতু আমার সঙ্গে কোনো হ্যান্ডস নেই, তাই আমকে বই পড়তে হচ্ছে প্রচুর।
সাম্প্রতিক পাঠ
অনেক বই একসঙ্গে পড়ছি। তার মধ্যে রয়েছে জয়নাল আবেদীন খানের ‘বঙ্গাব্দ’, দ্রাবিড় সৈকতের ‘বয়াংসি চরকায় লাঙল কাব্য’, ড. হুমায়ুন কবীরের ‘কৃষি ও পরিবেশ : বৈশি^ক প্রেক্ষাপট’, সুশীল কুমার মুখোপাধ্যায়ের ‘মাটি’, ডা. ক্ষীরোদ রায়ের ‘বাংলাদেশের কৃষির বিস্ময়কর উন্নয়নগাথা’, সম্পদ রঞ্জন পাত্রের ‘সুস্থায়ী কৃষি ও সক্ষমতা’, মোকারম হোসেনের ‘ছয় রঙের বাংলাদেশ’। সব বই-ই এত মজা লাগছে যে কোনটা রেখে কোনটা শেষ করব, তাই একটা রেখে আরেকটা পড়ছি। এছাড়া রয়েছে পূর্ণিমা দেবীর লেখা ‘ঠাকুর বাড়ির গগন ঠাকুর’ নামে একটা বই। এটা কিছুদিন পর শুরু করব।
সিনেমা বিষয়ক
মধ্যে একটা সিনেমা বানানোর প্ল্যান থেকে অনেক উপন্যাস পড়েছি। আমি একটু শহুরে গল্পের রোমান্টিক ধাঁচের উপন্যাস খোঁজছিলাম। সেখানে আমি প্রায়োরিটি দিচ্ছিলাম আমাদের দেশীয় লেখকদের। যে উপন্যাস বা গল্পগুলো থেকে সিনেমা হতে পারে, এ রকম। তারপর একটা সিলেক্ট করা হয়েছে, সেটার নাম এখন বলতে চাই না। বছর খানেক ধরে বঙ্গবন্ধু, কৃষি ও সিনেমার জন্য রোমান্টিক উপন্যাসÑ সব মিলিয়ে প্রায় শ’খানেক বই পড়েছি।
প্রথম বই পড়ার স্মৃতি
প্রথম বই পড়ার গল্প যদি বলি, তবে মায়ের কথা মনে পড়ে। তার কাছ থেকেই মূলত বই পড়ার অভ্যাসটা শেখা। মা যখন অংক পড়াত বা ছোটবেলায় তো কবিতা মুখস্থ করতে হতো আমাদের; যেমন ‘আয় ছেলেরা আয় মেয়েরা’ বা ছোটদের ছড়া। এছাড়া ছোট আমের গুটি বা সুপারি ফুল কুঁড়িয়ে আনতে বলতেন মা। যোগ-বিয়োগ শেখাতেন আমাকে, গোনার জন্য সেগুলো কুড়িয়ে আনতাম। এসব ঘটনা স্কুলে ভর্তি হওয়ার আগে। এছাড়া আমার দাদুর (মায়ের বাবা) সঙ্গে বসে গল্প শোনতাম। বলা যায়, তিনি একজন স্কলার। অন্যদিকে বাবা একজন শিক্ষক, কাকা পড়াশোনা করতেন। তাদের কাছে গল্পের বই থাকত, সেগুলো লুকিয়ে লুকিয়ে পড়তাম। নয়তো বকা শুনতে হতো।
দাগকাটা গল্পগুলো
প্রাইমারিতে যখন পড়ি, তখন দস্যু বনহুর বা মিসরের পিরামিডের গল্প, শরৎচন্দ্র কিংবা মীর মোশাররফ হোসেন বা কাজী নজরুলÑ তাদের বই পড়েছি। এছাড়া নিজের একাডেমিক নতুন বই হাতে পেলে বইয়ের ঘ্রাণ শুকতাম। আর যেহেতু সাহিত্য আমার পাঠ্য ছিল, সেটার ওপর অনেক বিশ্লেষণ হতো। অনেক গল্পের সঙ্গে কানেক্ট করার চেষ্টা করতাম। নির্দিষ্ট করে এমন কিছু এই মুহূর্তে মনে পড়ছে না। ছোটবেলায় বেগম রোকেয়ার বই, আবু ইসহাকের ‘জোঁক’ নামে একটা গল্প ছিল আমাদের, মদনমোহন তর্কালঙ্কারের ‘কাজলা দিদি’ কবিতাÑ এগুলোর কথা খুব মনে পড়ে। এছাড়া বাল্যশিক্ষা নামে একটা বই ছিল। রানী ভিক্টোরিয়ার ছবি আঁকা। ওইটা খুবই দাগ কাটার মতো একটা বই, পারিবারিক সূত্রে পেয়েছিলাম। এখনো বইটি খুঁজি।
প্রিয় বই
আমি সবই পড়ি। প্রবন্ধ-গবেষণা বা উপন্যাস-কবিতা; কোনো কিছুই বাকি থাকে না। তবে কিছু বই আছে যেগুলো মানহীন বা জোর করে গঁছিয়ে দেয়া হয় সেগুলো বিরক্তিকর। এছাড়া আমি যে বইগুলো খুঁজে বের করি, সেগুলো আগ্রহ নিয়ে পড়ি। সব ধরনের বই পড়তেই ভালো লাগে। এমনকি যখন ছোটবেলায় গ্রামে ছিলাম, তখন যখন বাজার করে নিয়ে আসত মিষ্টি বা কোনো কাগজের প্যাকেট, যেখানে পত্রিকার টুকরো থাকত সেগুলোও পড়তাম।
:: অনুলিখন : রাব্বানী রাব্বি

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়