মাদ্রাসা শিক্ষায় কেন এই নৃশংসতা?

আগের সংবাদ

গেরিলাযোদ্ধা থেকে অভিনেতা আসাদ

পরের সংবাদ

চেতনায় বঙ্গবন্ধু

প্রকাশিত: মার্চ ১৩, ২০২১ , ১২:৪২ পূর্বাহ্ণ আপডেট: মার্চ ১৩, ২০২১ , ১২:৪২ পূর্বাহ্ণ

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবর্ষ পূর্ণ হতে যাচ্ছে আগামী ১৭ মার্চ। বাঙালি জাতি, বঙ্গবন্ধু এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতা একই সুতোয় গাঁথা। পদ্মা-মেঘনা-যমুনাপারের মহান নেতা বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে শোবিজ অঙ্গনের কয়েকজন তারকার ভাবনা তুলে ধরে মেলার এ প্রতিবেদন। লিখেছেন শাকিল মাহমুদ

বঙ্গবন্ধুর মতো দ্বিতীয়জন নেই
বৃন্দাবন দাস, চিত্রনাট্যকার ও অভিনেতা
বঙ্গবন্ধুর মতো মহান নেতা, একজন দেশপ্রেমিক, ত্যাগী ও আদর্শবান ব্যক্তি ভারতীয় উপমহাদেশে দ্বিতীয়জন নেই। তার ধারের কাছেও কেউ আসতে পারেনি সে সময়ে। ভবিষ্যতেও আসবে কিনা সন্দেহ। বঙ্গবন্ধু ধ্রুবতারার মতো আমাদের কাছে এসেছিলেন, কিন্তু নিমর্মভাবে খুন হন। তিনি ছিলেন একজন বাতিঘর। একজন ব্যক্তিকে তিনি যেমন এগিয়ে যেতে শিখিয়েছেন তেমনই একটি দেশকে এগিয়ে নিতে, উন্নয়নশীল করতে দেখিয়েছেন। তিনি ছিলেন পথিকৃৎ। বঙ্গবন্ধুর আদর্শ, চিন্তা, বোধশক্তি ছিল সবার ঊর্ধ্বে। তিনি অত্যন্ত বিচক্ষণ ছিলেন। তার জন্যই আমরা আজ স্বাধীন দেশে বসবাস করছি। শুধু রাজনৈতিকভাবে তাকে মূল্যায়ন করলেই হবে না, তাকে নিরপেক্ষভাবে সব কিছুর ঊর্ধ্বে রেখে শ্রদ্ধা করা উচিত। স্বাধীনতার পরাজিত শক্তিরা বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে সমালোচনা করেন। কিন্তু বঙ্গবন্ধু ছাড়া জাতি হিসেবে আমরা কখনোই বিশ্বের বুকে মাথা তুলে দাঁড়াতে পারতাম না। এদিকে এই প্রাজিত শক্তিই বঙ্গবন্ধুকে নির্মমভাবে খুন করে, আমাদের অগ্রযাত্রাকে থমকে দিতে চেয়েছে। কিন্তু আমরা থমকে যাইনি, কারণ আমরা বঙ্গবন্ধুর আদর্শে উজ্জীবিত। বঙ্গবন্ধুকে একটি দিনে সম্মান করলে, তার আদর্শ নিয়ে কথা বললে হবে না। তার সব গুণাবলি আমাদের মধ্যে তৈরি করতে হবে। তরুণ প্রজন্মের কাছে বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক দর্শন, সংগ্রামী জীবন তুলে ধরতে হবে।

শিকড়কে ভুলে কেউ টিকে থাকতে পারে না
ফারজানা ছবি, অভিনেত্রী
আমাদের একটি পারিবারিক লাইব্রেরি রয়েছে। যেখানে আমার বাবা অনেক বই সংগ্রহ করে রেখেছেন। যার মধ্যে বঙ্গবন্ধুকে নিয়েও অসংখ্য বই রয়েছে। যেগুলোর মাধ্যমে আমার বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে পরিচয় হয়। একটা মানুষ অতি সাধারণ হয়েই কিভাবে অসাধারণ হয়ে উঠেন তা বঙ্গবন্ধুকে দেখে জেনেছি, বুঝতে পেরেছি এবং এই মানুষটার প্রতি আমার ভালো লাগা, ভালোবাসা তৈরি হয়েছে। একজন মানুষ সন্তানের কাছে বাবা, স্ত্রীর কাছে স্বামী, মা-বাবার কাছে সন্তান এবং রাষ্ট্রের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন দায়িত্বশীলভাবে। এই যে একটা মানুষের মাঝে এতগুলো গুণ এগুলো আমাকে বারবার বঙ্গবন্ধুর প্রেমে পড়তে বাধ্য করেছে। অভিনয়ের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার ফলে বিভিন্ন সময়ে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে নির্মিত নাটকে, সিনেমায় কাজ করতে হয়েছে। সে সময়ে আরো বিশদভাবে জেনেছি তাকে। তার সংগ্রামী জীবন, রাজনৈতিক প্রজ্ঞা জেনেছি আর বিস্মিত হয়েছি! বিশ্বের একজন মহান নেতা হয়ে উঠতে যে গুণগুলো দরকার তা বঙ্গবন্ধুর ছিল বলেই তিনি মহান নেতা, শ্রেষ্ঠ বাঙালী হতে পেরেছিলেন। এ সময়ে বিভিন্নভাবে বঙ্গবন্ধুর সম্পর্কে তরুণ প্রজন্মকে জানানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। নাটক, সিনেমা, বই ছাড়াও বিভিন্ন আলোচনা, সেমিনার করে জানানো হচ্ছে তার জীবন সম্পর্কে। আমি মনে করি তরুণ প্রজন্মের এসবের প্রতি আগ্রহী হওয়া উচিত। নিজের শিকড়কে ভুলে কেউ কখনো টিকে থাকতে পারে না। ফলে বঙ্গবন্ধুকে জানতে হবে, তার সংগ্রামকে জান্তা হবে।

সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বঙ্গবন্ধুকে
প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে হবে
কুসুম শিকদার, অভিনেত্রী
আমার জন্মের সময়ে আজকের মতো এত আধুনিক, সহজলভ্য জিনিস ছিল না। সব কিছু জানার জন্য একমাত্র মাধ্যম বিটিভি ছিল। তবে আমি বঙ্গবন্ধুকে জানতে পারি আমার পরিবারের কাছ থেকে। আমার পরিবার বঙ্গবন্ধুর আদর্শে অনুপ্রাণিত একটি পরিবার। আমার বাবা, দাদার কাছ থেকেই বঙ্গবন্ধু, ৭ মার্চ, মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে জানা। বাংলাদেশে ’৭৫-পরবর্তী সময়ে রাজনীতির বিবর্তন হয়েছে অনেক, এখনো হয়েছে। কিন্তু আমি মনে করি যে সরকারই আসুকÑ বঙ্গবন্ধুকে সঠিকভাবে প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা প্রত্যেকেই দায়িত্ব। কেননা তিনি রাজনৈতিকভাবে একটি আদর্শের বিশ্বাসী ছিলে, সেখানে মত পার্থক্য থাকতেই পারে। কিন্তু তিনি এদেশের মুক্তির জন্য লড়াই করেছেন, জেলে গিয়েছেন এমনকি এদেশের মানুষের জন্য লড়াই করার জন্যই তাকে খুন হতে হয়! ফলে বঙ্গবন্ধুকে প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। এখন কথা হচ্ছে, আজকের প্রজন্ম বঙ্গবন্ধুকে, মুক্তিযুদ্ধকে কতটা জানতে চায়? তারা বিভিন্ন বিষয় নিয়ে এত ব্যস্ত যে তাদের এ বিষয় নিয়ে কোনো আগ্রহ নেই। সেক্ষেত্রে আমাদের রাষ্ট্র ব্যবস্থার উচিত এ প্রজন্ম যেভাবে বিভিন্ন বিষয় জানছে সেভাবেই বঙ্গবন্ধুকে, মুক্তিযুদ্ধকে জানানো ব্যবস্থা করতে হবে। অর্থাৎ তরুণ প্রজন্মের মতো করেই তাদের কাছে আমাদের ইতিহাসকে তুলে ধরতে হবে।

নতুন প্রজন্মের প্রয়োজন নিজের
ইতিহাসকে জানা
এ বি এম সুমন, অভিনেতা
বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে আমার পরিচয় ঘটে একেবারে ছোটবেলাতেই। যেহেতু আমার বাবা আওয়ামী লীগের রাজনীতি করতেন সেহেতু ছোটবেলাতেই বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে পরিচয় হওয়ার সুযোগটা হয়। আমাদের বাড়িতে বঙ্গবন্ধুর পোস্টার ছিল, সেখান থেকে তার সঙ্গে পরিচয়। এছাড়া আমি আর্টসের স্টুডেন্ট ছিলাম, ইতিহাস পড়ার প্রতি ভীষণ রকমের ঝোঁক ছিল। সেখান থেকেও বঙ্গবন্ধু, তার রাজনৈতিক জীবন দর্শন সম্পর্কে জানতে পারি। একজন মানুষ ছোটবেলা থেকেই মানুষের অধিকার নিয়ে ভাবছেন, তা নিয়ে সংগ্রাম করছেনÑ এসব বিষয় ভাবলে এক ভিন্ন রকমের অনুভূতি জন্মায়। এবং তার প্রতি শ্রদ্ধা ভীষণভাবে বেড়ে যায়। একটা মানুষ জীবনের সবচেয়ে মধুর সময়গুলো মানুষের কথা ভেবে, জেল খেটে পার করে ফেললেন! এটা তো সবাই পারে না। তাছাড়া বঙ্গবন্ধু কেবল বাংলাদেশের মানুষ, রাজনীতি নিয়েই ভাবেননি। তিনি বৈশ্বিক রাজনীতি নিয়েও ভেবেছেন। ফলে তিনি বিশ্বের একজন মহান নেতা এমনকি একজন সেরা বাঙালি হিসেবে নিজেকে বিশ্ব দরবারে নিজেকে পরিচয় করিয়ে দিতে পেরেছিলেন। নতুন প্রজন্মের প্রয়োজন নিজের ইতিহাসকে জানা। সে জায়গা থেকে বঙ্গবন্ধুর ছোটবেলা থেকে তার রাজনৈতিক দর্শন এবং তার খুন হওয়াÑ সব কিছুকেই ভালোভাবে জানা। সেক্ষেত্রে অবশ্যই রাষ্ট্রীয় সহায়তা প্রয়োজন। পরিপূর্ণ ও সঠিকভাবে বঙ্গবন্ধুকে তুলে ধরতে পারলে নতুন প্রজন্মও সঠিকভাবে ইতিহাস জানতে পারবে। বঙ্গবন্ধুকে জানতে পারবে।

ছোটবেলা থেকেই বঙ্গবন্ধু
সম্পর্কে জানা উচিত
ইরফান সাজ্জাদ, অভিনেতা
খুব ছোটবেলাতেই বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে পরিচয় হয়। কিন্তু ঠিক কোনো সময়ে সেটা ¯পষ্ট করে বলা সম্ভব নয়। তবে পাঠ্যপুস্তকের মাধ্যমেই পরিচয়টা ঘটে। আমি ব্যক্তিগতভাবে কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত নই। তবুও আমি বঙ্গবন্ধুর অনেক বড় একজন ফ্যান। তার লড়াই, সংগ্রাম, জেল জীবনসহ রাজনৈতিক প্রজ্ঞা সব মিলিয়ে তিনি আমাকে তার ভক্ত করে নিয়েছেন। তাছাড়া তার ৭ মার্চের ভাষণ শুনলেই কেমন একটা অনুভূতি হয়! শরীর লোম খাঁড়া হয়ে যায়! একজন মানুষ এত মানুষের সামনে দাঁড়িয়ে, পূর্ব প্রস্তুতি ছাড়া এমন সাহস নিয়ে লড়াইয়ের কথা বলছেন! একেবারে নির্লোভ সে কথাগুলোÑ আমি প্রধানমন্ত্রিত্ব চাই না/আমি মানুষের স্বাধীনতা চাই… সবার দ্বারা এমন সাহসী কথা বলা সম্ভব নয়। আমরা বঙ্গবন্ধুকে চিনি, জানি বাঙালি জাতির পিতা হিসেবে। কিন্তু তিনি কিভাবে জাতির পিতা হলেন তা কিন্তু আমরা ছোটবেলা থেকে জানছি না। আমরা যারা বড় হয়ে তাকে নিয়ে জানার আগ্রহ প্রকাশ করছি তারা বিভিন্ন বই, ডকুমেন্টেশন থেকে জানছি তার সংগ্রামী জীবনের কথা। ছোটবেলা থেকে, কেবল মাত্র পাস করার জন্য জাতির পিতার কথা না জানিয়ে ইন্টারেস্টিংভাবে বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক জীবন স¤পর্কে জানানো প্রয়োজন। তিনি কীভাবে অজোপাড়া গাঁ থেকে বিশ্বের একজন মহান নেতা হয়ে উঠলেন সেটা ছোটবেলা থেকেই শিশুদের মননে গেঁথে দেয়া উচিত। যে মানুষটা না জন্ম নিলে বাঙালি জাতির জন্ম হতো কিনা সন্দেহ সে মানুষটাকে আরো গভীরভাবে তরুণ প্রজন্মকে জানাতে হবে, তরুণ প্রজন্মকেও জানতে হবে।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়