ফোর্বসের তালিকায় নেটফ্লিক্সের সেরা ১০ সিনেমা

আগের সংবাদ

অক্সফোর্ডের টিকা শরীরে রক্ত জমাট বাঁধার প্রমাণ নেই: ডব্লিউএইচও

পরের সংবাদ

অভিযানে ক্ষতিগ্রস্ত বৈধরাও!

প্রকাশিত: মার্চ ১৩, ২০২১ , ৮:৫৭ পূর্বাহ্ণ আপডেট: মার্চ ১৩, ২০২১ , ৯:০২ পূর্বাহ্ণ

ঢাকার চারপাশের নদনদী দখলমুক্ত করতে গিয়ে নানা বিতর্কে জড়িয়ে পড়েছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)। সিএস ও আরএস জরিপের মধ্যে যেটি অনুসরণ করলে নদীর স্বার্থ বেশি রক্ষা পায়- তেমন সীমানা ধরে অভিযানের নির্দেশনা ছিল উচ্চ আদালতের। কিন্তু উচ্ছেদের সময় সিএস-আরএস ছাড়িয়ে অনেক বেশি, আবার কোথাও কম ভাঙার তথ্য পাওয়া গেছে। বিতর্ক দেখা দিয়েছে সীমানা পিলার স্থাপন নিয়েও। তীরভ‚মির (ফোরশোর) সঠিক ম্যাপ না দেখানোয় উচ্ছেদের প্রকৃত সীমা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন স্থানীয়রা।

১৯৯৮ সালের শেষ দিকে বাংলাদেশ পরিবেশ আইনজীবী সমিতির (বেলা) একটি রিটকে কেন্দ্র করে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার প্রথম বুড়িগঙ্গাকে দখলমুক্ত করার পরিকল্পনা হাতে নেয়। তবে উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয় ২০০১ সালে, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে। তখন বুড়িগঙ্গার দুই তীরে সারি সারি বাঁশখুঁটির কলোনি ঘর, প্রভাবশালীদের দালানকোঠা, কেরানীগঞ্জ জেলা প্রশাসনের মার্কেট, সেনাকল্যাণ সংস্থার দখলসহ বিভিন্ন স্থাপনা ছিল। ঢাকা জেলা প্রশাসনের করা তালিকা অনুযায়ী বিআইডব্লিউটিএ অভিযান চালায়। নদী রক্ষার ওই পদক্ষেপ পরিবেশকর্মী, সাধারণ মানুষ ও গণমাধ্যমে ব্যাপক প্রসংশিত হওয়ায় পরবর্তী সব সরকারই উচ্ছেদের ধারাবাহিকতা বজায় রাখে। ২০০৪ সালে বাড়ানো হয় ঢাকা নদীবন্দরের সীমা। বুড়িগঙ্গার পাশাপাশি তুরাগ, বালু ও শীতলক্ষ্যাকেও অভিযানের আওতায় আনা হয়।

একপর্যায়ে নদনদীর সীমানা নির্ধারণ ও পিলার স্থাপন নিয়ে বিতর্ক দেখা দেয়। আইনজীবী মনজিল মোরশেদ হিউম্যান রাইটস এন্ড পিস ফর বাংলাদেশ নামে একটি সংগঠনের পক্ষে বিষয়টি উচ্চ আদালতের নজরে আনেন। ওই রিটের (৩৫০৩/২০০৯) পরিপ্রেক্ষিতে উচ্চ আদালত বেশ কিছু পর্যবেক্ষণসহ যে রায়টি দেন, সেটিকেই এখন ৪ নদী রক্ষার মূল ভিত্তি ধরা হচ্ছে। এছাড়া ২০১৬ সালের আরেকটি রিটের (১৩৯৮৯) আদেশে তুরাগকে জীবন্ত সত্ত¡া ঘোষণা করা হয়। নদীরক্ষার জন্য ওই রিটের ১৭ দফা নির্দেশনাও অনুসরণ করেন সংশ্লিষ্টরা।

সমস্যার শুরু যেখানে : ২০০১ সালে যখন প্রথম উচ্ছেদ শুরু হয়, তখন অনেকটা খালি চোখেই নদীর দখল বোঝা যেত। কারণ ১৯০৮ সালের বন্দর আইন অনুযায়ী নদীর তীরভ‚মিতে থাকা স্থাপনাগুলো অবৈধ। ‘অরডিনারি স্প্রিং টাইডস’ বা স্বাভাবিক জোয়ারে নদীর পানি যেখানে পৌঁছায় সেটাকে বলা হয় ‘হাই-ওয়াটার মার্ক’ বা উচ্চ জলসীমা। আর ভাটায় পানি যতটুকু নেমে যায় সেটি ‘লো-ওয়াটার মার্ক’। এর মাঝখানের স্থানটুকুই নদীর ‘তীরভ‚মি’। সেখানে উচ্ছেদ চালাতে পারে বিআইডব্লিউটিএ। অন্যদিকে উচ্চ জলসীমার পর ৫০ গজ পর্যন্ত হচ্ছে ‘বন্দর সীমা’। এখানে ব্যক্তি মালিকানাধীন জমিও থাকতে পারে, যা উচ্ছেদের এখতিয়ার নেই সংস্থাটির। তাই উচ্ছেদের সময় নদীর তীরভ‚মি ও বন্দর সীমার হালনাগাদ ম্যাপ ও জমির তফসিল জরুরি হয়ে পরে।

কিন্তু দেখা যায়, দিয়ারা জরিপের মাধ্যমে কখনো নদীর ম্যাপই প্রস্তুত করেনি ভ‚মি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তর। নদীতে জেগে ওঠা জমি ব্যক্তি মালিকানায় রেকর্ড হয়েছে। খাজনাপত্রও চালু করেছে জেলা প্রশাসন। গড়ে উঠেছে স্কুল-কলেজ, বিদ্যুতের সাব-স্টেশন, কলকারখানা, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, বাড়িঘর প্রভৃতি। অথচ ১৯৫০ সালের স্টেট একুইজিশন এন্ড টেনেন্সি অ্যাক্ট অনুযায়ী এমন জমি সরকারের খাস খতিয়ানে অন্তর্ভুক্ত করার কথা। সময় মতো জেলা প্রশাসন কাজটি সমন্বয় না করায় জটিলতা বাড়ে।

সমাধানের উদ্যোগ : ২০০৫ সালে ঢাকা যৌথ জরিপের মাধ্যমে বুড়িগঙ্গা ও তুরাগের ফোরশোর ম্যাপ তৈরি করা হয়। সেটি নিয়ে আপত্তি ওঠে। ২০০৯ সালে রিট করেন আইনজীবী মনজিল মোরশেদ। ২৪ ও ২৫ জুন রিটের আদেশে সিএস ও আরএস ম্যাপের মধ্যে যেটিতে নদীর স্বার্থ বেশি রক্ষা পায় সে অনুযায়ী নদী উদ্ধারের নির্দেশ দেন উচ্চ আদালত। সে আলোকে ২০১২ সালে জেলা প্রশাসন, গণপূর্ত বিভাগ, ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তর, বিআইডবিøউটিএসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো আবারো যৌথ জরিপের মাধ্যমে নদীর তীরভ‚মির লে-আউট প্রস্তুত করে। গণপূর্ত বিভাগের মাধ্যমে পিলার স্থাপনের কাজ শুরু হয়। সেখানে বেশ কিছু পিলারের অবস্থান নিয়ে আপত্তি তোলে বিআইডব্লিউটিএ। পিলারগুলোর নতুন করে জরিপ ও গ্লোবাল পজেশনিং সিস্টেমের (জিপিএস) মাধ্যমে অবস্থান নির্ণয়ের সিদ্ধান্ত হয় নদীরক্ষা সংক্রান্ত টাস্কফোর্সের ৩১ ও ৩২তম সভায়। ২০১৬ সালে সংশ্লিষ্ট মৌজার এসিল্যান্ডকে আহ্বায়ক করে কমিটি গঠন করে আবারো যৌথ জরিপ শুরু হয়। জরিপ, আপত্তি ও উচ্ছেদের কাজগুলো চলতে থাকে।

ভিন্ন পথে বিআইডব্লিউটিএ : কিন্তু এরই মধ্যে বুড়িগঙ্গা, তুরাগ ও শীতলক্ষ্যায় সীমানা পিলার স্থাপন ও ওয়াকওয়ে নির্মাণ সংক্রান্ত একটি প্রকল্প (দ্বিতীয় ফেইজ) হাতে নেয় বিআইডব্লিউটিএ। সেখানে ধরেই নেয়া হয়, নদীর তীরে পর্যাপ্ত জমি রয়েছে। তাই জমি অধিগ্রহণের কোনো ব্যয় ধরা হয়নি প্রকল্পে। অথচ যৌথ জরিপে দেখা যায়, নদীর তীরে কোথাও কয়েকশ ফুট অবৈধ দখল থাকলেও কোথাও তীরভ‚মির ব্যাপ্তি মাত্র কয়েক ফুট। কেরানীগঞ্জের মান্দাইল, জিনজিরাসহ বিভিন্ন এলাকায় নদীভাঙনের শিকারও হয়েছেন অনেক মানুষ। এসব কারণে সঠিক জরিপের আগে সবাইকে ঢালাওভাবে দখলদার বলা ন্যায়সঙ্গত হবে না বলে মত দেয় জাতীয় নদীরক্ষা কমিশন।

এদিকে নদীরক্ষার কৃতিত্ব ঘরে তুলতে মরিয়া হয়ে ওঠে বিআইডবিøউটিএ। মন্ত্রণালয়ের অকুণ্ঠ সমর্থন পায় সংস্থাটি। ব্যাপকভাবে উচ্ছেদ অভিযান শুরু হলে মাঠ পর্যায়ের কিছু কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ ওঠে।

অন্য সংস্থাগুলোর সঙ্গে দূরত্ব : বিআইডব্লিউটিএর অভিযানকে ‘একতরফা’ উল্লেখ করে ২০২০ সালের ১২ জানুয়ারি এক চিঠিতে জাতীয় নদীরক্ষা কমিশনের কাছে অসন্তোষের কথা জানান ঢাকার জেলা প্রশাসক। আরেক চিঠিতে ঢাকার তৎকালীন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) কমিশনকে জানান, প্রতি বছর ১৭ লাখ ৪ হাজার ১১৪ টাকা ‘সেলামি’ মূল্যে ঢাকা জেলা প্রশাসনের কাছ থেকে বুড়িগঙ্গা ও তুরাগের তীরভ‚মি ইজারা নেয়া বিআইডব্লিউটিএর। সে অনুযায়ী আদালতের রায়, জমির তফসিল ও নকশা ধরে যৌথ জরিপের মাধ্যমে উচ্ছেদের তালিকা করছে জেলা প্রশাসন। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে এর ব্যক্তিক্রম ঘটিয়ে উচ্ছেদের অভিযোগ আসছে। ২০১৯ সালের ২১ জুলাই ও ১৯ আগস্টে অনুষ্ঠিত নদীরক্ষা কমিশনের সভার কার্যবিবরণীতে দেখা যায়, ওয়াকওয়ে প্রকল্পের এখতিয়ার, ধরন ও সীমানা পিলার স্থাপন নিয়ে প্রশ্ন তোলেন বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিরা। কমিশনের জানুয়ারি মাসের সভায় সিদ্ধান্ত হয়, উচ্চ জলসীমায় সীমানা পিলার স্থাপন, প্রতিটির গায়ে নদীর নাম, পিলার নম্বর ও জিপিএস রিডিং লেখা থাকতে হবে। কিন্তু কোনো পিলারের গায়েই জিপিএস রিডিং না লেখায় সেগুলো যাচাই করা নিয়ে বিতর্ক দেখা দেয়।

অভিযোগের পাহাড় : ২০১৯-২০ সালে শতাধিক অভিযোগ জমা পড়ে বিআইডব্লিউটিএ। উচ্ছেদ নিয়ে এত অভিযোগ আগে কখনো জমা পড়েনি সংস্থাটিতে। মামলা-মোকাদ্দমাও হয় অনেক। কামরাঙ্গীরচরের আব্দুল জলিল ১ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি করে বিআইডব্লিউটিএতে অভিযোগ করেন ২০১৯ সালের ১০ সেপ্টেম্বর। তিনি জানান, ওই বছরের ১৩ ফেব্রুয়ারি তার বাড়ির বেশির ভাগ অংশ ভেঙে ফেলা হয়। সেখানে কখনোই নদী ছিল না। সিএস থেকে শুরু করে সব শেষ সিটি জরিপ পর্যন্ত তার জমি বৈধ বলে দাবি করেন তিনি। মোহাম্মদপুরের কাটাসুর মৌজার বাসিন্দা নুর হোসেন জানান, কোনো নোটিস ছাড়াই বিআইডবিøউটিএ তার গরুর খামার ভেঙে দিয়েছে। এতে প্রায় ২ কোটি টাকা ক্ষতি হয়েছে তার। তিনিসহ অনেক অভিযোগকারীই জমির দাগ, খতিয়ানসহ পূর্বপুরুষের ধারাবাহিকতা উল্লেখ করে ক্ষতিপূরণ দাবি করেন বিআইডব্লিউটিএর কাছে।

মধ্যেরচর মৌজার একটি ম্যাপ বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, সিএস ৫২৯ দাগের জমিটি এসএ জরিপে ১৩৫৬ ও আরএসে ৪৮৮ দাগ হয়েছে। এই প্লটের লাগোয়া বুড়িগঙ্গা নদী। তিন জরিপেই বুড়িগঙ্গার অবস্থান প্রায় একই স্থানে। তীরভ‚মির সীমানা মাত্র কয়েক ফিট। কিন্তু উচ্ছেদের সময় ওই প্লটের প্রায় ২০০ ফুট ভাঙা হয়েছে। আমজাল হোসেন, নাজমা বেগম ও মো. নাসির ওই জমির মালিক। এর আশপাশের প্লট ও চররঘুনাথপুর মৌজার কামালবাগের ক্ষেত্রেও একই অবস্থা হয়েছে। ১৯৯৯ সালে নদীর তীরে বেড়িবাঁধ নির্মাণের সময় কামালবাগে জমি অধিগ্রহণ করে পানি উন্নয়ন বোর্ড। কিন্তু পরবর্তী সময়ে কয়েক দফা ওই এলাকায় উচ্ছেদ অভিযান হয়েছে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, নিয়ম না মেনে এখানে বন্দর সীমানা ধরে অভিযান চালানো হয়েছে। এতে পৈত্রিক বসতভিটা হারিয়ে অনেকে নিঃস্ব হয়েছেন। মোহাম্মদপুর ও হাজারীবাগের বছিলা এলাকার সাড়ে ৪শ বছরের পুরান গ্রাম উচ্ছেদের অভিযোগে গত বছরের ২৯ ডিসেম্বর ঢাকার ক্রাইম রিপোর্টার্স এসোসিয়েশনে সংবাদ সম্মেলন করেন ক্ষতিগ্রস্তরা। এখানেও বন্দর সীমানায় অভিযান চালানোর অভিযোগ ওঠে।

অন্যদিকে, কোথাও কম উচ্ছেদের তথ্যও পাওয়া গেছে। ২০১৯ সালের ১৩ জুলাই নদীরক্ষা কমিশন সরেজমিন পরিদর্শনে গিয়ে এ নিয়ে অসোন্তষ প্রকাশ করে। মাইশা পাওয়ার প্লান্ট, ইকোনমিক জোন, তুরাগ রিসোর্ট, ফ্রেশ গ্রুপের স্থাপনা, টঙ্গি সেতুর কাছে ৩টি বাস-ট্রাক স্ট্যান্ড, আদাবরে ইটভাটা, রানাভোলা মৌজায় সবজি ও মাছের পাইকারি আড়ত প্রভৃতি উচ্ছেদের সুপারিশ করা হয় তখন। সিএস ম্যাপ অনুযায়ী তুরাগের অনেক স্থানে নদীর প্রশস্ততা কম। সেখানে আরএস ম্যাপ ধরে উচ্ছেদ করা হয় আমিন মোমিন হাউজিং, সংসদ সদস্য আসলামুল হক আসলামের বিদ্যুৎকেন্দ্র, ইকোনোমিক জোনের অবৈধ অংশ। কিন্তু এখনো অনেক স্থাপনা উচ্ছেদ বাকি থাকতে দেখা গেছে।

তীরভূমির ম্যাপ পাচ্ছেন না মানুষ : সঠিক সীমানা নিশ্চিত হতে তীরভ‚মির ম্যাপ চেয়ে অবেদন করেছেন অনেকে। বছিলার হাজি মিয়া হোসেন, নয়াগাঁও মৌজার আরমান, জহুরাবাদ মৌজার জজ মিয়া, আজেমা বেগমসহ অনেকে সীমানা পুনঃজরিপ দাবি করেছেন। কিন্তু এসব আবেদনের সুরাহা হয়নি। তীরভূমির ম্যাপ চেয়ে গত ২৪ ফেব্রুয়ারি বিআইডব্লিউটিএতে আবেদন করেন কামালবাগের মো. সারফুদ্দিন।

তিনি জানান, এ পর্যন্ত কয়েকবার তাদের বাড়িঘর ভাঙা হয়েছে। তারা নিশ্চিত হতে চান- আসলে নদীর সীমানা কোনটি। কামরাঙ্গীরচরের বাসিন্দা প্রকৌশলী আবদুল মান্নান জানান, আমরা নদীর তীরভ‚মির যৌথ জরিপটি চেয়েছি। বিআইডবিøউটিএ অভিযানের সময় যে ম্যাপটি সঙ্গে আনে, সেটির আইনগত ভিত্তি নিয়ে আমাদের সন্দেহ রয়েছে। তাই ম্যাপ পেলে জিপিএস রিডিং মিলিয়ে দেখব। নইলে আদালতে যাব। ম্যাপ না পেয়ে জনসংযোগ কর্মকর্তার কাছে তথ্য অধিকার আইনে সম্প্রতি আবেদনও জমা পড়েছে।

আগে উচ্ছেদ, পরে সীমানা নির্ধারণ : আগে যৌথ জরিপের মাধ্যমে সীমানা চিহ্নিত করে পরে উচ্ছেদের কথা। কিন্তু কোথাও কোথাও যৌথ জরিপের সীমানার চেয়ে ১০ থেকে ৮০ ফুট বেশি উচ্ছেদ করে বিআইডব্লিউটিএ। পরে নিজেরাই উচ্ছেদের সীমানা ধরে পিলার বসানোর সিদ্ধান্ত নেয়। ২০১৯ সালের ৮ সেপ্টেম্বর ঢাকা নদীবন্দর থেকে বন্দর ও পরিবহন বিভাগের পরিচালকের কাছে পাঠানো ৭ পৃষ্ঠার এক প্রতিবেদনে দেখা যায়, রামচন্দ্রপুর মৌজায় যৌথ জরিপের মাধ্যমে করা ১১১টি পিলারের মধ্যে ৮১টি পিলারের সীমানা পুনঃনির্ধারণ করে সংস্থাটি। নদীর প্রকৃত সীমা ও তীরভ‚মি নির্ধারণের জন্য একজন যুগ্ম পরিচালককে আহ্বায়ক করে ৮ সদস্যের ওই কমিটি গঠন করা হয় একই বছরের ২ সেপ্টেম্বর, যেখানে অন্য কোনো সংস্থার সদস্য নেই। উচ্চতর কমিটি থাকার পর এককভাবে বিআইডব্লিউটিএ নদীর সীমানা নির্ধারণ করতে পারে কিনা- এ নিয়ে তখন বিতর্ক দেখা দিলেও নদী রক্ষার তোড়জোরে তা চাপা পড়ে যায়। মাঝখান থেকে অনেক বৈধ মালিক ক্ষতিগ্রস্ত হন বলে অভিযোগ ওঠে।

এমএইচ

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়