বিবৃতি ও মানববন্ধনেই কি দায় শেষ

আগের সংবাদ

প্রতিপক্ষের হামলায় চট্টগ্রাম পলিটেকনিকের ছাত্রলীগ নেতা নিহত

পরের সংবাদ

করোনার এক বছর: আবারও সংক্রমণ বাড়ায় চিন্তিত সবাই

প্রকাশিত: মার্চ ৮, ২০২১ , ১২:৩২ পূর্বাহ্ণ আপডেট: মার্চ ৮, ২০২১ , ১১:৫৭ পূর্বাহ্ণ

দেশে ২০২০ সালের ৮ মার্চ প্রথম করোনা আক্রান্ত রোগী শনাক্তের তথ্য জানায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। আর এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে প্রথম মৃত্যু হয় ১৮ মার্চ। এরপর থেকে শনাক্ত ও মৃতের সংখ্যা উঠা নামা করলেও প্রতিনিয়তই সংখ্যা বেড়েছে। তবে সুস্থতার সংখ্যা আশা জাগিয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের করোনার সর্বশেষ পরিস্থিতি জানিয়ে রবিবার গণমাধ্যমে পাঠানো বিজ্ঞপ্তির তথ্য অনুযায়ী, এই এক বছরে ৪১ লাখ ৪৬ হাজার ২০৫টি নমুনা পরীক্ষা হয়েছে। তাতে রোগী শনাক্ত হয়েছে ৫ লাখ ৫০ হাজার ৩৩০ জন। আক্রান্তদের মধ্যে সুস্থ হয়েছেন। ৫ লাখ ৩ হাজার ৩ জন। মৃত্যু হয়েছে ৮ হাজার ৪৬২ জনের। ৬ হাজার ৩৯৭ জনই পুরুষ এবং ২ হাজার ৬৫ জন নারী।

অধিদপ্তরের তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ৮ মার্চ প্রথম রোগী শনাক্তের পর এ সংখ্যা এক লাখের ঘরে পৌঁছায় ১৮ জুন। ২৬ অগাস্ট শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ছাড়ায় ৩ লাখ। ২৬ অক্টোবর এ সংখ্যা ৪ লাখ ছাড়িয়ে যায়। আর শনাক্ত রোগী সংখ্যা পরবর্তী এক লাখ ছাড়িয়ে যায় ৫৫ দিন পর গত ২০ ডিসেম্বর। এর পর নানা কারণে শনাক্ত রোগীর সংখ্যা কমতে থাকে। ৭৭ দিনে শনাক্ত রোগীর তালিকায় ৫০ হাজার জন। এর মধ্যে গত ২ জুলাই ৪ হাজার ১৯ জন রোগী শনাক্ত হয়, যা এক দিনের সর্বোচ্চ শনাক্ত।

আর ১৮ মার্চ করোনা ভাইরাসে প্রথম মৃত্যু হবার তথ্য জানানোর এক মাস পর ২০ এপ্রিল শতকের ঘরে পৌঁছায় মৃতের সংখ্যা। এ সংখ্যা ৫’শ ছাড়ায় গত ২৫ মে। এরপর ১০ জুন মৃতের সংখ্যা হাজার ছাড়ায়। করোনা ভাইরাসে প্রথম মৃত্যুর ৮৫ দিন পর ৫ জুলাই মৃতের সংখ্যা দুই হাজারের ঘর ছাড়িয়ে যায়। এরপর কম সময়ের ব্যবধানে বাড়তে থাকে মৃতের সংখ্যা। ২৮ জুলাই ৩ হাজার, ২৫ অগাস্ট ৪ হাজার, ২২ সেপ্টেম্বর ৫ হাজার, ২৬ নভেম্বর তা সাড়ে ছয় হাজার এবং ২৯ ডিসেম্বর তা সাড়ে সাত হাজারের ঘর ছাড়িয়ে যায়। আর মৃতের সংখ্যা ৮ হাজার ছাড়িয়ে যায় চলতি বছরের ২৩ জানুয়ারি। ২০২০ সালের ৩০ জুন এক দিনেই ৬৪ জনের মৃত্যু হয়। যা এক দিনের সর্বোচ্চ মৃত্যু।

চলতি বছরের জানুয়ারির পর থেকে দেশে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ নিন্মগামী ছিল। এ হার নেমে এসেছিলো ৩ শতাংশেরও কমে। তবে পরীক্ষার সংখ্যা বিবেচনায় গত কয়েক দিন ধরেই রোগী শনাক্তের হার বেড়েছে। রবিবার ২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষার বিবেচনায় শনাক্তের হার ছিলো ৪ দশমিক ৩০ শতাংশ। শনিবার এই হার ৪ দশমিক ১৩ শতাংশ এবং শুক্রবার নমুনা পরীক্ষা বিবেচনায় শনাক্তের হার ছিলো ৪ দশমিক ৬৩ শতাংশ। বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশে অনেকটাই বিপরীতধর্মী আচরণ করছে করোনা ভাইরাস। শীত মৌসুমে বিভিন্ন দেশে করোনার সংক্রমণ বাড়লেও পুরো উল্টো চিত্র দেখা গেছে বাংলাদেশে। তবে গত কয়েক দিনে তাপমাত্রা বাড়ায় সংক্রমণ বাড়ছে। যা নতুন করে ভাবিয়ে তুলেছে সবাইকে।

এ প্রসঙ্গে কোভিড-১৯ বিষয়ক জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটি সদস্য ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ডা. নজরুল ইসলাম ভোরের কাগজকে বলেন, করোনা ভাইরাস আমাদের দেশে বরাবরই ভিন্নধর্মী আচরণ করছে। শীতকালে আমাদের দেশে করোনা সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ার শঙ্কা করা হয়েছিলো। কিন্তু তা হয়নি। কেনো হয়নি তা বলা নির্দিষ্ট করে বলা যাবে না। কারণ আমাদের দেশে এ বিষয়ে কোন সঠিক গবেষণা হয়নি। তবে আমি প্রথম থেকেই বলেছিলাম শীতে সংক্রমণ বাড়বে না। কারণ শীতকালে ইনফ্লুয়েঞ্জা, প্যারা ইনফ্লুয়েঞ্জা, রাইনোসহ বিভিন্ন ভাইরাস বিপুলভাবে সংক্রমিত হয়। এ সময় সাধারণ মানুষ, সর্দি-কাশি, নিউমোনিয়া ইত্যাদিতে আক্রান্ত হয়। ফলে এক সাথে দু’টি ভাইরাস আক্রমণ করে না। যখন আশঙ্কা করা হয়েছিলো করোনার দ্বিতীয় ঢেউ আসবে। কিন্তু দ্বিতীয় ঢেউ আসেনি। বরং কমে যেতে শুরু করলো। এখন করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ বাড়তে শুরু করেছে। এটি হয়তো আরো কিছুটা বাড়তেও পারে। কারণ আমাদের দেশে মার্চ মাসেই সংক্রমণটা বেড়েছিলো। তাছাড়া এখনো মানুষ সঠিক নিয়ম মেনে মাস্ক পড়ছে না। স্বাস্থ্যবিধি মানছে না। টিকা কার্যক্রম শুরুর পর থেকে মানুষ যেনো আবার সেই গত বছরের ৮ মার্চের আগের অবস্থায় ফিরে গেছে। এমন আচরণ শঙ্কা বাড়াচ্ছে। আমরা স্বাস্থ্যবিধি না মানলে, মাস্ক না পড়লে সামনে বড় বিপদ।

রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রন ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের উপদেষ্টা ও সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডা. মোশতাক হোসেন ভোরের কাগজকে বলেন, সংক্রমণের প্রথম ধাক্কাটা আমাদের দেশে মারাত্মক হয়নি। মানুষের মৃত্যু খুব বেশি না হলেও এই সংখ্যা নিতান্তই কম নয়। স্বাস্থ্যবিধি মেনে না চললে যেকোনো সময় সংক্রমণ ও মৃত্যু বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। ইউরোপের অনেক দেশে সংক্রমণ কমে যাবার পর হঠাৎ করে সংক্রমণ বাড়তে আমরা দেখেছি। আমাদের দেশে গত বছর দুই ঈদের সময় মানুষের অসচেতনতার কারণে সংক্রমণ ও মৃত্যু বাড়াতে দেখেছি। এরপর মানুষ যখন সচেতন হতে শুরু করে এবং সাবধানতা অবলম্বন করেছে তখন সংক্রমণ ও মৃত্যু দুই-ই কমতে থাকে। তাই সচেতনতার কোন বিকল্প নেই। দ্বিতীয় ঢেউয়ের শঙ্কার কথা আমাদের ভুলে গেলে চলবে না।

এমআই

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়