নারীর নিরাপত্তা ও ক্ষমতায়ন আবশ্যক

আগের সংবাদ

বিবৃতি ও মানববন্ধনেই কি দায় শেষ

পরের সংবাদ

প্রতিকূলতা জয়ের দৃষ্টান্ত হলেন শিশির ও মৌ

প্রকাশিত: মার্চ ৮, ২০২১ , ১২:১২ পূর্বাহ্ণ আপডেট: মার্চ ৮, ২০২১ , ১:২২ পূর্বাহ্ণ

হিজড়া, তৃতীয় লিঙ্গ, ট্রান্সজেন্ডার বা রূপান্তরকামী-যে নামেই ওদের ডাকা হোক না কেনো তারা সমাজে অবহেলিত এক জনগোষ্ঠী। পরিবার-সমাজ-রাষ্ট্র প্রতি ক্ষেত্রে প্রতি স্তরেই তাদের বঞ্চনা আর বৈষম্যের চিত্র। তৃতীয় লিঙ্গের স্বীকৃতি, ভোটাধিকার প্রয়োগের সুবিধা, কাজের সুযোগ করা, তাদের জন্য আলাদা মাদ্রাসা নির্মাণসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাদের যে সুযোগ তৈরি হয়েছে তা হয়েছে খুবই ধীর গতিতে। আবার এই সুযোগও যে খুব একটা কার্যকর হয়েছে তাও কিন্তু নয়। তাতে অনেকের জীবন একটু বদলে গেলে তা কোনোভাবেই আশানুরূপ নয়। এই জনগোষ্ঠীর ক্ষেত্রে খুব একটা আশাব্যঞ্জক চিত্র আমাদের সমাজে নেই। এমনই পরিস্থিতিতে তাসনুভা আনান শিশির ও নুসরাত মৌ জ্বলে ওঠেছেন আপন মহিমায়। নিজ যোগ্যতায়। এখন তারা কাজ করতে চান নিজের কমিউনিটির জন্য। রাষ্ট্র ও সমাজের জন্য তো বটেই।

খুলনার বাগেরহাটের মেয়ে শিশির। নারায়ণগঞ্জের সরকারি তোলারাম কলেজ থেকে সমাজকর্ম বিভাগে অনার্স-মাস্টার্স করেছেন। পাশাপাশি ব্র্যাক জেমস পি গ্রান্ট স্কুল অব পাবলিক হেলথ থেকে পাবলিক হেলথ বিষয়ে আরো একবছরের মাস্টার্স কোর্স করছেন। শিশিরই প্রথম তৃতীয় লিঙ্গের নারী হিসেবে ব্র্যাক জেমস পি গ্রান্ট স্কুল অব পাবলিক হেলথ থেকে স্কলারশিপ পেয়েছেন। তিনিই প্রথম তৃতীয় লিঙ্গের নারী যিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৫০ বছরে সংবাদপাঠিকা হিসেবে কাজ করছেন।

আর মৌ নোয়াখালির লক্ষ্মীপুরের মেয়ে। পরিবারের আর্থিক অস্বচ্ছলতা এবং বৈরি পারিপাশির্^ক অবস্থায় তার লেখাপড়ার গ-ি প্রাথমিকই পেরুতে পারেনি। সমাজের রুড় ও তির্যক মন্তব্য তাকে যতটা কষ্ট দিয়েছি, মনোবল ভেঙ্গেছে কিছু করার জেদটাও যেনো ততোটাই গভীর করেছে। অভিনয়ের প্রতি ভালোবাসাটা তার আগে থেকেই ছিলো। মঞ্চে টুকটাক কিছু কাজ করেছেন। তবে সব সময় ভাবতেন কীভাবে এবং কখন তার জীবনে বড় একটি সুযোগ আসবে। রঙ্গনার ‘কে আমি’ নাটকে মূল চরিত্রে অভিনয় করার পর তার সেই তৃষ্ণ যেনো আরো বেড়ে যায়। সেই থেকে বৈশাখি টেলিভিশনের ধারাবাহিক নাটক ‘চাপাবাজ’-এর একটি পর্বে অভিনয়ের সুযোগ পান।

আজ আন্তর্জাতিক নারী দিবসে শিশির বৈশাখী টেলিভিশনে তার প্রথম সংবাদ বুলেটিন উপস্থাপন করবেন। আর মৌ অভিনিত নাটকের পর্বটিও আজ রাতে প্রচারিত হবে।

শিশির ও মৌ দু’জনেই জানালেন তাদের ছোট বেলা, বেড়ে ওঠা অন্য ছেলে-মেয়ের মতো কাটেনি। বিধ্বস্ত ও যন্ত্রণাদায়ক সেই দিনগুলোর কথা মনে করলে এখনোও ভেতরে ভেতরে কুকড়ে যান। মানুষের কটু কথা আর টিপ্পনি শুনতে শুনতে আজকের এই অবস্থানে এসেছেন তারা। খুব বড় কিছু হয়ে গেছেন তেমনটা না ভাবলেও এ অর্জন তাদের কাছে অনেক বড়।

শিশির ভোরের কাগজকে বলেন, আমি কখনোই মনোবল হারাইনি। সব সময় মনে হতো আমাকে বেঁচে থাকতে হবে। আর এর জন্য আমাকে লড়াই করে যেতে হবে। অর্থকষ্ট, খাবারের কষ্টও করতে হয়েছে। তবে আমার বিশ্বাস ছিলো, কোনো একটা দিন আসবে; যেদিন আমার এই কষ্টের মূল্যটা আমি পাবো। সেই দিনটার অপেক্ষায় ছিলাম। আর নিজেকে যোগ্য করে গড়ে তোলার চেষ্টা করছি। বৈশাখি টেলিভিশন আমাকে যে সুযোগ দিয়েছে তা আমার জীবনে নতুন মাইলফলক। আমি মনে করি এতে আমার দায়িত্ব বহুগুণ বেড়ে গেছে। নিজের কমিউনিটির জন্য কিছু করার দায়িত্ব বর্তিয়েছে। নিজেকে আরো যোগ্য করে তুলতে হবে।

অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে মৌ ভোরের কাগজকে বলেন, এ আনন্দ প্রকাশের কোনো ভাষা আমার জানা নেই। এত বড় সুযোগ পাবো তা কখনো ভাবিনি। তবে সব সময় নিজের যোগ্যতা যাচাইয়ের সুযোগের অপেক্ষায় ছিলাম। সেই সুযোগ যখন এলো তা ভাবতেই ভালো লাগছে। আমি যে কষ্ট করেছি তা অন্য কেউ করুক তা আমি চাই না। আমি চাই প্রতিটা মানুষ তার স্ব-স্ব সম্মান ও মর্যাদা নিয়ে বাঁচবে।

এমআই

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়