অ্যাতলেটিকোর ঘাড়ে নিশ্বাস ফেলছে বার্সা

আগের সংবাদ

ঐতিহাসিক দিনে চালু ভ্রাম্যমাণ মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর

পরের সংবাদ

জাতির শিখা জ্বালিয়ে রেখেছে শিখা চিরন্তন

প্রকাশিত: মার্চ ৭, ২০২১ , ১:৫৪ অপরাহ্ণ আপডেট: মার্চ ৭, ২০২১ , ৩:৫৬ অপরাহ্ণ

ঐতিহাসিক ৭ মার্চ আজ। এ দিনটিতে বাংলাদেশ নামে একটি ভূখণ্ড জন্মের দীর্ঘদিনের সাধের পথরেখা রচনা হয়েছিল। তৎকালীন রেসকোর্স বর্তমানে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বাংলাদেশের অবিসংবাদিত নেতা বন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের ডাকে লাখ মানুষের জমায়েত হয়েছিল। যেখানে স্বাধীনতার ডাক দিয়েছিলেন তিনি।

এরপরই বীরদর্পে মুক্তির সংগ্রামে ঝাপিয়ে পড়েছিল বাংলার আপামর জনগন। দীর্ঘ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে ৩০ লাখ শহীদের প্রাণের বিনিময়ে অর্জিত হয়েছিল বাংলাদেশের।

তবে সেই দেশের রুপকার ও স্বপ্নদ্রষ্টাকে মরতে হয়েছিল দেশীয় কিছু ঘাতকদের বুলেটে। তবে মহামানবের মৃত্যু হয় না- কারণ কীর্তিমান বেঁচে থাকেন তার কর্মের মধ্যে দিয়ে। ৭ মার্চ ইউনেস্কো স্বীকৃতিপ্রাপ্ত বঙ্গবন্ধুর বজ্রকন্ঠে ভাষণ তা বার বার প্রমাণ করে।

যে ভাষণের দিনটিকে ঘিরে একটি স্বাধীন ভূখণ্ডের জন্ম হয়েছিল সেই দিনটি স্মরণে ৭ মার্চ রবিবার সকাল সকাল তেমন লোক সমাগম দেখা না গেলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে স্বাধীনতা স্তম্ভ শিখা চিরন্তনের সামনে বাড়তে থাকে লোক সমাগমের ভিড়। যে শিখা চিরন্তন জ্বালিয়ে রেখেছে জাতির মর্যাদা ও অহঙ্কার। এ আগুনের শিখা যেন আমাদের শ্বাশত চেতনা।

এদিকে, রবিবার (৭ মার্চ ) সকালে মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের শিখা চিরন্তনের চারপাশ ঘুরে দেখেন। এরপর তিনি নতুন প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ করতে ভ্রাম্যমাণ জাদুঘরের উদ্বোধন করেন। এ সময় তিনি বঙ্গবন্ধুকে স্মরণ করেন। এরপর মুক্তিযোদ্ধা পরিষদের ব্যনারে একটি সংগঠন শিখা চিরন্তনে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানায়। এ সময় সংগঠনটি অংগীকার করে দেশ স্বাধীন হলেও এখনো শত্রু মুক্ত হয়নি, তারা দেশে ও স্বাধীনতর বিরুদ্ধে এখনো ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছে। তাদের নির্মূল না করা পর্যন্ত তারা লড়াই চালিয়ে যাবেন।

এ সময়ই কথা হয় বরিশাল গৌরনদী নিবাসী বীর মুক্তিযোদ্ধা তালুকদার ওমর আলীর সঙ্গে। তিনি ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ভাষণের সময় উপস্থিত ছিলেন সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে। ভোরের কাগজকে তিনি জানান, যুদ্ধ করেছেন ৭ নাম্বার সেক্টরের হয়ে। তবে মুক্তিযুদ্ধ করলেও তালিকাভুক্ত হননি তিনি। কারণ কাউকে অনুরোধ করে তালিকায় নাম উঠাতে আগ্রহী নন তিনি।

ওইদিনের স্মৃতিচারণ করে ওমর আলী আরও বলেন, বঙ্গবন্ধুর ডাকে তখনকার রেসকোর্স ময়দানে হাজির হয়েছিলাম।

কানায় কানায় পরিপূর্ণ ছিল পুরো ময়দান। সবার দৃষ্টি একই জায়গায় কখন বঙ্গবন্ধু আসবেন। বঙ্গবন্ধুর আসার সঙ্গে সঙ্গেই পরিবেশ অন্যরকম হয়ে গিয়েছিল। তার সে বজ্রকন্ঠে ভাষণ আজও কানে ভাসে। তার ডাকেই সাড়া দিয়ে আমরা যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ি।

এরপরই এ প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা হয় শিক্ষার্থী আশফিকুর রহমানের। উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া এ ছাত্র জানায়, বঙ্গবন্ধুর ভাষণ টিভি ও রেডিওতে অনেক শুনেছেন। আজ স্বাধীনতা স্মৃতিস্তম্ভ ও শিখা চিরন্তন দেখতে ও ছবি তুলতে এসেছে। দুপুর পৌঁনে একটার দিকে মুক্তিযোদ্ধা সাংসদের পক্ষ থেকে একটি দল সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে স্বাধীনতা স্তম্ভে দাঁড়িয়ে শ্রদ্ধা জানান।

এছাড়াও ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে একটি মিছিল বের করা হয়। এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেনে বলেন, ঐতিহাসিক ৭ মার্চ উপলক্ষে তারা এ মিছিল করছেন। সোহরাওয়ার্দী উদ্যান প্রদক্ষিণ করে ধানমন্ডি ৩২ নাম্বারে গিয়ে মিছিল শেষ হবে।

ডিসি

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়