যে গল্পে নারীই ‘হিরো’

আগের সংবাদ

তৃণমূলের প্রার্থী ‘তারা’

পরের সংবাদ

সিনেমা যখন নারীর কথা বলে

প্রকাশিত: মার্চ ৬, ২০২১ , ১:১২ পূর্বাহ্ণ আপডেট: মার্চ ৬, ২০২১ , ১:১২ পূর্বাহ্ণ

হলিউডের সিনেমায়ও রয়েছে পুরুষ প্রাধান্য। সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, হলিউডি মুভিতে পুরুষ চরিত্রকে যতক্ষণ পর্দায় দেখা যায় নারীকে ততক্ষণ নয়। নির্মাতা হিসেবেও এখানে পুরুষেরই একচেটিয়া প্রাধান্য। এর মধ্যেও নারী নির্মাতারা কাজ করছেন। নারী পরিচালকের অ্যানিমেটেড ফিল্ম ‘ফ্রোজেন’ ইতিহাস সৃষ্টি করেছে বক্স অফিসে এবং অস্কারও পেয়েছে। ‘উইমেন ফিল্ম’ বলে হলিউডে চলচ্চিত্রের যে ধারা রয়েছে তার কথা এখানে বলা হচ্ছে না। কারণ এ ধরনের উইমেন ফিল্মের অনেকগুলোই আবার নারীকেন্দ্রিক হলেও পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতারই ধারক। ‘জেজেবেল’, ‘মাইল্ড রেড পিয়ার্স’ ইত্যাদি এ ধারার চলচ্চিত্র। এসব সিনেমায় নারীর যে আত্মত্যাগকে তুলে ধরা হয়, তা প্রকৃত পক্ষে সমাজের প্রার্থিত আত্মত্যাগ। অর্থাৎ পুরুষতান্ত্রিক সমাজ নারীর কাছে যে আত্মত্যাগ প্রত্যাশা করে মূলত তাই এখানে তুলে ধরা হয়। ‘উইমেন ফিল্ম’-এ অনেক সময় দুই ধরনের নারীকে চিত্রায়িত করা হয়। একজন নম্ব, ভদ্র, সরল। আরেকজন চতুর, বেপরোয়া বা খল। ‘ভালো’ নারী শেষ পর্যন্ত জয়ী হয় সব দুঃখকষ্ট সহ্য করে। আর ‘খারাপ’ নারী শেষ পর্যন্ত পরাজিত হয়। তার মানে সেই চিরন্তন লিলিয়ান ও ইভের কাহিনী। পুরাণের লিলিয়ান অ্যাডামের অধীনতা স্বীকার করেনি বলে সে হয় অন্ধকার জগতের বাসিন্দা। আর পোষমানা ইভ বশ্যতা স্বীকার করেছিল বলে সে হয় পুরুষের চিরদিনের সঙ্গিনী। আবার অনেক সময় নারীর সিজোফ্রেনিয়া, হিস্টিরিয়া বা অন্য কোনো মানসিক অসুখকে তুলে ধরে যেসব চলচ্চিত্র নির্মিত হয়েছে সেগুলোকেও উইমেন ফিল্ম বলা হয়েছে। আবার কিছু সংখ্যক উইমেন ফিল্মে দেখানো হয়েছে গতানুগতিক জীবন থেকে পালিয়ে অন্য কোনো দেশে চলে যায় একজন নারী। সেখানে রীতিনীতি থেকে মুক্ত হয়ে জীবনযাপন করে সে। যদিও শেষ পর্যন্ত তাকে ফিরতেই হয় তার নিজের সমাজে। তবে হলিউডেও নির্মিত হয়েছে নারীর জীবনযুদ্ধকে তুলে ধরা সিনেমা এবং অনেক সিনেমায় নারীর দৃষ্টিকোণ থেকে প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়েছে পুরুষতান্ত্রিক সমাজকে। এমনি একটি সিনেমা ‘অ্যাকিউসড’। এই সিনেমায় অভিনয়ের জন্য জোডি ফস্টার অস্কার পেয়েছিলেন। সিনেমায় গণধর্ষণের শিকার এক নারীর চরিত্রে রূপদান করেন জোডি ফস্টার। পুরুষতান্ত্রিক সমাজ কীভাবে ধর্ষণের শিকার নারীকেই পরোক্ষভাবে দায়ী করে এই অপরাধের জন্য তা সূক্ষ্মভাবে তুলে ধরা হয়েছে এখানে। আমেরিকার নারীবাদী সিনেমার মধ্যে ‘বিয়ন্ড বিলিফ’, ‘সিডো’, ‘দ্য লাইফ আই গট টু লিভ’, ‘পিস ভার্সেস পিস : ওমেন অন দ্য ফ্রন্টলাইন’, ‘রিগ্রেট টু ইনফর্ম’ কয়েকটি তথ্যচিত্র, যা প্রত্যেকের দেখা প্রয়োজন। এই বিকল্পধারার চলচ্চিত্রগুলোতে বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে নারীর ওপর সংঘটিত বৈষম্য ও নির্যাতনের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। সত্য ঘটনা অবলম্বনে নির্মিত আরেকটি বিকল্পধারার চলচ্চিত্র হলো ‘হোয়াইট রেইনবো’। ধরন মান্দ্রায়ার পরিচালিত ও লিন্ডা মান্দ্রায়ার প্রযোজিত আমেরিকায় নির্মিত সিনেমাটিতে দেখানো হয় ভারতীয় বিধবাদের জীবন। নারীর ভোটাধিকার আদায়ের যুদ্ধ নিয়ে নির্মিত চলচ্চিত্র ‘আয়রন জড অ্যানজেলস’ সার্থকভাবে নারীর সংগ্রামকে তুলে ধরেছে। ২০০৪ সালে নির্মিত কাটজা ভন গার্নিয়ের পরিচালিত এ ছবিতে সাফ্রোজেট আন্দোলনকে তুলে ধরা হয়।

:: মেলা ডেস্ক

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়