ফ্রিডম হাউজের প্রতিবেদন: নাগরিক স্বাধীনতা কম বাংলাদেশে

আগের সংবাদ

দায়

পরের সংবাদ

হাস্যকৌতুকের দিকপাল ঢাকার ভানু

প্রকাশিত: মার্চ ৫, ২০২১ , ১২:০৭ পূর্বাহ্ণ আপডেট: মার্চ ৪, ২০২১ , ১১:৩৮ অপরাহ্ণ

মযহারুল ইসলাম বাবলা

ভানু বন্দ্যোপাধ্যায় খাঁটি বাঙাল এবং অনিবার্যরূপে আমাদেরই লোক। পূর্ববঙ্গের তো বটেই। খাস ঢাকারও। ঢাকার স্থানীয় কুট্টি ভাষাকে পশ্চিমবাংলাজুড়ে ছড়িয়ে ঢাকার ভানু খ্যাতিমান হয়েছিলেন। তার কৌতুক নকশাসমূহে এবং বাংলা চলচ্চিত্রে নিজের সংলাপগুলো নির্ভেজাল ঢাকার কুট্টি ভাষায় প্রয়োগ ও প্রচার করে নিজেকে ঢাকার ভানু রূপে প্রতিষ্ঠিত করে গেছেন। এমনিতে পূর্ববঙ্গীয় বাংলা ভাষা নিয়ে পশ্চিমবাংলার বাঙালিদের নাক ছিটকানো, ব্যঙ্গোক্তি, বিদ্রƒপ, হাসি-তামাশার কমতি ছিল না। পূর্ববাংলার প্রচলিত বাংলা ভাষাকে তারা রীতিমতো উপহাস করতেন। এর ওপর ঢাকার স্থানীয় কুট্টি ভাষা তাদের পক্ষে সহ্য-হজম করা কঠিন থেকে কঠিনতর ছিল। ভানুর ঢাকাইয়া কুট্টি ভাষা নিশ্চিত তাদের কান গরম করে দিত। তাচ্ছিল্যের ঢাকাইয়া ভাষাকে পশ্চিমবাংলার বাঙালিদের ওপর চাপিয়ে উল্টো তাদেরই নাজেহাল করে ছেড়েছেন। ভানুর অসাধারণ কৌতুকপূর্ণ ঢাকাইয়া কুট্টি ভাষা তারা নিরুপায়ে মেনে নিতে বাধ্য হয়েছিলেন। ভানুর কৌতুকে মানুষ হেসেছেÑ নির্মল আনন্দ উপভোগ করেছে। ভানুর কৌতুক কেবল হাসি সর্বস্ব ছিল না। তির্যক ছিল বহুলাংশে। অসঙ্গতি-অনাচারের শৈল্পিক উপহাস করেছেন কৌতুকের মাধ্যমে। সমাজ, রাষ্ট্র, রাজনীতি সব ক্ষেত্রের অসঙ্গতি নিয়ে কৌতুকে তির্যক করেছেনÑ খোঁচা দিয়েছেন। ভানুর কৌতুকের উল্লেখযোগ্য দিকটি অসঙ্গতিকে উপহাস করা। সেটা সার্থকভাবে তিনি করেছেন। দম ফাটানো হাসিতে লুটোপুটি খেলেও ভানুর তির্যকপূর্ণ কৌতুক শ্রোতাদের বুঝতে বেগ পেতে হতো না। সহজ-সাবলীল এবং সর্বজন বোধগম্যে ভানুর কৌতুকের জনপ্রিয়তা আকাশচুম্বি।

ঢাকার ভানু কেবল পশ্চিমবাংলায় সীমাবদ্ধ ছিলেন না। মাতৃভূমি পূর্ববঙ্গেও জনপ্রিয় ছিলেন। ভারতীয় চলচ্চিত্র পূর্ব পাকিস্তানে প্রদর্শনে বিধিনিষেধ ছিল না। ১৯৪৭-এর মধ্য আগস্টের দেশভাগের পরও ভারতীয় হিন্দি-বাংলা ছবির বিশাল বাজার ছিল পূর্ববাংলায়। ১৯৬৫ সালের সেপ্টেম্বরে পাক-ভারত যুদ্ধের সময় জেনারেল আইয়ুব খান তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে ভারতীয় চলচ্চিত্রের প্রদর্শনী নিষিদ্ধ করে দেন। ১৯৪৭ থেকে ১৯৬৫ সালের পাক-ভারত যুদ্ধের পূর্ববর্তী বছরগুলোতে পূর্ববাংলায় কলকাতায় নির্মিত বাংলা এবং মুম্বাইর হিন্দি ছবি অবাধে প্রদর্শিত হতো। সে কারণে পূর্ববঙ্গের দর্শকদের কাছে ভানু অপরিচিত-অজ্ঞাত কেউ ছিলেন না। বরযাত্রী (১৯৫১), পাশের বাড়ি (১৯৫২), সাড়ে চুয়াত্তর (১৯৫৩), ওরা থাকে ওধারে (১৯৫৪), ভানু পেল লটারী (১৯৫৮), যমালয়ে জীবন্ত মানুষ (১৯৫৮), পার্সোনাল অ্যাসিস্ট্যান্ট (১৯৫৯), ভানু অভিনীত অনেক ছবি এখানে নিয়মিত প্রদর্শিত হবার কারণে ভানু দুই বাংলায়ই সমান জনপ্রিয় ছিলেন। আমার বাবা-মায়ের কাছে শোনা নির্মল হাসি-আনন্দের উপভোগ্য সে সমস্ত ছবির ঘটনা শুনে শুনে বড় হয়েছি। সে কারণে সে সকল ছবির প্রতি স্বাভাবিক আকর্ষণ কিশোর বয়স থেকেই অনুভব করতাম। নিষিদ্ধের কারণে ভানুর কৌতুক শোনা এবং তার চলচ্চিত্র দেখার উপায় তখন ছিল না। স্বাধীনতার পরই অডিও ক্যাসেটে ভানুর কৌতুক নকশা শোনার সুযোগ পেয়েছিলাম। এর-ওর থেকে ক্যাসেট সংগ্রহ করে হরহামেশা শুনতাম অসাধারণ সব কৌতুক নকশা। ভানুর ন্যায় বাংলা ভাষায় অন্য কেউ তার স্থানে আজ অবধি দাঁড়াতে পারেনি এবং তাকে অতিক্রমও করতে পারেনি। ভানু তাই আজও একমাত্র এবং অদ্বিতীয়। চলচ্চিত্র সংসদ কর্তৃক আয়োজিত ঢাকাস্থ ভারতীয় দূতাবাসের অডিটোরিয়ামে ভানুর অভিনীত ছবি দেখার সুযোগ হয়। এর বহু পরে ভিসিআরের আগমনে ভিডিও ক্যাসেটে ভানুর অভিনীত ছবি দেখেছি। ইন্টারনেট এবং স্যাটেলাইট টিভির বদৌলতে এখন তো আমাদের জন্য কিছুই নিষিদ্ধ-আরাধ্য নেই। কলকাতার বাংলা চ্যানেলে কলকাতার স্বর্ণযুগের বাংলা ছবিও মাঝে মধ্যে সম্প্রচারিত হয়। এছাড়া ভিডিও সিডি এখন বেশ সহজলভ্য। ভানুর অভিনীত প্রচুর ছবি এখন সিডিতে পাওয়া যায়।

ভানুর অভিনয় শৈলী, অভিব্যক্তি, বাচনভঙ্গি, কণ্ঠস্বর সমস্ত মিলিয়েই হাস্যকৌতুকের দিকপাল ভানু। দর্শক-শ্রোতাদের কখনো সুড়সুড়ি দিয়ে হাসানোর বৃথা চেষ্টা তিনি করেননি। শ্রোতা-দর্শকদের হাসানোর অসাধারণ ক্ষমতার অধিকারী ভানু। সচরাচর কৌতুক শিল্পীদের মাঝে তিনি কেবল অসামান্য নন-বিরলও। এই অসামান্য প্রতিভার মানুষটিকে যোগ্য সম্মান আমরা দিতে পারিনি। আমাদের একজন চলচ্চিত্রকার কিংবা সাংস্কৃতিক আয়োজনে তাকে এখানে কেউ ডাকেনি। এই লজ্জা আমাদের বহন করতেই হবে। ক্ষণজন্মা ভানু মাত্র ৬২ বছর বয়সে প্রয়াত হয়েছেন। একাত্তরের বিজয়ের পর স্বাধীন বাংলাদেশে পশ্চিমবাংলার অনেক গুণী-শিল্পীদের আগমন ঘটেছিল। সরকারি ও বেসরকারি নানা উদ্যোগে তারা ঢাকায় এসেছিলেন। কিন্তু ভানুকে সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে ঢাকায় কেউ আনেনি। অগত্যা ব্যক্তিগত উদ্যোগে তিনি ঢাকায় এসেছিলেন। বিটিভি তাকে নিয়ে অনুষ্ঠানও স¤প্রচার করেছিল। সাক্ষাৎকার দিয়েছিলেন, কৌতুক পরিবেশন করেছিলেন ওই অনুষ্ঠানে। জানি না বিটিভির আর্কাইভে সেই অনুষ্ঠানটি সংরক্ষিত আছে কিনা? বিটিভির সাক্ষাৎকারে ভানু আক্ষেপে-শ্লেষে বলেছিলেন, ‘আমাকে আপনারা কেউ ডাকলেন না। আপনাদের ডাকের অপেক্ষায় বহুদিন ছিলাম। কিন্তু আপনারা কেউ আমাকে ডাকেন নি।’ আমরা নিশ্চয় ভানুর প্রতি সুবিচার করিনি। ঢাকার ভানুকে ঢাকা যোগ্য সম্মান দিতে চরম ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। এই লজ্জা আর মোচন হবে না। নিজেকে কেবল পূর্ববঙ্গীয় নয়, খাস ঢাকার বলেই গর্ব করে বলতেনÑ আমি বাঙাল। এতে তার হীনমন্যতা ছিল না। ছিল প্রচÐ অহংকার বোধ।

ক’বছর পূর্বে কলকাতা ভ্রমণে নন্দনে ছবি দেখতে গিয়েছিলাম। ছবি দেখে বের হচ্ছি, হঠাৎ কলকাতার স্থানীয় আমার সঙ্গীটি ইশারায় এক ভদ্রমহিলাকে দেখিয়ে নিচুস্বরে বলেন, ঐ মহিলা ভানু বন্দ্যোপাধ্যায়ের বড় মেয়ে। শুনেই আমি ছুটে যাই ভদ্রমহিলার নিকট। দ্বিধা-সংকোচের পরোয়া না করে জিজ্ঞেস করি তিনি ভানু বন্দ্যোপাধ্যায়ের মেয়ে কিনা? অপরিচিত আমার প্রশ্নে তিনি কিছুটা ইতস্তত। তার মুখে হ্যাঁ শোনার পর তাকে বলিÑ আমি ঢাকা থেকে এসেছি। ভানু বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে ব্যক্তিগত পরিচয় আমার ছিল না। কিন্তু তার সৃজনশীলতার সঙ্গে আমার পরিচয় বহু পূর্বের। আমার কথায় তিনি দাঁড়িয়ে গেলেন। তার পিতার প্রসঙ্গে অনেক প্রশ্ন করি এবং তিনি আমার প্রশ্নের উত্তর দিয়েছিলেন নির্মল আন্তরিকতায়, সামান্যতম বিরক্ত না হয়ে। ভানুর সদৃশ তার মেয়ে বাসবী, একটি সেবামূলক প্রতিষ্ঠানে কর্মরত। ভানু পারিবারিক পরিমÐলে আজীবন খাস ঢাকাইয়া ভাষায় কথা বলতেন। কলকাতার স্থানীয় বাঙালিদের ঘটি বলতে ছাড়তেন না। ১৯৪৬ সালে চলচ্চিত্রের সঙ্গে যুক্ত হন এবং ঐ বছরই বিয়ে করেন। ১৯৪৭-এর রক্তাক্ত দেশভাগে মাতৃভূমিতে ফিরে আসার আশা ত্যাগ করে কলকাতায় স্থায়ী হয়ে যান। সাম্প্রদায়িকতার দেশভাগে বাঙালি আর বাঙালি ছিল না। হিন্দু-মুসলমানে ভাগ হয়ে গিয়েছিল। ইচ্ছা থাকলেও মাতৃভ‚মিতে ফিরে আসা সম্ভব ছিল না। জয় বাংলার আমন্ত্রণের প্রতীক্ষায় থাকলেও, জীবদ্দশায় তাকে কেউ ঢাকায় আমন্ত্রণ জানায়নি। এই নিয়ে আক্ষেপ করতেন। শেষে নিজ উদ্যোগে ঢাকায় গিয়েছিলেন। বাসবীর কাছে জেনেছিলাম ভিন্ন এক ভানুর কথাও। যে কথা কেউ কেউ জানলেও, অনেকেই জানেন না। আমিও জানতাম না। মাত্র গত ডিসেম্বরে জি-বাংলা চ্যানেলের ‘মীরাক্কেল’ অনুষ্ঠানে বাসবী বন্দ্যোপাধ্যায় এসেছিলেন। রজতাভ দত্ত সে প্রসঙ্গে জিজ্ঞেস করেছিলেন এবং বাসবী বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেনও আমাকে বলা সেই একই কথা, তার বাবা ভানু বন্দ্যোপাধ্যায় সশস্ত্র স্বদেশি আন্দোলনে যুক্ত ছিলেন। সক্রিয় সদস্য ছিলেন সশস্ত্র স্বদেশি সংগঠন অনুশীলন দলে। কলকাতার রাইটার্স অপারেশনে অংশ নিয়েছিল তিন দেশপ্রেমিক স্বদেশি বীর। বিনয়, বাদল এবং দীনেশ। অপারেশনে তিনজন পৃথকভাবে রাইটার্সে ঢুকেছিলেন সেদিন। দীনেশকে রাইটার্স বিল্ডিংয়ে অপারেশন সংঘটনে পৌঁছে দেবার দায়িত্ব পড়েছিল ভানুর ওপর। সাইকেলের সামনে বসিয়ে দীনেশকে রাইটার্সের গেটে পৌঁছে দিয়েছিলেন ভানু বন্দ্যোপাধ্যায়। দলীয় সিদ্ধান্ত অনুসারে দীনেশকে নামিয়ে গেটের বাইরে সাইকেল নিয়ে কিছুক্ষণ অপেক্ষার পর ভানু রাইটার্স এলাকা ত্যাগ করেছিলেন। রাইটার্স অপারেশনের পরিণতি আমরা জানি। ইউরোপীয় পোশাকে সজ্জিত তিন বিপ্লবী রাইটার্সে আচমকা আক্রমণ করে হত্যা করেন কুখ্যাত কর্নেল সিম্পসনকে। নিরাপত্তা রক্ষীদের সঙ্গে সংঘর্ষে তিন ইংরেজ পুলিশ কর্মকর্তা টোয়াইনাম, প্রেন্টিস এবং নেলসন গুরুতর আহত হয়। ধরা পড়ে যাওয়ার মুহূর্তে বাদল বসু পটাসিয়াম সায়ানাইড খেয়ে ঘটনাস্থলে আত্মহত্যা করেন। বিনয় বসু ও দীনেশ গুপ্ত নিজেদের পিস্তলের গুলিতে আত্মহত্যার চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মেডিকেল ছাত্র বিনয় বসু সকলের অলক্ষ্যে বুলেটের ক্ষতস্থানে নিজের আঙুল ঢুকিয়ে আত্মহত্যা নিশ্চিত করেন। গুলিবিদ্ধ দীনেশ সুস্থ হলে বিচারে তাকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে হত্যা করে উপনিবেশিক ইংরেজ শাসক। ভানু বন্দ্যোপাধ্যায়ের জীবনের রাজনৈতিক-দেশপ্রেমের এই অধ্যায় জানা সম্ভব হতো না, যদি সেদিন আগ বাড়িয়ে বাসবী বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে আলাপ না করতাম। ভানুর টানেই সেদিন তার মেয়েকে পেয়ে ছুটে গিয়ে আলাপ করে ভানু সম্পর্কে জেনেছিলাম অনেক অজানা কথা।

ভানুর প্রকৃত নাম সাম্যময় বন্দ্যোপাধ্যায়। জন্ম ২৭ আগস্ট ১৯২০ ঢাকার বিক্রমপুরে। পিতা জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়। মা সুনীতি বন্দ্যোপাধ্যায়। শৈশব, কৈশোর এবং যৌবনের শুরুটা কেটেছে ঢাকায়। সদরঘাটের সেন্ট গ্রেগরী হাই স্কুল থেকে ম্যাট্রিক পাস করে ভর্তি হন জগন্নাথ কলেজে। জগন্নাথ কলেজের শিক্ষা শেষে ১৯৪১ সালে জীবিকার জন্য চলে যান কলকাতায়। শিক্ষা, উচ্চশিক্ষা, সাধারণ পেশা, সম্মানজনক জীবিকার সুযোগের কারণে কলকাতার গুরুত্ব তখন ছিল সর্বাধিক। পূর্ববাংলার প্রচুর মানুষ শিক্ষা, পেশার কারণে কলকাতায় দ্বিতীয় আবাস গড়ে তুলেছিলেন। কলকাতার বালীগঞ্জের অশ্বিনী দত্ত রোডে বোনের আশ্রয়ে থেকে চাকরিতে যোগ দেন আয়রন এন্ড স্টিল কোম্পানি নামক সরকারি দপ্তরে। দুই বছর বোনের কাছে থাকার পর টালিগঞ্জের চারু এভিনিউতে নিজের পৃথক আবাসে ওঠেন। ১৯৪৬ সালে নীলিমা মুখোপাধ্যায়কে বিয়ে করেন। তাদের তিন সন্তান। গৌতম, বাসবী এবং পিনাকী। চলচ্চিত্রে প্রথম অভিনয় করেন জাগরণ ছবিতে। সেটি মুক্তি পায় ১৯৪৭ সালে। একই বছরে দ্বিতীয় ছবি অভিযোগ মুক্তি পাবার পর তাকে আর পেছনে তাকাতে হয়নি। ক্রমেই হয়ে পড়েন চলচ্চিত্রের ব্যস্ত শিল্পী। তার উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্র মনমুগ্ধ (১৯৪৯), বরযাত্রী (১৯৫১), পাশের বাড়ি (১৯৫২), বসু পরিবার (১৯৫২), সাড়ে চুয়াত্তর (১৯৫৩), [সাড়ে চুয়াত্তর সুচিত্রা সেন অভিনীত প্রথম ছবি। নির্মল হাস্যরসের অসামান্য ছবি সাড়ে চুয়াত্তরের কাহিনীকার বিজন ভট্টাচার্য (সাহিত্যিক মহাশ্বেতা দেবীর স্বামী) পরিচালক তপন সিংহ।] ওরা থাকে ওধারে (১৯৫৪), ভানু পেল লটারী (১৯৫৮), যমালয়ে জীবন্ত মানুষ (১৯৫৮), পার্সোনাল অ্যাসিস্ট্যান্ট (১৯৫৯), গল্প হলেও সত্যি (১৯৬৬), ৮০তে আসিও না (১৯৬৭), মিস প্রিয়ংবদা (১৯৬৭), ভানু গোয়েন্দা জহর অ্যাসিস্ট্যান্ট (১৯৭১), সর্বশেষ ছবি শোরগোল তার মৃত্যুর পর ১৯৮৪ সালে মুক্তি পেয়েছিল। বান্দিশ (১৯৫৫) এবং এক গাঁও কি কাহানী (১৯৫৫)Ñ এই দুটি হিন্দি ছবিসহ ভানু অভিনীত সর্বমোট চলচ্চিত্রের সংখ্যা ২৩১টি। ২২৯টি বাংলা ছবিতে অভিনয় করেছেন অসামান্য প্রতিভাধর সপ্রতিভ অভিনেতা ভানু বন্দ্যোপাধ্যায়।

তার উল্লেখযোগ্য কৌতুক নকশাসমূহ ভানু এল কলকাতায়, লর্ড ভানু, টেলিফোন বিভ্রাট, ভানু সদানন্দ, নব রামায়ণ, ঘাতক সংবাদ, কর্তা বনাম গিন্নি, কর্তা বাবুর দেশ ভ্রমণ, হনুমানের নগর দর্শন, কলকাতা ও ভদ্রতা, চাটুজ্যে-বাড়জ্যে ইত্যাদি।

তিনশটিরও অধিক বাংলা চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন কৌতুক এ অভিনেতা। ৪ মার্চ ১৯৮৩ সালে মাত্র ৬২ বছর বয়সে মানুষ হাসানোর অসামান্য এই মানুষটি অকালে মৃত্যুবরণ করেন।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়