এক দূরদর্শী দিকনির্দেশনা

আগের সংবাদ

রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা

পরের সংবাদ

পারমিতার জগৎ

প্রকাশিত: মার্চ ৫, ২০২১ , ১২:৫৭ পূর্বাহ্ণ আপডেট: মার্চ ৪, ২০২১ , ১১:৩১ অপরাহ্ণ

ফরিদ আহমদ দুলাল

এবার ইমরান প্রশ্ন করলো, “সুমন মিস্ত্রির আপত্তির কী কারণ পারু আপা?” মৃদু হেসে বললাম, “কারণ তো আমি ঠিক জানি না। শুনলাম, সে না-কি আমাকে বিয়ে করতে চেয়েছিলো, পারেনি, তাই তার রাগ আমাদের ফ্যামিলির উপর! আমার সম্পর্কেও সে না-কি আজেবাজে মন্তব্য করেছে।” মামা এবার চরম উত্তেজিত, “তুই এসব কথা জানলি কোথায়? এতোবড় স্পর্ধা সুমনের!” বললাম, “নাজনীন, মানে বিয়ের পাত্রী নিজে বলেছে আমাকে। এখন সুমন জামালপুরের গডফাদার তার উপর কথা কে বলতে পারে?” মামী আবার প্রশ্ন করলেন, “মেয়ের আবার আপত্তি নেই তো বিয়েতে?” আমি তাকে আস্বস্ত করতে বললাম, “না-না মামী, মেয়ের তো ভাইয়াকে খুব পছন্দ। সে-ই তো আমায় বললো, কিছু করতে!” আমার কথা শেষ হতেই মামা উঠে দাঁড়ালেন, “বিয়ের ব্যাপারটা তুই আমার উপর ছাড়! আমার ভাগ্নের বিয়ে আমি দেখছি। সুমনকেও আমি দেখছি। তুই থাক মা, আমার একটু কাজ আছে কর্মীরা অপেক্ষা করছে। আজই আমি সব ফয়সালা করবো মা, তোকে কথা দিলাম। আমি আশেক মাহমুদ কলেজ হয়ে আমলাপাড়া মেয়ের বাসায় যাবো সুমনকে সাথে নিয়ে। তুই কিন্তু দুপুরে খেয়ে যাবি।” মনি-মামা বেরোবার প্রস্তুতি নেন। আমিও উঠে দাঁড়ালাম, “মামা, তুমি যদি কলেজে যাও, তাহলে আমিও তোমার সাথে যাই, তুমি আমাকে একটু বকুলতলায় ছেড়ে দিও। আমার কাজ আছে, কলেজ খোলা। ময়মনসিংহে যেতে হবে। কতোদিন হয়ে গেলো, জানি না ওদিকে কী অবস্থা। মামী-মা আসছি, তুমি একটু খোঁজ রেখো, মামা যেনো বিষয়টিকে ভুলে না যায়।” এতক্ষণ কোন কথাই বলেনি ইভান, এবার ও জোর দিয়ে বলে, “তুমি একদমই চিন্তা করো না আপু, আমি আব্বাকে মনে করিয়ে দেবো। মামা হাসেন, “কিচ্ছু মনে করাতে হবে না, আমি আজই সব ব্যবস্থা নিচ্ছি। আচ্ছা মা তোর যদি কাজ থাকে তাইলে চল তোকে বাসায় নামিয়ে দিয়েই যাই। মনি-মামা আমি দু’জনেই বেরিয়ে পড়লাম। পেছন থেকে ইমরান বললো, “আপু আবার এসো। তুমি যে জামালপুর এসেছো, জানতাম না তো, তাহলে বাসায় যেতাম।” আমি হেসে বললাম, “আমি না থাকলে যেতে অসুবিধা কী?” আমরা বেরিয়ে এলাম।

তুড়িতে সব দৃশ্যপট পাল্টে গেল যেনো। নাজনীন-এর আব্বা এলেন সন্ধ্যায় আমাদের বাসায়। আব্বার সাথে কথা বলে চলে গেলেন। ভাইয়ার মুখের যে হাসি হারিয়ে গিয়েছিলো অশুভ ফুৎকারে, সে হাসি ফিরে এলো যেনো আনন্দ বিহার সেরে। বাসায় বিয়ের প্রস্তুতি শুরু হলো নতুন উদ্যমে। নিজেকে আমার বিজয়ী মনে হচ্ছে আজ। মনে হচ্ছে বাসায় যেনো উৎসবের আবহ তৈরি হয়েছে। রাতে আব্বা আর ভাইয়া কথা বলছিলেন, আমি ঘুমাতে যাবার আগে সেখানে উপস্থিত হলাম। আব্বা বললেন, “গনেশ তো উল্টে গেলো রে পারমিতা! যার আপত্তির জন্য তোর ভাইয়ার বিয়ে বন্ধ হয়ে গিয়েছিলো, সে-ই না-কি নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নিয়েছে। বিষয়টা ঠিক বুঝতে পারলাম না।” আমি সে বিষয়ে কিছু বললাম না, শুধু বললাম, “বুঝে কী প্রয়োজন, অচলায়তন ভেঙেছে সেইটেই বড় কথা।” আব্বা বললেন, “মেয়ের আব্বা এসে বললেন, বিয়ের আয়োজন করুন। সুমনের সম্মতি পাওয়া গেছে।” আমি আব্বাকে বললাম, “আমার এবার যাওয়া দরকার। কাল-পরশুই যেতে চাই। আমার ক্লাস চলছে। ছুটি না নিয়েই চলে এসেছি আব্বা, এখন না গেলে সমস্যা হতে পারে।” আব্বা এবার অসম্মতি জানালেন না, বললেন, “হুম যাবি বৈ-কি।” আমি আর কথা বাড়ালাম না, নিজের ঘরে ফিরে এলাম। দরোজা বন্ধ করতেই সবুজ আমার শিয়োরের পাশে দাঁড়িয়ে কথা বললো।

: তুমি তো রীতিমতো বিপ্লব ঘটিয়ে ছাড়লে? এবার কি নিজের পড়ালেখার বিষয়ে মনোযোগী হওয়া উচিৎ নয়?

: তুমি কি হাসপাতালে খুব একাকীত্ব বোধ করছো?

: আমার একাকীত্বের বিষয়টি বাদ দাও। সে আমার কলঙ্ক নয় বরং গৌরব। একাকীত্ব উদযাপনের জন্যই আমি এসেছি পৃথিবীতে। একাকীত্বের বেদনার রঙে স্বপ্নের একটা রূপরেখা টেনেই চির-বিদায় নেবো; সে প্রস্তুতিও আছে। তুমি কিন্তু তোমার হাতের রেখাটাকেই সত্যি করে দিতে চাইছো। সময় ফুরিয়ে গেলে ইচ্ছাশক্তিও কখনো অসহায় হয়ে যায়; এ কথাটি ভুলে গেলে চলবে কেনো?

: হুম, ‘সময় গেলে সাধন হবে না!’

: লালনের এ গানের দর্শন মিথ্যে নয়। আমাদের লোকজ্ঞানে বলে, ‘সময়ের এক ফোড়-অসময়ের দশ ফোড়।’ নিজেকে দশ-দিগন্তে মেলে দেবার পথ আমি রুদ্ধ করে দিয়েছি, আমার আছে একমুখী যাত্রা, তুমি তাকে অগস্ত্যযাত্রাও বলতে পারো।

: তুমি কি অভিমানবশত আধ্যাত্মিক কথাবার্তা বলছো আজ?

: অভিমান! কেনো, কার সাথে অভিমান? কী নিয়ে অভিমান? কোন অধিকারে অভিমান? প্লাবনের ¯্রােতে ভেসে আসা কচুরিপানা আমি, ¯্রােতের টানেই ফিরে যাবো কোথাও, না-হয় কোথাও আটকে থেকে শুকিয়ে মরে পড়ে থাকবো; আমার কথা নদী¯্রােত মনে রাখবে কেনো?

: ওরে সর্বনাশ! গভীর বিষাদের সুর বাজছে দেখি! এসো আমার কাছে এসো। আমাকে বুকে জড়িয়ে ধরে শুনে নাও, নিঃশ্বাসের শব্দ কী বলে। বুকের স্পর্শ নিয়ে অনুভব করে দেখো, হৃদপিÐের ওঠানামায় কার নাম উচ্চারিত হয়।

: হৃদয়ের উত্তাপ বুঝতে স্পর্শের প্রয়োজন পড়ে না। হৃদয়ের উত্তাপ হৃদয় দিয়ে অনুভব করে নিতে হয়। আমাকে হৃদয়ের চোখে খোঁজো, কোথাও নিশ্চয়ই পেয়ে যাবে। যদি কখনো মনে হয় খুঁজে পাচ্ছো না; বুঝবে, তোমার পৃথিবী থেকে হারিয়ে গেছি আমি।

পলকে মিলিয়ে গেলো সবুজ। চারপাশ খুঁজে কোত্থাও পেলাম না তাকে। দীর্ঘক্ষণ নির্ঘুম থেকে সবুজের অপেক্ষা করলাম; কিন্তু ফিরে এলো না। কখন ঘুমিয়ে পড়েছি বলতে পারি না। পরদিন সকালে ঘুম থেকে উঠতে অনেক বিলম্ব হয়ে গেলো। মনটা ভার হয়ে আছে সকাল থেকে; কিন্তু কেনো? মনে করতে পারছি না। নাশতা খেয়ে এককাপ চা হাতে বারান্দার চেয়ারে বসলাম বিষাদের সূত্র খুঁজতে। চায়ে দু’চুমুক দিতেই ক’দিন আগে নাজনীন-এর কাছ থেকে আসা সেই ছেলেটা ফটকের পাশে উঁকি দিলো। আমি ওকে হাতের ইশারায় ডাকলাম। ছেলেটা সতর্ক পায়ে হেঁটে আমার কাছে চলে এলো। পকেট থেকে একটা চিঠি বের করে আমার হাতে দিলো। নাজনীন লিখেছেÑ

পারমিতা প্রিয়তা,

শুভেচ্ছা-ভালোবাসা। কী যাদু করলে তুমি, জানি না। আমার পক্ষে তোমাদের বাসায় যাওয়াটা শোভন নয়, কিন্তু আমাদের বাসায় তো তোমার আসতে কোনো সমস্যাই নেই। তুমি কি একবার আসবে? তোমার মুখ থেকে কিছু শুনতে ইচ্ছে করছে। জরুরি মনে করে একবার আসবে প্লিজ?

তোমারই নাজনীন।

ভাবলাম বলে দিই, আজ যেতে পারছি না, আগামীকালই ময়মনসিংহে যেতে হবে। চিরকুট থেকে চোখ তুলে দেখি ছেলেটা নেই। কখন চলে গেলো, টেরই পাইনি। অগত্যা তৈরি হয়ে বেরিয়ে পড়লাম আমলাপাড়ার উদ্দেশে।

আজ নাজনীনদের বাসায় যতœ আমার অন্যরকম। খালাম্মা যেনো নয়া কুটুম পেয়ে আদর করে কোলে তুলে নিতে চাইছেন। স্বামীকে ডেকে বললেন, “জলদি বাজারে যান নতুন কুটুম এসেছে বাসায়।” নাজনীন ওর মা’র কোল থেকে আমায় ছোঁ মেরে তুলে নিয়ে নিজের ঘরের খিল এঁটে দিলো। আমি পরিস্থিতি আঁচ করে বললাম, “নাজনীন আমার কালকে ময়মনসিংহে যেতেই হবে! কিছু প্রস্তুতি বাকি রয়ে গেছে। আমাকে এখনই বাসায় ফিরতে হবে।” নাজনীন আমায় টান দিয়ে খাটে বসিয়ে দিয়ে বললো, “মাথা খারাপ তোমার! মা তোমাকে যেতে দিলে তো?” আমি ওকে কাছে বসিয়ে বললাম, “পাগলামী করো না। আমাকে যেতেই হবে। কলেজ থেকে ছুটি না নিয়েই চলে এসেছি জামালপুর, জানি না কলেজে কী ঘটছে।” নাজনীন মুচকি হেসে বলে, “কলেজে কাউকে রেখে এসেছো না-কি? অতো ব্যস্ত কেন?” আমি নিজেকে স্থির করে বললাম, “না গো তেমন কিছু নয়; তবে কিছু না জানিয়ে এতোদিন ক্লাসে অনুপস্থিত আছি, তাই দুঃশ্চিন্তা হচ্ছে। আমি তো আজ আসতামই না, কিন্তু তোমার চিঠি পড়ে তাকিয়ে দেখি, পত্রবাহক হাওয়া! ছেলেটা কিছু খেয়েও আসেনি। অগত্যা আমার আসতেই হলো।” নাজনীন আমাকে থামিয়ে দিয়ে বললো, “তোমার কি যেতেই হবে?” মাথা নেড়ে বললাম, “বিকল্প কিছু নেই। তাছাড়া আমি বাসায় কিছু না বলেই চলে এসেছি; মা দুঃশ্চিন্তা করবেন।” নাজনীন কিছু না বলেই বেরিয়ে গেল ঘর থেকে। একটু পরেই ফিরে এসে আবার দরজায় খিল এঁটে দিলো। “এবারে বলো শুনি, অসাধ্য সাধন করলে কীভাবে?” আমি অবাক হবার ভান করে বললাম, “কীসের অসাধ্য সাধন? আমি তো তোমার কথার মানে বুঝতে পারছি না কিছু?” নাজনীন আমার কাঁধে ধাক্কা দিয়ে বললো, “ইয়ার্কি করো না পারমিতা, সত্যিটা বলো; সুমন ভাইয়ের জাল ছিঁড়ে কীভাবে আমায় মুক্ত করলে?” আমি এবার রহস্য করে বললাম, “তোমায় মুক্ত করলাম, না-কি নিজেকে আরও শক্ত জালে জড়ালাম? একটা বিষয় বোঝো নাজনীন, তুমি আমার ভাবী হয়ে যখন আমাদের বাসায় যাবে, সেদিন থেকেই তোমার সুমনভাই আমাদের বাসায় অবাধ প্রবেশাধিকার পেয়ে যাবে।” নাজনীন-এর চোখ দেখেই বুঝতে পারি, ওর কাছে সব ধোঁয়াচ্ছন্ন। নাজনীন-এর সরল প্রশ্ন, “সুমন ভাই তোমাদের বাসায় যাবার সুযোগ পেলে, তুমি কেনো জালে জড়িয়ে যাবে?” আমি কী বলবো বুঝতে পারছিলাম না। আমাকে মুক্তি দিতেই যেনো দেবদূত হয়ে খালাম্মা দরোজায় কড়া নাড়লেন। দরজা খুলে দিতেই ট্রেতে কয়েক পদের মিষ্টির প্লেট নিয়ে ঘরে ঢুকলেন। কী বলবো বুঝতে পারছিলাম না। অগত্যা নাজনীন-এর প্রশ্নবাণ থেকে মুক্তি পেতে মিষ্টির প্লেটে মন দিলাম।

\৬\

পারমিতার জগতে আমি কোন মুখ্য চরিত্র নই। জানি না আমার কথা আপনাদের স্মরণে আছে কি-না। পারমিতার গল্পের প্রয়োজনে আমি এসেছিলাম পার্শ্বচরিত্র হয়ে। পারমিতা যখন মেডিকেলে ভর্তি হয় এমবিবিএস পড়ার জন্য, তখন আমি ওর সহপাঠী হবার সুযোগ পাই। নার্সেস হোস্টেলের একাংশে এমবিবিএস-এর কয়েকজন ছাত্রীর জন্য কয়েকটি কক্ষ বরাদ্দ দেয়া হয়, সেখানে পারমিতার সাথে আমারও থাকার জায়গা হয়। ময়মনসিংহ শহরে পারমিতার বোনের বাসা ছাড়াও কয়েকজন আত্মীয়ের বাসা আছে, কিন্তু আমার কোনো আত্মীয়ের বাসা নেই; সুতরাং হোস্টেলে জায়গা না পেলে আমার জন্য পড়ালেখা চালিয়ে যাওয়া কঠিন; বাবা অবশ্য প্রয়োজনে শহরে আমার জন্য বাসা ভাড়ার কথাও ভেবেছিলেন; ভাগ্য ভালো নার্সেস হোস্টেলে জায়গা পেয়ে গেলাম। প্রথম থেকেই পারমিতার সাথে আমার সখ্য হয়ে উঠেছিলো; তৃতীয় বর্ষে উঠে আমাদের সখ্য গভীর হলো; অবশ্য আমাদের সখ্যে আমার আগ্রহটাই ছিলো বেশি। কবি সবুজ হাসপাতালে ভর্তি হবার পর পারমিতার দিক থেকেও ঘনিষ্ঠতা বাড়লো লক্ষ করলাম। পারমিতার সহপাঠী এবং রুমমেট হিসেবেই আমার কিঞ্চিত পরিচয় ঘটে আপনাদের সাথে, পরিচয় হয় সবুজের সাথেও। অসুস্থ হয়ে সবুজ হাসপাতালে ভর্তি না হলে হয়তো কোনদিনই তার সাথে আমার পরিচয় হতো না। পারমিতা হঠাৎ বিনানোটিসে বাড়ি চলে না গেলে সবুজের সাথে আমার ঘনিষ্ঠ হবার সুযোগও ঘটতো না; পার্শ্বচরিত্র হয়েও পারমিতার অনুপস্থিতিকালীন সময়ের কাহিনি বয়ানের জন্য সুযোগ আসতো না। আপনার নিশ্চয়ই মনে থাকবে বাড়ি চলে যাবার আগে পারমিতা আমায় সবুজের দেখাশোনা এবং যতœ নেবার দায়িত্ব দিয়ে যায়। আমি আমার উপর অর্পিত দায়িত্ব পালনে কখনো অবহেলা করিনি। কিন্তু পারমিতা ওর নিজস্ব রুগীকে আমার জিম্মায় রেখে যখন লাপাত্তা হয়ে গেলো, আমাকে তখন বাধ্য হয়েই সবুজের কিছু দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিতে হয়। বিশেষ করে স্টুডেন্ট-এর আত্মীয় হিসেবে কবিকে কেবিনে সিট দেয়া হয়েছিলো, রুগীর অবস্থা যতই ভালো হতে থাকলো, কেবিন ছাড়ার যাবতীয় আনুষ্ঠানিকতা ততই এগিয়ে এলো; এদিকে পারমিতার কোন খোঁজ নেই।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়