আজ তৃণমূলের সম্পূর্ণ প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করবেন মমতা

আগের সংবাদ

বাঙালির ইতিহাসের নায়ক

পরের সংবাদ

এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম

সেলিনা হোসেন

কথাসাহিত্যিক

প্রকাশিত: মার্চ ৫, ২০২১ , ১২:৫৭ পূর্বাহ্ণ আপডেট: মার্চ ৪, ২০২১ , ১১:২০ অপরাহ্ণ

সেলিনা হোসেন

কথাসাহিত্যিক

প্রতি বছর সাতই মার্চ যখন ফিরে আসে আমাদের হৃদয়ে অনেক কথা ভেসে ওঠে। এই দিনটির জন্যই বঙ্গবন্ধু জীবনভর সংগ্রাম করেছেন। একটি বক্তৃতার মধ্য দিয়ে তিনি নিরস্ত্র বাঙালি জাতিকে সশস্ত্র বাঙালি জাতিতে রূপান্তরিত করেছেন। এই একটি বক্তৃতার মধ্য দিয়ে বাংলার সাড়ে সাত কোটি মানুষকে তিনি স্বাধীনতার মন্ত্রে উজ্জীবিত করে একই মোহনায় দাঁড় করিয়েছেন। এত বিচক্ষণ নেতা ছিলেন যে, সব ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে সামরিক শাসকের উদ্দেশে চারটি শর্তারোপ করলেনÑ মার্শাল ল’ প্রত্যাহার কর, সেনাবাহিনী ব্যারাকে ফিরিয়ে নাও, এ ক’দিনে যে হত্যাকাÐ সংঘটিত হয়েছে তার বিচার বিভাগীয় তদন্ত কর এবং নির্বাচিত প্রতিনিধিদের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর কর। পাকিস্তানিরা তাকে বিচ্ছিন্নতাবাদী আখ্যায় আখ্যায়িত করার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু তিনি ছিলেন সদাসতর্ক এবং সচেতন। অন্যদিকে পুরো বক্তৃতাটি জুড়ে ছিল আসন্ন জনযুদ্ধের রণকৌশল এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা।

আজকের বাংলাদেশ বিশ্বদরবারে যেখানে আসীন হয়েছে, তা বঙ্গবন্ধুর অবদান। বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ ইউনেস্কোর স্বীকৃতির পরিপ্রেক্ষিতে এখন বিভিন্ন ভাষায় অনূদিত হচ্ছে। সেখানে তিনি কী বলেছিলেন, কেন বলেছিলেন- সেসব নিয়ে গবেষণা হচ্ছে। তার অসা¤প্রদায়িক ভাবনা, মানবতা, দৃঢ় নেতৃত্ব, দেশপ্রেম, মাতৃভাষাপ্রীতি, মূল্যবোধের জায়গাগুলো বিশ্বকে নতুন করে ভাবাচ্ছে। বঙ্গবন্ধুর এই বিশ্বদরবারে আসীন হওয়াকে আমাদেরকে মনেপ্রাণে ধারণ করতে হবে। ১৯৭১ সাল। মার্চ মাস। সাত তারিখ। সেদিন বিকেলে রেসকোর্স ময়দানে (সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) বসে যখন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অসাধারণ ভাষণটি শুনেছিলাম, সে সময় ভাবিনি সাতই মার্চের বিকেল নামে কোনো উপন্যাস আমি লিখতে পারব। ঠিক এর পরপরই অবশ্য ভেবেছিলাম, এ বিষয়ে কিছু লিখব, কিন্তু কী লিখব তা জানতাম না। এসেছিল। তো, বঙ্গবন্ধুর ভাষণ শেষ হলে মাঠ থেকে আমরা ফিরছিলাম স্বাধীনতার স্বপ্নের মগ্নচৈতন্যে বলীয়ান হয়ে। আমার সঙ্গে ছিল নমিতা স্যান্যাল, আমাদের বন্ধু। আমাদের সবারই সেদিন মনে হয়েছিল, পিছু হটার দিন আর নেই। সামনে যুদ্ধ। জীবনমরণ লড়াই। অসাধারণ ওই ভাষণটি মাথায় নিয়ে অনেকক্ষণ অপেক্ষা করেছি মাঠে। ভেবেছি ভিড় কমলে বের হব। মেয়েদের জন্য বাঁশ দিয়ে ঘেরাও করা একটি জায়গা ছিল মঞ্চের কাছে। কবি সুফিয়া কামাল ছিলেন সেখানে, আমি ছিলাম তাঁর কাছাকাছি। খালাম্মার সঙ্গে কথা বলে বের হই একটু পরে।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়