যুবরাজের দণ্ড চান খাশোগির তুর্কি প্রেমিকা

আগের সংবাদ

সীমান্তে পিছু হটলেন মোদি

পরের সংবাদ

সিরিয়ায় যুদ্ধাপরাধ

১০ বছরে নিহত চার লাখ এখনো নিখোঁজ লক্ষাধিক

প্রকাশিত: মার্চ ৪, ২০২১ , ১২:৩৪ পূর্বাহ্ণ আপডেট: মার্চ ৪, ২০২১ , ১২:৩৪ পূর্বাহ্ণ

কাগজ ডেস্ক : জাতিসংঘের তদন্তে প্রকাশ, সিরিয়ায় গত ১০ বছরের গৃহযুদ্ধে প্রায় চার লাখ মানুষের মৃত্যু ঘটেছে, আটক হওয়া লাখ লাখ নিরীহ মানুষের খোঁজ মেলেনি এখনো। গৃহযুদ্ধের ধাক্কায় দেশটির অর্ধেক জনগোষ্ঠীই ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়েছে। বিভিন্ন দেশে শরণার্থী হিসেবে আশ্রয় নিয়েছে প্রায় ৬০ লাখ মানুষ। গৃহযুদ্ধ চলাকালীন সেখানে যুদ্ধাপরাধ বিষয়ে জাতিসংঘের তদন্তভিত্তিক নতুন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এসব তথ্য। প্রায় তিন হাজারের বেশি প্রত্যক্ষদর্শীর সাক্ষ্য আর শতাধিক আটকের ঘটনা বিশ্লেষণের ভিত্তিতে তৈরি হয়েছে ওই প্রতিবেদন। তদন্তকারীদের কাছে ‘কল্পনাতীত এ দুর্ভোগ’ বিষয়ে প্রত্যক্ষদর্শীর সাক্ষ্য থেকে জানা গেছে, যুদ্ধের নামে মাত্র ১১ বছর বয়সি ছেলেমেয়েদেরও ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। জাতিসংঘ প্রতিবেদনে বলা হয়, বিষয়টি এখন জাতীয় মনোবৈকল্যে পরিণত হয়েছে, যে বিষয়ে এখনি ব্যবস্থা নেয়া দরকার।
২০১১ সালে সিরিয়ায় প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদবিরোধী এক বিক্ষোভের বিরুদ্ধে সরকার প্রাণঘাতী অবস্থান নিলে তার জেরে দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের সূচনা ঘটে দেশটিতে। এক দশকের ওই সংঘাতে কমপক্ষে ৩ লাখ ৮০ হাজার মানুষের মৃত্যু ঘটেছে। গৃহযুদ্ধে জড়িয়ে পড়া সব পক্ষই মানবাধিকার লঙ্ঘন করেছে প্রতিপক্ষকে শাস্তি দেয়ার জন্য।
সরকারি কারাগারে আটক থাকার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে কয়েকজন জানান, তারা মাসের পর মাস দিনের আলো দেখেননি, নোংরা পানি পান এবং বাসি খাবার খেতে বাধ্য হয়েছেন। ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত প্রকোষ্ঠে তাদের রাখা হয়। সেখানে চিকিৎসা সুবিধা দূরের কথা, টয়লেট সুবিধাও ছিল না আদৌ।
মিথ্যা স্বীকারোক্তি আদায়ের জন্য বৈদ্যুতিক শক দেয়া, দেহের বিভিন্ন অংশে আগুনের ছ্যাঁক দেয়া, দাঁত ও নখ উপড়ে ফেলা এবং সিলিংয়ের রড থেকে ঝুলিয়ে রাখাসহ অন্তত ২০টি উপায়ে সেখানে তাদের ওপর নির্যাতন করা হতো। পাশাপাশি, যে কোনো মুহূর্তে হত্যার হুমকি দেয়াটা ছিল নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা।
হোমস ও দামেস্কে আটক থাকাকালে নির্যাতনের শিকার হওয়া এক নারী জানান, এখন আমি ডায়াপার ছাড়া থাকতে পারি না। সারা দেহে ব্যথা। জীবনটা পুরোপুরি শেষ হয়ে গেছে। বহু পুরুষ জানান, তাদের নগ্ন করে পুরুষাঙ্গে বৈদ্যুতিক শক দেয়ার পাশাপাশি ধর্ষণও করা হয়েছে।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়