১০ বছরে নিহত চার লাখ এখনো নিখোঁজ লক্ষাধিক

আগের সংবাদ

ভারত থেকে আরও চার কোটি টিকা কিনছে বাংলাদেশ

পরের সংবাদ

চীন-ভারত দ্বন্দ্ব

সীমান্তে পিছু হটলেন মোদি

প্রকাশিত: মার্চ ৪, ২০২১ , ১২:৩৬ পূর্বাহ্ণ আপডেট: মার্চ ৪, ২০২১ , ১২:৪৪ পূর্বাহ্ণ

কাগজ ডেস্ক : বছরব্যাপী চলমান সীমান্ত সংঘাতের জেরে সর্বশেষ পরিস্থিতি যেখানে গড়িয়েছে, তাতে সীমান্ত-সংঘাতের ঘটনায় চীনের দাবির কাছে নতি স্বীকার করায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকেই দোষারোপ করছে ভারতের গণমাধ্যম। দ্য অয়্যার বলছে, লাদাখকে প্লেটে সাজিয়ে চীনের হাতে তুলে দেয়া হয়েছে। মোদির পাশাপাশি একই সঙ্গে অভিযুক্ত হচ্ছেন ভারতীয় সেনাবাহিনীর শীর্ষ নেতৃত্ব, যারা চীনের যুদ্ধ প্রস্তুতির মোকাবিলায় পুরোপুরি ব্যর্থ বলে দাবি করা হচ্ছে। পর্যবেক্ষকদের বিবেচনায়, ভারতের কূটনৈতিক মজবুত অবস্থানটি বদলে যেতে শুরু করে সাবেক সেনাপ্রধান এবং বর্তমান মন্ত্রিসভার সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক মন্ত্রী জেনারেল ভি কে সিংয়ের একটি বক্তব্যের পর। গত মাসের প্রথম সপ্তাহে গণমাধ্যমের সামনে তিনি বলেন, আপনারা অনেকেই হয়তো জানেন না, আমরা নিজেরাই কতবার প্রকৃত সীমান্তরেখা লঙ্ঘন করেছি। কিন্তু আমরা সাধারণত এটি ঘোষণা করি না। চীনের গণমাধ্যমেও এ খবর ছাপা হয় না। আপনারা আশ^স্ত থাকুন, চীন যদি ১০ বার সীমান্ত লঙ্ঘন করে থাকে, আমরা সে ঘটনাটি ঘটিয়েছি কমপক্ষে ৫০ বার।
অথচ ভারত বরাবরই বলে এসেছে যে, তারা কখনো সীমান্ত লঙ্ঘন করেনি। এ বক্তব্যের পর অনতিবিলম্বে লাদাখে সেনা মোতায়েনের জন্য ভারতকে অভিযুক্ত করে চীনা প্রেসিডেন্ট শিং জিনপিং কড়া ভাষায় ফের জানান, চীনা ভূখণ্ডের এক ইঞ্চি জমিও বেদখল হতে দেয়া হবে না। একটি সুবিধাজনক অবস্থানে থাকার সুবাদে বর্তমানে তারা এমনকি এটি বলতেও দ্বিধা করছে না যে, ভারতের অন্তর্ভুক্ত থাকা অরুণাচল প্রদেশটি মূলত তাদের ভূখণ্ডের আওতায় পড়েছে। এটিকে তারা অভিহিত করে থাকে দক্ষিণ তিব্বত হিসেবে। এদিকে নতুন বছরের জানুয়ারি মাসে ভারতীয় গণমাধ্যমগুলো স্যাটেলাইট ইমেজসহ একের পর এক বিভিন্ন প্রতিবেদন প্রকাশ করে চলেছে, যা দেখে মোদি সরকারের অস্বস্তিও বেড়েই চলেছে ক্রমশ। এসব ইমেজে দেখা যাচ্ছে, অরুণাচলের বিপরীতে অবস্থিত তিব্বতে কী বিপুল যুদ্ধ প্রস্তুতি একপ্রকার সম্পন্ন করেই এনেছে চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মি। একই সময়ে ২টি ফ্রন্টে যুদ্ধের হুমকির মুখে পড়ে একপ্রকার তাড়াহুড়ো করেই লাদাখ থেকে সেনা গুটিয়ে নিতে দেরি করেননি প্রধানমন্ত্রী মোদি। রাতারাতি সিদ্ধান্ত নিয়েই দক্ষিণ প্যাংগংয়ের কৈলাশ পার্বত্য এলাকা ছেড়ে দেন মোদি। এর অপর দিকেই অবস্থিত চীনা ফৌজের মলডো গ্যারিসন। রাত্রিকালীন এক দুঃসাহসী অভিযানে সেটি দখল করে নিয়েছিল ভারতীয় সেনাবাহিনী। এই ছোট্ট ঘটনাটির কারণেই গত বছর ১০ সেপ্টেম্বর রাশিয়ার মস্কোতে দুদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের আলোচনার ফলাফল আলোর মুখ দেখতে পারেনি পাঁচ মাস। অন্যদিকে প্যাংগং থেকে সেনা অপসারণের পরিপ্রেক্ষিতে হতাশার কারণ নেই জানিয়ে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং গত মাসের ১০ তারিখে পার্লামেন্টে দেশবাসীকে আশ^াস দিয়ে বলেন, অন্যান্য সংঘাতপ্রবণ এলাকা যেমনÑ হট স্প্রিং, গোগরা, দেমচক এবং দেসপ্যাং এলাকাগুলো ৪৮ ঘণ্টার ভিতর নিজেদের দখলে আনা হবে।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়