শাস্তি পেলেন জামালপুরের সেই বিতর্কিত ডিসি

আগের সংবাদ

করোনা টিকা সংকটে নাস্তানাবুদ হচ্ছে ইউরোপ

পরের সংবাদ

দুই পরাশক্তির টানাপড়েনে মিয়ানমার

গণতন্ত্রের কানামাছি ভোঁ

প্রকাশিত: মার্চ ৪, ২০২১ , ১২:৩০ পূর্বাহ্ণ আপডেট: মার্চ ৪, ২০২১ , ১২:৪৯ পূর্বাহ্ণ

কাগজ ডেস্ক : নিজেদের খোয়াতে বসা রাজনৈতিক ক্ষমতা ফিরে পেতে এবং আঞ্চলিক পর্যায়ে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এ দেশটিকে কাজে লাগিয়ে চীনের ক্রমবর্ধমান ক্ষমতা প্রতিহত করতে বিশ্বশক্তিগুলো নেপিদোর কর্তাকর্তাদের সঙ্গে কী ধরনের আপসরফায় আসবে, সেটি নিশ্চিত করতেই আসলেই অভ্যুত্থানের কোনো বিকল্প খোলা ছিল না মিয়ানমার সেনাবাহিনীর সামনে।
দেশটির গণতান্ত্রিক নেত্রী অং সান সু কি ও তার দল গত বছর নভেম্বরের নির্বাচনে ভূমিধস বিজয় অর্জন করেন। যে সপ্তাহে অভ্যুত্থান সংঘটিত হয় ওই সপ্তাহেই নবনির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের পার্লামেন্টে বসার কথা ছিল। কিন্তু ২০০৮ সালের সংবিধানের ৪১৭ অনুচ্ছেদ কাজে লাগিয়ে নির্বাচনে কারচুপি ও জালিয়াতির অভিযোগ তুলে স্টেট কাউন্সেলর অং সান সু কি ও তার দলীয় নেতাদের গ্রেপ্তার করে।
লক্ষণীয়, গণতান্ত্রিক চর্চার ওপর এ জাতীয় সামরিক হামলায় বিশ্ব সম্প্রদায়ের প্রতিক্রিয়া এ ক্ষেত্রে ছিল কিছুটা ধীরগতির। ২০১০ সালে গৃহবন্দি দশা থেকে মুক্তি পর্যন্ত বিশ্বজুড়ে সু কি ছিলেন দেশটির গণতন্ত্রের অবিসংবাদী মুখচ্ছবি। কিন্তু এ সুখ্যাতির ভরাডুবি ঘটে ২০১৯ সালে যখন বিশ্বশক্তির চাপের মুখে তাকে গিয়ে দাঁড়াতে হয় আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে, আর সেখানে সাফাই গাইতে হয় তার দেশের সেনাবাহিনীর হাতে সংঘটিত জঘন্য রোহিঙ্গা গণহত্যার পক্ষে। ওই ঘটনার পর ধুলায় মিশে যায় গণতন্ত্র আর মানবাধিকারের সোচ্চার প্রতিনিধি হিসেবে সু কির উজ্জ্বল ভাবমূর্তি।
তবে সামরিক দুঃশাসনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে ভয়ে পিছিয়ে থাকেনি দেশটির সাধারণ মানুষ। শুরু হয় বিক্ষোভ-প্রতিবাদের এক নতুন অধ্যায়। বিক্ষোভ প্রথম দেশটির বৃহত্তম শহর ইয়াঙ্গুনে ব্যাপক আকারে ছড়ালেও দ্বিতীয় সপ্তাহে সেটি ঢুকে পড়ে রাজধানী নেপিদোতেও। সেখানেও শুরু হয় বিক্ষোভ সমাবেশ আর গণতন্ত্রকামী মানুষের মোটরবাইক শোভাযাত্রা। ২০১৫ এবং ২০২০ সালের নির্বাচনে এই নেপিদোতেও সাফল্য পেতে ব্যর্থ হয় সেনাশক্তির হাতে গড়া দল ইউনিয়ন সলিডারিটি এন্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি (ইউএসডিপি)। অন্যদিকে বিক্ষোভ দমনে কড়া ব্যবস্থা নিচ্ছে সামরিক কর্তৃপক্ষ। ইতোমধ্যেই ৩০ জনের বেশি নিহত এবং দেড় হাজারের বেশি গ্রেপ্তারের ঘটনা ঘটেছে সেদেশে।
বস্তুত, মিয়ানমারের গণতান্ত্রিক চর্চার বিষয়টি বারবার মুখথুবড়ে পড়ছে চীন আর যুক্তরাষ্ট্রের মতো দুটি পরাশক্তির টানাপড়েনে। দেশটিতে বৃহত্তম বিনিয়োগকারী চীনের সঙ্গে ১ হাজার ৩০০ মাইলের দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে মিয়ানমারের। এক দশক আগে চীনের দিক থেকে দেশটির মুখ ঘুরিয়ে দেয়ার জন্য দীর্ঘদিনের অবরোধ তুলে নিয়ে ‘এশিয়ার দিকে মোচড়’ নামে একটি রোডম্যাপ ঘোষণা করেন তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। কিন্তু নিজেদের রোডম্যাপ আগেই তৈরি করে রাখে তাতমাদো। সে অনুযায়ী ২০০৮ সালে নতুন সংবিধান রচনা করে নির্বাচনের আয়োজন করে ২০১০ সালে যেখানে ইউএসডিপির ছদ্মাবরণে ক্ষমতায় আসীন হয় তারাই। এরপর মুক্ত করে দেয় সু কিকে। ২০১৫ সালে নির্বাচনে অংশ নেয়ারও অনুমতি দেয়া হয় তাকে। ২০১২ সালে মিয়ানমার সফর করেন ওবামা এবং অবরোধ তুলে নেয়া হয় ২০১৬ সালে। আশা ছিল, এসব পদক্ষেপের মধ্য দিয়ে মিয়ানমারের মুখ পশ্চিমের পানে ঘোরানো সম্ভব হবে। কিন্তু সেটি ঘটেনি। প্রতিবেশী চীনের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি করা সম্ভব হয়নি এমনকি সু কির পক্ষেও। ২০১৭ সালে বেইজিং সফরে গিয়ে চীনের রোড এন্ড বেল্ট উদ্যোগে অংশীদার হিসেবে চুক্তি স্বাক্ষর করেন সু কি।
২০২১ সালে জানুয়ারির মাঝামাঝি শি জিনপিংয়ের বার্তা নিয়ে নেপিদো সফরে আসেন চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই। তিনি সামরিক নেতৃত্বের পাশাপাশি সু কির সঙ্গেও বৈঠক করেন। চীনের সঙ্গে বন্ধুত্ব বিষয়ে উচ্ছ্বাস জানান উভয়ই। ফলে এটি পরিষ্কার যে, মিয়ানমার থেকে চীনের প্রভাব হটাতে ওয়াশিংটনের তৎপরতার কোনো ইন্ধন নেই গত ১ ফেব্রুয়ারি সংঘটিত এই সেনা অভ্যুত্থানের পেছনে। কেননা, সেনাবাহিনী এবং এনএলডি এখনো বেইজিংয়ের দিকেই ঝুঁকে আছে সর্বশেষ উভয়পক্ষের আনুগত্য।
মূলত, বাইরে থেকে কেউ তাদের উদ্ধারে এগিয়ে আসবে না জেনে দেশটির জনগণই নেমে আসতে বাধ্য হয়েছেন রাজপথে। ‘ড্রাম রেভোলুশন’ নামে নতুন আন্দোলন শুরু করেছেন তারা। যে কোনো মূল্যে ফের বেসামরিক শাসনেই ফিরে যেতে চাইছেন তারা। এমনকি যদি তাতে আগের মতো ‘নেপথ্য ক্রীড়নক’ হিসেবে সামরিক শক্তিকেই ফের মেনে নিতে হয়, তাও সই।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়