হাতকড়া পুলিশের হাতেই, খুনের আসামি পালিয়ে বনে

আগের সংবাদ

দেশে করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে: প্রধানমন্ত্রী

পরের সংবাদ

সদস্যপদ স্থগিত বাচসাস, একজনের বাতিল

প্রকাশিত: মার্চ ৩, ২০২১ , ৭:৪২ অপরাহ্ণ আপডেট: মার্চ ৪, ২০২১ , ৫:৪৩ অপরাহ্ণ

বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সাংবাদিক সমিতির (বাচসাস) তিন সদস্যের সদস্যপদ স্থগিত ও একজনের সদস্যপদ বাতিল করা হয়েছে। স্থগিতকৃত সদস্যরা হলেন সংগঠনটির সাবেক সভাপতি আবদুর রহমান, সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইকবাল করিম নিশান ও সাবেক সহ-সাধারণ সম্পাদক হামিদ মোহাম্মদ জসিম। অন্যদিকে, সাবেক অর্থ সম্পাদক নবীন হোসেনের সদস্যপদ বাতিল করা হয়েছে। গতকাল বাচসাসের কার্যনির্বাহী পরিষদের বর্তমান সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান বাবু স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ বিষয়ে জানানো হয়।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নির্বাচিত কমিটির কাছে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট বুঝিয়ে না দেয়া, ৩৮ লাখ টাকার আয়-ব্যয় হিসাবের অসঙ্গতি, অর্থনৈতিক প্রতিবেদনের সঙ্গে অডিট রিপোর্টের মিল না থাকা, সংগঠনের রেজুলেশান খাতা বুঝিয়ে না দেয়া, সংগঠন বিরোধী কার্যক্রম করা, বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করার অপরাধে কার্যনির্বাহী পরিষদ এই সদস্যদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।
বিগত ১৬ মাস ধরে সংগঠন থেকে মৌখিক ও চিঠির মাধ্যমে নির্বাচিত কমিটি আবদুর রহমান, ইকবাল করিম নিশান ও নবীনের কাছে উপরে উল্লেখিত বিষয়গুলো জানতে চাইলেও তারা শুধু কালক্ষেপণ করেছেন। শাস্তিপ্রাপ্ত সদস্যদের বারবার অনুরোধ করার পরও এবং আত্মপক্ষ সমর্থন করে বক্তব্যপ্রদানের জন্য চিঠি দিলেও তারা সবকিছু বুঝিয়ে দেননি। ফলে গত ১৬ জানুয়ারি কার্যনির্বাহী পরিষদ একটি নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করে। এতে আহবায়ক ছিলেন রফিকুজ্জামান, বরুন শংকর এবং মুজতবা সউদ। পদাধিকার বলে এই তদন্ত কমিটির সদস্য ছিলেন সংগঠনের বর্তমান সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক। তদন্ত কমিটি একাধিক বৈঠক করে বিভিন্ন কাগজপত্র যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে প্রথমে সাবেক অর্থ সম্পাদক নবীন হোসেনকে তলব করে। নবীন হোসেন তদন্ত কমিটিকে ৩৮ লাখ টাকার মধ্যে মাত্র ১১ লাখ ৩৭ হাজার ৪০০ টাকার বিল-ভাউচার দিতে পেরেছেন। এছাড়া বাকি টাকার খরচের হিসাব তিনি জানেন না বলে জানিয়েছেন।

নবীন হোসেন বলেন, অডিট রিপোর্টে ঝামেলা রয়েছে। কোন কোন খাত থেকে এই ৩৮ লাখ টাকা এসেছে, তা তিনি জানেন না এবং ১১ লাখ ৩৭ হাজার ৪০০ টাকার বাইরে অন্যকোনো বিল-ভাউচার তার কাছে নেই। নবীন হোসেনের বক্তব্যের সূত্র ধরেই সাবেক সভাপতি আবদুর রহমান ও ইকবাল করিম নিশানকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র রেজুলেশান খাতাসহ তদন্ত কমিটির সঙ্গে দেখা করার জন্য অনুরোধপত্র পাঠিয়ে চিঠি দেয়। কিন্তু তারা কেউই উপস্থিত হননি। পরে তদন্ত কমিটি প্রাপ্ত কাগজপত্র দেখে এবং সাবেক অর্থ সম্পাদক নবীন হোসেনের জবানবন্দির আলোকে তদন্ত প্রতিবেদন দেয়। প্রতিবেদনে বিস্তারিত আলোচনা এনে তারা জানায় যে, ‘২০১৭ সাল থেকে ২০১৯ সালে আবদুর রহমান-ইকবাল করিম নিশানের মেয়াদকালে অর্থনৈতিক বিষয়ে নানাধাপে অনিয়ম ও অপরাধ সংগঠিত হয়েছে। সেখানে অর্থ সম্পাদক নিজেও জড়িত ছিলেন। তিনজন একে অপরের সাথে যোগসাজশে এই অপরাধপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করে সংগঠনের ক্ষতি করেন। এজন্য তিনজনই সমানভাবে দোষী।

অবশেষে বাচসাসের বর্তমান কার্যনির্বাহী পরিষদকে সংগঠন থেকে এই তিনজন সদস্যের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়ার সুপারিশ করে তদন্ত কমিটি। সুপারিশে সংগঠন থেকে তিনজনের প্রাথমিক সদস্যপদ স্থগিত অথবা বাতিল করতে বলা হয়। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে এ সুপারিশকে আমলে নেয় কার্যকরী পরিষদ। দেশের সবচাইতে পুরোনো এবং ঐতিহ্যবাহী সাংবাদিকদের এই সংগঠনে ভবিষ্যতে যেন আর কেউ এ ধরনের কাজের সঙ্গে জড়িত হওয়ার সাহস না দেখাতে পারেন, সে জন্য কার্যকরী পরিষদ এ নজির স্থাপন করেছে। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি থেকে জানা যায়, কার্যনির্বাহী পরিষদ তদন্ত কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী আবদুর রহমান ও ইকবাল করিম নিশানের প্রাথমিক সদস্যপদ আগামী দ্বিবার্ষিক সাধারণ সভা পর্যন্ত স্থগিত করা হয়েছে এবং সাবেক অর্থ সম্পাদক নবীন হোসেনের প্রাথমিক সদস্যপদ বাতিল করা হয়েছে।

ইভূ

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়