হবিগঞ্জে বিজিবির অভিযানে ভারি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার

আগের সংবাদ

সাংস্কৃতিক আগ্রাসন থেকে মুক্তির উপায়

পরের সংবাদ

বদলে যাওয়া বাংলাদেশ

বিভুরঞ্জন সরকার

জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষক

প্রকাশিত: মার্চ ৩, ২০২১ , ১২:৪৭ পূর্বাহ্ণ আপডেট: মার্চ ২, ২০২১ , ১০:৫৬ অপরাহ্ণ

মার্চ মাস শুরু হয়েছে। ফেব্রুয়ারি মাস আমরা পেরিয়ে এলাম। ফেব্রুয়ারি মাসকে আমরা ভাষার মাস বলি। মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষার জন্য, বাংলাকে অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি বুকের রক্ত ঢেলে দিয়ে এক অনন্য সাহসের ইতিহাস তৈরি করেছিল এ দেশের ছাত্র-তরুণরা। একুশের পথ ধরে মাথা নত না করে একের পর এক আন্দোলনের সিঁড়ি ভেঙে আমরা পৌঁছেছি স্বাধীনতার দুয়ারে। ১৯৭১ সালে আমরা এক অসম যুদ্ধে ভারতীয় মিত্র বাহিনীর সহায়তায় হানাদার পাকিস্তানি বাহিনীকে পরাজিত করে মুক্ত হয়েছি, স্বাধীনতা পেয়েছি। একাত্তরের মার্চে স্বাধীনতা যুদ্ধ শুরু হয়েছিল বলে মার্চকে বলা হয় স্বাধীনতার মাস।
ভাষার মাস ফেব্রুয়ারি। স্বাধীনতার মাস মার্চ। বায়ান্ন থেকে একাত্তর। ভাষার পথ ধরে স্বাধীনতা। এবার অর্থাৎ ২০২১ সাল আমাদের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী। ৫০ বছরে আমরা অনেক দূর এগিয়েছি। ৫০ বছরের অর্জনের তালিকা দীর্ঘ। বাংলাদেশ রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠাতা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকীও আমরা পালন করছি। মার্চে যেমন আমাদের স্বাধীনতা দিবস, তেমনি মার্চেই (১৭ মার্চ) বঙ্গবন্ধুরও জন্মদিন। কি বিস্ময়কর যোগসূত্র। এবার যেহেতু স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী সেহেতু নানা বর্ণাঢ্য আয়োজনে বছরটি উদযাপন করাটাই স্বাভাবিক ছিল। তবে করোনা বৈশ্বিক মহামারি আমাদের অনেক ইচ্ছা পূরণের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীও হয়তো সীমিত পরিসরেই হবে।
গত এক বছরে করোনা ভাইরাস পৃথিবীকে এক ভয়াবহ ধাক্কা দিয়েছে। মৃত্যুর মিছিল দেখে, প্রতিকারের তাৎক্ষণিক উপায় না পেয়ে মানুষের উদ্বেগ বেড়েছে, অসহায় অবস্থায় পড়েছে। দেশে দেশে করোনা যে বিপর্যয় তৈরি করেছে, অর্থনীতিকে যেভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে তা সামলে উঠতে সময় লাগবে। তবে মানুষের অসাধ্য কিছু নয়। মানুষের ইতিহাস তো জয়ের ইতিহাস, এগিয়ে যাওয়ার ইতিহাস। পরাজয় সাময়িক, জয়ই স্থায়ী ধারা। তাই স্বল্পতম সময়েই করোনার টিকা আবিষ্কারে সাফল্য পাওয়া গেছে। করোনা বা অন্য কোনো আপদ-বিপদ মানুষের সামনে বাধা তৈরি করলেও সে বাধা সরিয়ে এগিয়ে যাওয়ার সাহস ও উদ্যম মানুষ কখনো হারায় না। তাই মানুষ হারেও না।
স্বাধীনতার মাসে প্রবেশের আগ মুহূর্তে আমরা এবার পেয়েছি একটি আনন্দ সংবাদ। স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে আমাদের উত্তরণ ঘটছে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত ২৭ ফেব্রুয়ারি স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণে জাতিসংঘের চূড়ান্ত সুপারিশ পাওয়ার সংবাদ জানিয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, ‘আমরা উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হওয়ার পূর্ণ যোগ্যতা অর্জন করেছি। আমাদের এই উত্তরণ এমন এক সময়ে ঘটল যখন আমরা মুজিববর্ষ উদযাপন করছি, মহান স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী পালনের দ্বারপ্রান্তে। বাংলাদেশের জন্য এ উত্তরণ এক ঐতিহাসিক ঘটনা। এটা অত্যন্ত আনন্দের ও গর্বের।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মাথাপিছু আয়, মানবসম্পদ এবং অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত ভঙ্গুরতাÑ এই তিনটি সূচকের ভিত্তিতে জাতিসংঘ স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণের বিষয়টি বিবেচনা করে। ২০১৮ সালে অনুষ্ঠিত প্রথম ত্রিবার্ষিক পর্যালোচনা সভায় বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো আনুষ্ঠানিকভাবে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণের তিনটি মানদণ্ডই ভালোভাবে পূরণ করে। এ বছর অনুষ্ঠিত ত্রিবার্ষিক পর্যালোচনা সভায় বাংলাদেশ পুনরায় সব মানদণ্ড অত্যন্ত সফলতার সঙ্গে পূরণের মাধ্যমে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণের যোগ্যতা অর্জন করল।’
প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, বর্তমানে আমাদের মাথাপিছু আয় ২ হাজার ৬৪ ডলার। মানদণ্ডের চেয়ে প্রায় ১ দশমিক ৭ গুণ। মানবসম্পদ সূচকে নির্ধারিত মানদণ্ড ৬৬-এর বিপরীতে বাংলাদেশের অর্জন ৭৫ দশমিক ৪। অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত ভঙ্গুরতা সূচকে উত্তরণের জন্য মানদণ্ড নির্ধারিত ছিল ৩২ বা তার কম। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ২৭। বাঙালি বীরের জাতি উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, মাত্র ৯ মাসে স্বাধীনতার লাল সূর্যকে ছিনিয়ে এনেছি। উন্নয়নের এই গতিধারা বজায় থাকলে বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশ অচিরেই একটি উন্নত-সমৃদ্ধ-মর্যাদাশীল দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবেÑ এই আশাবাদ ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের এই অর্জনকে নতুন প্রজন্মকে উৎসর্গ করেন। সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী বদলে যাওয়া এক বাংলাদেশের চিত্র তুলে ধরে বলেন, ২০০৮-০৯ অর্থবছরে জিডিপির আকার ছিল মাত্র ১০৩ দশমিক ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। ২০১৯-২০ সালে তা ৩৩০ দশমিক ২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত হয়েছে। ২০০৮-০৯ বছরে রপ্তানি আয়ের পরিমাণ ছিল ১৫ দশমিক ৫৭ বিলিয়ন ডলার। ২০১৮-১৯ বছরে তা ৪০ দশমিক ৫৪ বিলিয়ন ডলারে বৃদ্ধি পায়। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ২০০৮-০৯ বছরে ৭ দশমিক ৪৭ বিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে এখন ৪৪ দশমিক ০৩ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। ২০০১ সালে দারিদ্র্যের হার ছিল ৪৮ দশমিক ৯ শতাংশ এবং হতদারিদ্র্যের হার ছিল ৩৪ দশমিক ৩ শতাংশ। ২০১৯ সালে দারিদ্র্যের হার কমে হয়েছে শতকরা ২০ দশমিক ৫ ভাগ এবং হতদারিদ্র্যের হার দাঁড়িয়েছে ১০ দশমিক ৫ শতাংশ। ২০০৯ সালে বিদ্যুতের উৎপাদন ক্ষমতা ছিল ৫ হাজার ২৭১ মেগাওয়াট। বর্তমানে বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ২৪ হাজার ৪২১ মেগাওয়াটে উন্নীত এবং বিদ্যুৎ সুবিধাভোগীজনসংখ্যা ৪৭ থেকে ৯৯ শতাংশে উন্নীত হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পাকিস্তান আমলে বাংলার বঞ্চনার কথা তুলে ধরেন এবং বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে স্বাধীনতা অর্জনের পর শূন্য হাতে বিধ্বস্ত দেশ পুনর্গঠনে বঙ্গবন্ধু সরকারের বিভিন্ন সাফল্যের কথা উল্লেখ করে বলেন, ভারত থেকে ফিরে আসা ১ কোটি শরণার্থীসহ দেশের ভেতরে উদ্বাস্তু হয়ে পড়া প্রায় সাড়ে ৩ কোটি মানুষকে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা, শহীদ পরিবার, নির্যাতিত পরিবার, মুক্তিযোদ্ধা, ঘরবাড়ি হারানো মানুষÑ সবার প্রতি সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয়া হয়েছিল। মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে বর্তমান অবস্থায় আসতে বাংলাদেশ ফুল বিছানো পথে এসেছে বলে মনে করার কোনো কারণ নেই। অনেক প্রতিকূলতা মোকাবিলা করেই এগোতে হয়েছে। জন্মলগ্ন থেকেই আমাদের শত্রু এবং মিত্র ছিল। স্বাধীন দেশ হিসেবে বাংলাদেশ মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারবে কিনা তা নিয়ে কারো কারো সংশয় ছিল। কেউ কেউ ব্যঙ্গ-বিদ্রুপ করতেও দ্বিধা করেননি। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক নানা সমীকরণ আমাদের জন্য পথের কাঁটা হয়েছিল। স্বাধীনতা লাভের মাত্র সাড়ে তিন বছরের মাথায় স্বাধীনতার মহানায়ক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবকে সপরিবারে হত্যা করে শুরু হয়েছিল উল্টোযাত্রা। তবে অনেক চড়াই-উতরাই পেরিয়ে পথের বাধা সরিয়ে, শত্রুর মুখে ছাই দিয়ে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সরকার গঠিত হওয়ার পর থেকে আবার বাংলাদেশের নবযাত্রা শুরু হয়। গত কয়েক বছরে সবাই এক নতুন বাংলাদেশকে দেখছে। পদ্মা সেতুর মতো বড় প্রকল্প বাস্তবায়ন হচ্ছে নিজস্ব অর্থায়নে। উন্নয়নের মহাসড়কে আজ বাংলাদেশ।
তার মানে কি এই যে, আমাদের সামনে আর কোনো চ্যালেঞ্জ নেই? যা অর্জন করেছি তা-ই যথেষ্ট? না, তা নয়। আমাদের আরো বহুদূর যেতে হবে। দেশের সব মানুষের সব আশা-আকাক্সক্ষা এখনো পূরণ হয়নি। সবার জন্য নিরাপদ জীবন নিশ্চিত করা এখনো সম্ভব হয়নি। সব মানুষের স্বাস্থ্য, শিক্ষা, বাসস্থান, কর্মসংস্থান এখনো নিশ্চিত হয়নি। রাজনৈতিক অঙ্গীকার এবং সদিচ্ছা নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে যেতে পারলে এখনো যেসব স্বপ্ন পূরণ বাকি আছে, সেগুলো পূরণ করা কঠিন হবে না। অর্জনকে ধরে রাখতে হবে এবং অধিক অর্জনের জন্য সক্রিয় ও উদ্যমী থাকতে হবে। যদি লক্ষ্য স্থির থাকে এবং লক্ষ্য অর্জনের নির্ভুল কৌশল জানা থাকে তাহলে যে সফলতা পাওয়া যায়, তা আমরা গত কয় বছরের অভিজ্ঞতা থেকেই বুঝতে পারছি।
গত পাঁচ দশকে এশিয়া ও আফ্রিকার অন্য দেশের তুলনায় আমাদের অর্জনটা প্রশংসনীয় বলে উল্লেখ করে অর্থনীতিবিদ ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেছেন, আগামী পাঁচ বছর আমাদের প্রধান কাজ হবে মাথাপিছু জাতীয় আয় বৃদ্ধির হারকে অব্যাহত রাখা। মানবসম্পদ উন্নয়নের ধারাকে অব্যাহত রাখা। একই সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তন-সম্পর্কিত বিপন্নতাকে নিয়ন্ত্রণ করা। এই অর্জনের মধ্যে নারীর প্রতি আমাদের বৈষম্যমূলক আচরণ কমাতে হবে। রপ্তানিসহ বিভিন্ন অর্থনৈতিক ভঙ্গুরতা মোকাবিলা করতে হবে। মনে রাখতে হবে, বাংলাদেশকে আগামী পাঁচ বছর প্রতিকূল বিশ্ব অর্থনীতির মধ্যে বিকাশ লাভ করতে হবে।
দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য আরো একটি বহুল আলোচিত বিষয়ের প্রতি নজর দিয়ে বলেছেন, সাম্প্রতিককালে বিশ্ব সম্প্রদায় উন্নয়নের মাপকাঠিতে দুটি বিষয়কে খুব গুরুত্ব দিয়ে দেখছে। প্রথমটি হলো, জাতীয় উন্নয়ন কতখানি অন্তর্ভুক্তিমূলক হচ্ছে। অর্থাৎ দেশে আর্থ-সামাজিক ও প্রথাগত বৈষম্য কমছে কি না। দ্বিতীয়ত, উন্নয়নের পরিপূরক সুশাসন রাষ্ট্র নিশ্চিত করছে কি না। অর্থাৎ নাগরিক অধিকার তথা মানবাধিকার যথাযথভাবে রক্ষিত হচ্ছে কি না। তাই আগামী ৫-১০ বছরের উন্নয়নে আমাদের বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে সমাজে বৈষম্য কমানোর দিকে। একই সঙ্গে রাষ্ট্র জীবনের সব ক্ষেত্রে নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।
বাংলাদেশ কাঠামোগত উন্নয়নে এবং কিছু গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক সূচকে এগিয়ে গেলেও রাজনীতি এবং গণতান্ত্রিক অধিকারের দিক থেকে এখনো সবার কাছ থেকে প্রশংসা পাওয়ার জায়গায় পৌঁছতে পারেনি বলে কেউ কেউ মনে করেন। আমরা এখনো দেশের রাজনীতি থেকে সংঘাত-সহিংসতা এবং হিংসা-বিদ্বেষ দূর করতে পারিনি। রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে সহযোগিতার ধারা সংযোজন করতে হবে, সহনশীলতার চর্চা বাড়াতে হবে। গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে আমরা মজবুত করে তুলতে পারিনি। নির্বাচন ব্যবস্থাকে বিতর্কমুক্ত করার চেয়ে বিতর্কিত করার চেষ্টা লক্ষণীয়। মতপ্রকাশের স্বাধীনতা অবারিত নয় বলে অনেকেই মনে করেন।
সবাই সবসময় একমত এবং একপথে চলবে না। এক পরিবারের সব সদস্য এক রকম হয় না। ভিন্নমত প্রকাশে বাধা দিলে সেটা শেষ পর্যন্ত ভালো ফল দেয় না। আমরা যদি বেশি উন্নয়ন চেয়ে কম গণতন্ত্র চাই তাহলে সেটা স্পষ্ট করে বলা উচিত। গণতন্ত্রের নামে কর্তৃত্ববাদী শাসন চলানো সমর্থনযোগ্য নয়। সরকার থাকলে সরকারের বিরোধিতা থাকবে। আর বিরোধিতা মানেই শত্রুতা নয়। প্রত্যেক মানুষেরই নিজ নিজ পছন্দ বেছে নেয়ার সুযোগ থাকতে হবে। যতক্ষণ কেউ অন্যজনের জীবন ও সম্পদের জন্য হুমকির কারণ না হয় ততক্ষণ তাকে তার মতো চলতে বাধা দেয়া অনুচিত। আমি চট্টগ্রাম বাসে যেতে পারি, একজন ট্রেনে যেতে পারেন, অন্যজন বিমানে যেতে পারেন আবার হেঁটে যাওয়ার ইচ্ছাও কারো হতে পারে। এখানে কেউ কারো প্রতিপক্ষ বা শত্রু নয়। সামর্থ্য, সক্ষমতা, রুচি এবং প্রয়োজনের অগ্রাধিকার সবার এক নয়।
যারা সমালোচনা করার তারা যেমন তা করবেই, তেমনি যারা প্রশংসা করার তারও তা থেকে বিরত হবে না। প্রশংসা এবং সমালোচনা সমানভাবে গ্রহণ করতে পারলেই রাজনীতিতে, সমাজে ভারসাম্য রক্ষা হবে। আসলে ভারসাম্য রক্ষা করতে পারলে এগিয়ে চলা কঠিন হয় না। সংগঠিত ধর্মবাদীরা বঙ্গবন্ধু এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধী উগ্র উসকানিমূলক ক্ষতিকর বক্তব্য দিয়ে আইনের আওতামুক্ত থাকতে পারে, আর একজন লেখক ও কার্টুনিস্ট ফেসবুকে লিখলে আইন তাদের পেছনে ধাওয়া করলে কেউ কি বিশ্বাস করবে যে, আইন তার স্বাভাবিক নিয়মে চলছে? আইনকে মাকড়সার জালে পরিণত করলে পরিণামে চরম খেসারত দিতে হতে পারে।

বিভুরঞ্জন সরকার : জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষক।
[email protected]

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়