সাভারে ছুরিকাঘাতে পুলিশ আহত, গ্রেপ্তার ১০

আগের সংবাদ

সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানে থেকে ১৮ রকেট লাঞ্চারের গোলা উদ্ধার

পরের সংবাদ

ছয় বছর পর সাতক্ষীরা হাসপাতালে খাদ্য সরবরাহের টেন্ডার

প্রকাশিত: মার্চ ৩, ২০২১ , ২:২১ অপরাহ্ণ আপডেট: মার্চ ৩, ২০২১ , ২:২১ অপরাহ্ণ

৬ বছর পর সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালসহ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে দৈনন্দিন রোগীদের খাদ্য ,পথ্য ও জ্বালানি সরবরাহের টেন্ডার হবে। ভোরের কাগজে সংবাদ প্রকাশে ঠিকাদারের গ্যাড়াকল ছুটাতে স্বক্রিয় হয়ে উঠেছে সাতক্ষীরা সিভিল সার্জন অফিসআদালতে প্রতিবেদন দাখিলের পর সেই প্রতিবেদনের উপর ভিত্তি করে সাতক্ষীরা জজ কোর্টের সরকারি কৌশুলী (জিপি) মামলার ধার্য্য দিনের আগে গত সোমবার (২২ ফেব্রুয়ারি) যুগ্ন জেলা ও দায়রা জজ-১ আদালতে শুনানির আবেদন করলে, আদালত তা মঞ্জুর করে বুধবার (২৪ ফেব্রুয়ারি ) শুনানীর দিন ধার্য্য করেন। ধার্য্য দিনে উভয় পক্ষের শুনানি শেষে বিজ্ঞ আদালত অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করেন এবং মামলাটি খারিজ করে দেন।

এর আগে দরপত্র আহবানের সংশ্লিষ্ট কোন কাগজপত্র না থাকার কথা উল্লেখ করে গত ৩ ফেব্রুয়ারি, টানা ৬ অর্থ বছরের প্রতিবেদন না দিয়ে, বিজ্ঞ আদালতে ২০১৮-১৯ এক অর্থ বছরের প্রতিবেদন দাখিল করে সাতক্ষীরা সিভিল সার্জন কাম-সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডাঃ মোঃ হুসাইন সাফায়েত।

সাতক্ষীরা জজ কোর্টের সরকারি কৌশুলী শম্ভু নাথ সিংহ (জিপি) বলেন, আমি করোনা কালীন সময়ে দায়িত্ব পেয়েছি। করোনার কারণে কোর্টে বিচারিক কার্যক্রম বন্ধ থাকা এবং সিভিল সার্জন অফিসের প্রতিবেদন না পাওয়ায় এতদিন মামলার শুনানি করতে পারিনি। প্রতিবেদন পাওয়া মাত্র আমার উপর অর্পিত সরকারি দায়িত্ব পালনে সচেষ্ট থেকে মানুষের রাষ্ট্রিয় অধিকার ফিরিয়ে দিতে ধার্য্য দিনের আগে শুনানী করি। বিজ্ঞ আদালত শুনানি শেষে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করেন এবং মামলাটি খারিজ করে দেন। এখন রোগীদের খাদ্য সরবরাহের দরপত্র আহবানের আর কোন আইনি বাধা থাকলো না।

এদিকে ২০১৫-১৬ থেকে ২০২০-২১ অর্থ বছর পর্যন্ত টানা ৬ বছর দৈনন্দিন রোগীদের খাদ্য,পথ্য ও জ্বালানী সরবরাহের টেন্ডার না হওয়ায় সদর হাসপাতালের দুর্নীতিবাজ প্রধান অফিস সহকারি কাম হিসাব রক্ষক মাছুম বিল্লাহ, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তা,কর্মচারি ও ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী নজরুল ইসলাম’র যোগসাজসে প্রতিনিয়ত ঠিকাদারের বিল পরিশোধ করে চালিয়ে যাচ্ছে তাদের সকল অপকর্ম।

লক্ষ্য করা গেছে, করোনা কালীন সময়ে (প্রায় তিন মাস) যখন সারা বাংলাদেশে সরকার ঘোষিত লক ডাউন ছিল,তখন জেলা সদর হাসপাতালসহ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে চিকিৎসাধীন রোগী ছিল প্রায় শুন্যের কোটায়। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে নিজের আখের গোছানোর ক্ষেত্রে বিন্দুমাত্র কার্পন্য করেননি তারা। হাসপাতালে রোগী না থাকলেও তারা নিয়মিত ভৌতিক রোগীর খাদ্য সরবরাহ’র অযাচিত বিল তৈরী করে কোটি কোটি টাকা উত্তোলন করেছে।
আরো লক্ষ্য করা গেছে, হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগী না থাকলেও রোগীদের খাদ্য সরবরাহ’র মাসিক বিল অন্যসময়ের চেয়ে, লক ডাউনের সময় বেশি।
করোনার প্রাদূভাবে মানুষ যখন ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে ঘরের বাহিরে আসতো না, হাসপাতালে ভর্তি হত না কোন রোগী, গোটা দেশে যখন সরকার ঘোষিত লক ডাউন, তখন জেলা সদর হাসপাতালসহ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে রোগী ছিল প্রায় শুণ্যের কোটায়। তারই একটা জলন্ত প্রমাণ-ডাক্তার ও স্বাস্থ্যকর্মীর স্বাস্থ্য সেবার অভাবে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের গেটের সামনে ভ্যানের উপর সন্তানকামী মায়ের সন্তান প্রসাব। সে সময় ডাক্তাররা সেবা দিত অনলাইনে, স্বাস্থ্যকর্মীরা হাসপাতালে সাধারন রোগীর সেবা দিতে ভয় পেত।

দুর্নীতিবাজ প্রধান অফিস সহকারি কাম হিসাব রক্ষক মাসুম বিল্লাহ বলেন, আমার নজরুলের সাথে কোনো সম্পৃক্ততা নেই। আমার এখানে যেই আসুক বিল দিলে আমার অথরিটি আমাকে বললে আমারতো বিল দিতে হবে।
করোনার সময় হাসপাতালের রোগী না থাকলেও বিল হল কিভাবে জানতে চাইলে তিনি বলেন আপনি স্যারের সাথে কথা বলেন স্যার ভাল বলতে পারবে আর অনলাইনে রোগী এন্ট্রি হয়ে থাকে আমার জানামতে তৎকালীন আবাসিক মেডিকেল অফিসার এর দায়িত্বে থাকা ডা: মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন (আর এম ও) স্যার ও জবাবদিহিতার মধ্যে পড়বে। সেগুলো উনাদের বিষয় এটাতো আমি একা করতে পারিনা।
সাতক্ষীরা সিভিল সার্জন কাম-তত্ত্বাবধায়ক ডাঃ মোঃ হুসাইন সাফায়েত ভোরের কাগজ’কে বলেন, আমি খুশি হয়েছি অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার হওয়ায়। সাতক্ষীরার ২৩ লক্ষ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এটা খুবই প্রয়োজন ছিল। করোনা-কালীন সময়ে খাদ্য সরবরাহের অযাচিত বিল সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটা আরো যাচাই করে দেখতে হবে। যদি এরকম কোন ঘটনা ঘটে থাকে তাহলে দোষী ব্যাক্তিদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

উল্লেখ্য, গত ২ জুন ২০১৪ সালে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী সুচতুর মোঃ নজরুল ইসলাম বাদী হয়ে সাতক্ষীরা যুগ্ন জেলা ও দায়রা জজ -১ আদালতে সাতক্ষীরা জেলার তৎকালিন সিভিল সার্জনকে বিবাদি করে একটি দেওয়ানী মামলা দায়ের করেন। সেই মামলায় বিজ্ঞ আদালত ২০১৪-১৫ অর্থ বছরের জন্য একটি অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন। আর সেই নিষেধাজ্ঞার উপর ভর করে এক অর্থ বছরের নিষেধাজ্ঞা নিয়ে ৬ অর্থ বছর রোগীদের খাদ্য সরবরাহের টেন্ডার হতে দেয়নি।এই মামলাকে পুজি করে বিভিন্ন সময়ে সাতক্ষীরার সিভিল সার্জনের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা, সদর হাসপাতালসহ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগীদের দৈনন্দিন খাদ্য,পথ্য ও জ্বালানী সরবরাহ’র দরপত্র আহবানের দায়িত্বে থাকা হিসাব রক্ষক ও কতিপয় অসাধু কর্মচারীর সম্পৃক্ততায় দীর্ঘ ৬ বছর যাবৎ টেন্ডার প্রক্রিয়া থেকে বিরত রেখে সরকারের রাজস্ব করে এই সিন্ডিকেটটি লুটে নেয় কোটি কোটি টাকা। সদর হাসপাতালসহ জেলার সব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও হাসপাতালের দুর্নীতির একই চিত্র দেখা যায়। পাল্টাপাল্টি দোষারোপের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল অফিসের কার্যক্রম।

ডিসি

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়