২৬ মার্চ চালু হচ্ছে ঢাকা-জলপাইগুড়ি যাত্রীবাহী ট্রেন

আগের সংবাদ

হাত-পা হারানো আরিফ ও রাব্বির চোখে অন্ধকার

পরের সংবাদ

সিংগাইর কলেজের ভিপি মিরুকে কুপিয়ে হত্যা

প্রকাশিত: মার্চ ২, ২০২১ , ৬:১৬ অপরাহ্ণ আপডেট: মার্চ ২, ২০২১ , ৮:০০ অপরাহ্ণ

মানিকগঞ্জের সিংগাইর ডিগ্রি কলেজের ভিপি ও উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ফারুক হোসেন মিরুকে (২৫) কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। সোমবার গভীর রাতে উপজেলা পরিষদ চত্বর সংলগ্ন বিএডিসির গোডাউনের উত্তর পাশের সড়কে তার ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। পরে মঙ্গলবার (২ মার্চ) দুপুর সাড়ে ১২ টার দিকে ঢাকাস্থ পঙ্গু হাসপাতালে তার মৃত্যু হয় বলে পারিবারিক সূত্রে জানা যায়।

নিহত মিরুর পরিবারের দাবী, এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সড়ক পরিবহণ শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক জালাল উদ্দিন আঙ্গুর মোল্লা (৩৫) তার লোকজন নিয়ে পরিকল্পিতভাবে হামলা চালিয়ে এ নৃশংস হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটিয়েছে। অভিযুক্ত আঙ্গুর পৌর এলাকার আজিমপুর মহল্লার আব্দুর রাজ্জাক ওরফে ধোনাই মোল্লার পুত্র।

জানা গেছে, স্থানীয় সংসদ সদস্য কন্ঠশিল্পী মমতাজ বেগমের নিজ বাড়ি উপজেলার জয়মন্টপ ইউনিয়নের পূর্ব ভাকুম গ্রামের বাউল কমপ্লেক্সের গানের অনুষ্ঠান শেষে সিংগাইর সদরের বাসায় ফিরছিলেন। রাত ১ টার দিকে মিরু জনৈক আলমাছকে সঙ্গে নিয়ে পৃথক মোটর সাইকেলে উপজেলা চত্বর সংলগ্ন চৌরাস্তায় পৌছালে দু’দিক থেকে সিএনজি দিয়ে বেড়িকেড দিয়ে হামলা করা হয়। এ সময় আলমাছ দৌড়ে পালিয়ে গেলেও ৫-৬ জন হামলাকারী ধারালো অস্ত্র দিয়ে মিরুকে কুপিয়ে ও হাত-পায়ের রগ কেটে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। খবর পেয়ে থানা পুলিশ মুমূর্ষ অবস্থায় মিরুকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে ঢাকায় রেফার্ড করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় পঙ্গু হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।

নিহত ভিপি মিরু পৌর এলাকার আজিমপুর রঙের বাজার মহল্লার আ. কাদের কসাইয়ের পুত্র। সে আঙ্গারিয়া মহল্লার হাজী আক্কাছ খানের বাসায় বাবা-মাকে নিয়ে ভাড়া থাকতেন। ৫ ভাই-বোনের মধ্যে মিরু সবার ছোট। ২০১৬ সালে সিংগাইর ডিগ্রি কলেজ ছাত্র সংসদ নির্বাচনে ছাত্রলীগের প্যানেল থেকে ভিপি নির্বাচিত হন। পাশাপাশি সে উপজেলা ছাত্রলীগেরও সাধারণ সম্পাদক। বেশ কিছুদিন ধরে প্রতিপক্ষ গ্রুপের সঙ্গে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দ্বন্দ্ব চলে আসছিল বলে তার পিতা আব্দুল কাদের কসাই অভিযোগ করেন। তিনি আরো বলেন, গত এক দেড় মাস আগে রঙের বাজারে আঙ্গুর গ্রুপের সঙ্গে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনার জের ধরেই আমার পুত্রকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। মৃত্যুর আগে মিরু পুলিশের কাছে হত্যাকারিদের নাম পরিচয় বলে গেছেন বলেও তিনি জানান।

এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত জড়িত কেউ গ্রেফতার হয়নি। পরিবারে বইছে শোকের মাতম। মিরু হত্যাকান্ডের ঘটনায় আওয়ামীলীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতা কর্মীরা জড়িতদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় এনে সবোর্চ্চ শাস্তির দাবী জানিয়েছেন।

এ ব্যাপারে সহকারি পুলিশ সুপার (সিংগাইর সার্কেল) রেজাউল হক বলেন, হত্যাকান্ডের ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে। পাশাপাশি জড়িতদের গ্রেফতারের সর্বোচ্চ চেষ্টা চলছে।

আরআর

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়