প্রায় ২ লাখ টন চাল আমদানির অনুমতি পেল আরও ৫৭ প্রতিষ্ঠান

আগের সংবাদ

আসছে কালবৈশাখী ঝড়ের সঙ্গে শিলাবৃষ্টি, তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি

পরের সংবাদ

বিমা খাতে আস্থার সংকট দূর করাই চ্যালেঞ্জ

প্রকাশিত: মার্চ ২, ২০২১ , ৮:৫১ পূর্বাহ্ণ আপডেট: মার্চ ২, ২০২১ , ৮:৫১ পূর্বাহ্ণ

দেশের সম্ভাবনাময় আর্থিক খাতগুলোর অন্যতম বিমা খাত। অথচ বিমা নিয়ে সাধারণ মানুষের মাঝে যে নেতিবাচক ধ্যান-ধারণা গড়ে উঠেছে, তা থেকে বের হতে পারছে না এ খাত। ফলে স্বাধীনতার ৫০ বছরেও বিমা খাত ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি। অথচ দুর্যোগপূর্ণ দেশ হিসেবে বাংলাদেশের বিমা খাতের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। জিডিপির তুলনায় দেশের বিমা খাতের প্রিমিয়াম আয় অত্যন্ত কম। বিমা দাবির অর্থ পরিশোধে প্রতিষ্ঠানগুলোর গড়িমসি আর প্রতারণায় এ খাতের প্রতি মানুষের আস্থা কমেছে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বিমা খাত পিছিয়ে পড়ার ক্ষেত্রে অ্যাকচুয়ারি সংকট, বিমা প্রতিষ্ঠানগুলোর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অদক্ষতা, মাঠ পর্যায়ের কর্মীদের যথাযথ প্রশিক্ষণ না দেয়ার পাশাপাশি তাদের যথাযথ ইনসেনটিভ না দেয়াকে দায়ী করেছেন বিশ্লেষকরা। এছাড়া বিমা কোম্পানিগুলো গ্রাহককে ঠিকমতো বিমা দাবি পরিশোধ না করা, মাঠপর্যায়ের বিমা কর্মীদের গ্রাহকের কিস্তির টাকা নিয়ে প্রতারণাসহ নানা কারণে এ খাতে ইমেজ সংকটের সৃষ্টি হয়েছে। ফলে বিমার ওপর সাধারণ মানুষ আস্থা রাখতে পারছে না।

তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বর্তমানে দেশের মোট জনশক্তির মধ্যে বিমার আওতায় আছে ৮ শতাংশেরও কম। বাংলাদেশের মোট দেশজ আয়ের মাত্র দশমিক ৫৫ শতাংশ বিমা খাতের প্রিমিয়াম আয়। যেখানে ভারত ৪ শতাংশ, শ্রীলঙ্কায় ১ দশমিক ২ শতাংশ, ফিলিপাইনে ২ দশমিক ২৫ শতাংশ। বাংলাদেশে মাথাপিছু বার্ষিক প্রিমিয়াম মাত্র ৯ ডলার। এছাড়া বিমা খাতে বিশে^ বাংলাদেশের অবস্থান ৬৮তম। জানা গেছে, অর্থনৈতিক উন্নয়ন, শিক্ষার হার বাড়লেও বিমা খাতে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ বাড়ছে না। অন্যদিকে ৭৮টি বিমা প্রতিষ্ঠানে চলছে প্রতিযোগিতার নামে নানা অনৈতিক চর্চা। ফলে বিমা কোম্পানিগুলোতে কর্মসংস্থান কমছে। গত এক বছরে কর্মসংস্থান কমেছে প্রায় ৬ হাজার। ইমেজ সংকট আর তুলনামূলক কম বেতনের কারণে বিমা খাতে মেধাবী জনবল আসছে না বলে মনে করেন প্রগতি লাইফ ইন্স্যুরেন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জালালুল আজিম। তার মতে, এ খাতে শুরুতে নেতৃত্ব দিয়েছে অপেশাদার ও অদক্ষ মানুষ। তাই

অনৈতিকতা জেঁকে বসেছিল, যা এখনো আছে কোনো কোনো ক্ষেত্রে। দেশের সব বিমা প্রতিষ্ঠানে যোগ্য সিইও এখনো নিয়োগ দেয়া যায়নি। মেধাবীরা এ খাতে আসতে চায় না, বিশেষায়িত শিক্ষার ব্যবস্থাও কম।

দেশে বিমায় মাথাপিছু যে ব্যয় হয় সেটি বিশ্বের মধ্যে বাংলাদেশ সর্বনিম্ন স্তরে অবস্থান করছে। ২০১৯ সালের একটি তথ্যে দেখা গেছে, লাইফ ইন্স্যুরেন্সের ক্ষেত্রে মাথাপিছু ব্যয় মাত্র ১৫০ টাকা। যেখানে সিঙ্গাপুরে ৫১ হাজার ৯২৮ টাকা। অর্থনীতির গতিকে ত্বরান্বিত করতে লাইফ এবং নন লাইফ বিমা কোম্পানিগুলোর পেইড আপ ক্যাপিটাল বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন বিশ্লেষকরা। এ প্রসঙ্গে আইডিআরএ চেয়ারম্যান ড. এম মোশাররফ হোসেন বলেন, বিমা খাতে শৃঙ্খলা ফেরাতে বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ কাজ করে যাচ্ছে। এর মধ্যে উন্নয়নের বেশকিছু কাজ করার জন্য চেষ্টা করেছি। নেয়া হয়েছে ব্যাপক সংস্কার কর্মসূচি। এসব কর্মসূচির ফলে আগামীতে বিমা খাত আরো গতিশীল হবে। তিনি বলেন, একটা সময় আসবে, যখন চাকরির বাজারে বিমা এক নম্বর অবস্থানে থাকবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাংকিং এন্ড ইন্স্যুরেন্স বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আবদুল্লাহ আল মাহমুদ বলেন, প্রতিটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে সাধারণ বিমার আওতায় আনতে হবে। বিমা কর্তৃপক্ষের এ পলিসি বাধ্যতামূলক করা উচিত। কৃষি খাতে বিমার গুরুত্ব দেয়া জরুরি। এছাড়া নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রায় প্রতিটি জায়গায় দুর্বলতা রয়েছে। চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিয়ে এ ভঙ্গুর খাতকে উন্নত করা সম্ভব নয় বলে জানান এ অধ্যাপক।

পিআর

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়