সংস্কৃতি এবং সংখ্যালঘু, সংখ্যাগুরু

আগের সংবাদ

মৌমিতার রহস্যময় মৃত্যু: বাড়ির মালিকের ছেলের বিরুদ্ধে মামলা

পরের সংবাদ

খুলছে দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান

রতন কুমার তুরী

লেখক ও শিক্ষক

প্রকাশিত: মার্চ ২, ২০২১ , ১২:৩৭ পূর্বাহ্ণ আপডেট: মার্চ ২, ২০২১ , ১২:৩৭ পূর্বাহ্ণ

কোভিড ১৯-এর কারণে বন্ধ থাকা দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো খুলে দেয়ার জন্য ব্যাপক জনমত সৃষ্টি হয়েছে, কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্রছাত্রীদের এ বিষয়ে আন্দোলন পর্যন্ত করতে দেখা গেছে। সরকার সবকিছু ভেবেচিন্তে আগামী ৩০ মার্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো খুলে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ফলে দীর্ঘ এক বছর বন্ধ থাকার পর অবশেষে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান তাদের শ্রেণি কার্যক্রম শুরু করতে যাচ্ছে। এখন প্রশ্ন হলো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো কোভিড-১৯ থাকা অবস্থায় খুলে দিলে শিক্ষার্থীদের কোভিড সুরক্ষা বিষয়ে করণীয় কী হবে। অবশ্য ইতোমধ্যে সরকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে জড়িত সবাইকে টিকার আওতায় নিয়ে আসার ঘোষণা দিয়েছে। আশা করা যায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো খোলার আগেই দেশের সব শিক্ষক-কর্মচারী করোনা টিকা পেয়ে যাবেন, এমনকি ১৮ বছরের ঊর্ধ্বে শিক্ষার্থীরাও টিকার আওতায় আসবেন। প্রকৃতপক্ষে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়া থেকে দেশের আগামী দিনের ভবিষ্যৎ, বিপুল শিক্ষার্থীদের কোভিড-১৯ থেকে সুরক্ষিত রাখতে সরকার গত বছরের ১৭ মার্চ থেকে দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ রেখেছিল। তবে এর আগে দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো খুলে দেয়ার জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয় শিক্ষার্থী, শিক্ষক এবং অভিভাবকদের জন্য কিছু গাইড লাইন প্রকাশ করেছে এবং সেগুলো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো সঠিকভাবে পালন করার জন্য শিক্ষা কর্মকর্তারা মাঠ পর্যায়ে কাজও করেছেন। সম্ভবত তাদের রিপোর্টও ইতোমধ্যে সরকার পেয়ে গেছে। মাঠ পর্যায় থেকে ‘দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত’ এমন রিপোর্ট আসার কারণেই সরকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো খোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ইতোমধ্যে সরকার করোনার জন্য সঠিক সময়ে পরীক্ষায় বসতে না পারা ২০১৯-২৯ শিক্ষাবর্ষের এইচএসসি শিক্ষার্থীদের অটোপাস দিয়ে দিয়েছে এবং বাদবাকি শ্রেণির শিক্ষার্থীরা মূল্যায়ন পরীক্ষা নেয়ার মাধ্যমে প্রমোশন পেয়েছে।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো খুললে সরকারের পাশাপাশি অভিভাবকদেরও কিছু দায় রয়েছে, যেহেতু এখনো করোনাকাল চলছে ফলে শিক্ষার্থীদের সবাইকে তাদের নিজ নিজ কোভিড সুরক্ষা জিনিস দিয়েই অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠানো উচিত। এ বিষয়ে যেন তারা সামান্যতম শিথিলতা প্রদর্শন না করেন। আমাদের সবার মনে রাখতে হবে যে করোনা টিকা এ দেশে এলেও সব মানুষকে এর আওতায় আনতে বেশ খানিকটা সময় লাগবে, আর এই সময়টাতে যেন শিক্ষার্থীরা নিরাপদ এবং সুরক্ষিত থাকে সে বিষয়ে সব অভিভাবককে মনোযোগী হতে হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার পর সব শিক্ষার্থী যাতে নিরাপদে শিক্ষাগ্রহণ করতে পারে সে ব্যাপারে যথেষ্ট সজাগ বলেই মনে হচ্ছে সরকারকে, তা না হলে ছাত্রছাত্রী এবং অভিভাবকদের চাওয়ার আগেই সরকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো খুলে দিতে পারত, কিন্তু সে ধরনের দায়সারা সিদ্ধান্তে সরকার যায়নি। সরকার সম্ভবত অন্যান্য দেশের মতো একবার খুলে শিক্ষার্থীরা করোনা আক্রান্ত হওয়ার কারণে আবার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ ঘোষণা করতে চাইছে না, আর তাই তারা পরিস্থিতি দেখেশোনে একেবারে একটা সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছে। তবে খুলে দেয়ার আগে প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্র-শিক্ষক এবং অভিভাবকদের জন্য সরকারিভাবে কিছু কোভিড সুরক্ষা সামগ্রীরূপে যেমন হ্যান্ড স্যানিটাইজার, মাস্ক পাঠানো দরকার। এতে করে কোনো শিক্ষার্থী বাড়ি থেকে সুরক্ষা সামগ্রী নিয়ে না এলে তাদের তৎক্ষণাৎ দেয়া সম্ভব হবে। অন্যদিকে সরকার, অভিভাবকদের পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষকদেরও কিছু দায় রয়েছে। ছাত্রছাত্রীদের কোভিড সুরক্ষা বিষয়ে তাদের প্রতিদিন শ্রেণিকক্ষে সচেতন করতে হবে, প্রয়োজনে এ বিষয়ে শ্রেণিকক্ষে কিছুটা সময় ব্যয় করতে হবে। শিক্ষকরা চাইলে তাদের অভিভাবকদের প্রতিষ্ঠানে ঘরোয়াভাবে ডেকে এনে তাদের সন্তানদের সুরক্ষা বিষয়ে পরামর্শ দিতে পারেন। প্রতিষ্ঠান খুলে দেয়ার পর শিক্ষার্থীদের দায়দায়িত্ব সরকার, শিক্ষকদের পাশাপাশি অভিভাবকদেরও নিতে হবে। শুধু সন্তানের সুরক্ষার কথা চিন্তা করে এই পরিস্থিতিতে তাদের খুব বেশি সচেতন হতে হবে। অভিভাবকরা যদি নিজেরা সচেতন হয়ে তাদের সন্তানদের কোভিড সচেতন করতে পারে তাহলে আমরা সবাই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কোভিড সুরক্ষিত থাকব এবং শিক্ষার্থীদের পাঠদানে বিঘœ ঘটবে না। তাই আসুন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার আগেই আমরা সবাই আমাদের সন্তানদের কোভিড সুরক্ষা বিষয়ে আরো বেশি সচেতন হই এবং অন্যকেও সচেতন করি, আর এ সচেতনতা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার সঙ্গে সঙ্গেই যেন শিক্ষার্থীরা তাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রয়োগ করতে পারে সে বিষয়ে সজাগ হই।

রতন কুমার তুরী
লেখক ও শিক্ষক।
[email protected]

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়