তিন গানে কণ্ঠ দিলেন ঐশী

আগের সংবাদ

বঙ্গবন্ধুই হবেন নতুন প্রজন্মের রোল মডেল : ওবায়দুল কাদের

পরের সংবাদ

পেট্রোল মোবিলের দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে স্কুটি করে অফিসে গেলেন মমতা

প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ২৫, ২০২১ , ২:০২ অপরাহ্ণ আপডেট: ফেব্রুয়ারি ২৫, ২০২১ , ২:৩৬ অপরাহ্ণ

ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার পেট্রোল, ডিজেল ও এলপিজি-র লাগামহীন মূল্য বাড়ানোর কারণে অভিনব প্রতিবাদ জানালেন পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রতিবাদ স্বরূপ তিনি ব্যাটারি চালিত ই-স্কুটারে বাড়ি থেকে নিজের কার্যালয় নবান্নে গেলেন। নবান্ন থেকে বাড়িতে ফিরবেনও ই-স্কুটিতে। অভাবনীয় মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দলমত নির্বিশেষে সবাইকে পথে নামার আহ্বান জানান। বৃহস্পতিবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে নিজের ফেসবুক পেজে স্ট্যাটাস দিয়ে তিনি এ তথ্য জানান।

বৃহস্পতিবার নবান্নের বাইরে ব্যাটারি চালিত স্কুটিতে বসেই পেট্রোলের লাগামহীন মূল্য বাড়ার প্রতিবাদে জনগণকে আন্দোলনে নামার আহ্বান জানান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

মুখ্যমন্ত্রী মমতা ওই স্ট্যাটাসে আরও বলেন, কেন্দ্রীয় সরকার কর্তৃক পেট্রোল, ডিজেল ও এলপিজি-র লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধি সাধারণ নাগরিক ফেলে দিয়েছে ভয়াবহ সংকটে। পেট্রোপণ্যের এই আকাশচুম্বী মূল্যের ফলে দৈনন্দিন যাতায়াতের ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষ প্রভূত সমস্যায় পড়েছে। কেন্দ্রীয় সরকারের একের পর এক জনবিরোধী নীতির কড়া নিন্দা জানাই। পেট্রোপণ্যের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে তৃণমূল কংগ্রেসের আন্দোলন আগামী দিনে আরও জোরালো হবে।

বৃহস্পতিবার হাজরা মোড় থেকে বেলা সাড়ে ১১টা নাগাদ মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমের ইলেকট্রিক বাইকের পিছনে বসে যাত্রা শুরু করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর গলায় ঝোলানো ছিল জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদ সংক্রান্ত পোস্টার। দুপুর ১২টা নাগাদ নবান্নে পৌঁছে যায় বাইক। সফরের সঙ্গে অন্য বাইকে ছিলেন মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তারক্ষীরা। পেট্রল-ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদ আগে থেকে পরিকল্পনা করেই নির্ধারণ করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। ট্রাফিক আইন মেনে, মাথায় হেলমেট পরে বাড়ি থেকে নবান্ন পর্যন্ত পুরো রাস্তা সফর করেন মুখ্যমন্ত্রী।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নবান্নে পৌঁছেই জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির জন্য কেন্দ্রের বিজেপি সরকার এবং নরেন্দ্র মোদীকে দায়ী করেন। মোদীকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন স্টেডিয়ামের নাম বদল নিয়েও। নবান্নের বাইরে দাঁড়িয়ে সাংবাদিক বৈঠকে কেন্দ্রীয় সরকারের উদ্দেশে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ভোটের সময় এলেই বলে বেড়ান গ্যাস দেব। ওটা সত্যি সত্যি গ্যাস। মানে গ্যাস বেলুনের মতো। কিন্তু সেই রান্নার গ্যাসের দাম ৮০০ টাকা ছাড়িয়ে গিয়েছে। এটা ভাঁওতা ছাড়া আর কিছুই নয়। আম জনতার নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। সাধারণ মানুষ কোথায় যাবেন?’

আগের দিন বুধবার গুজরাতের মোতেরা স্টেডিয়ামের নাম পাল্টে প্রধানমন্ত্রীর নামে হয়েছে ‘নরেন্দ্র মোদী স্টে়ডিয়াম’। এই নিয়ে এ দিন মুখ্যমন্ত্রীর কটাক্ষ করতে ছাড়েননি। তিনি বলেন, ‘স্টেডিয়ামের নামও পাল্টে দিয়েছে। কোনওদিন হয়তো দেশের নামটাও পাল্টে দেবেন।’

যে ভাবে নবান্নে গিয়েছেন, ফিরবেনও সেই ই-স্কুটারেই, নবান্নে পৌছে এ ঘোষণা দেন মুখ্যমন্ত্রী। একই সঙ্গে জানান, আগেও প্রতিবাদ হয়েছে। বৃহস্পতিবার তিনি নিজে শামিল হয়েছেন এ প্রতিবাদে। শুক্রবার থেকে আরও জোরালো প্রতিবাদে রাস্তায় নামবেন তৃণমূল সমর্থকরা।

পেট্রল-ডিজেলের দাম প্রায় প্রতিদিন বাড়ছে। তার সঙ্গে এ মাসেই তিন বার বেড়েছে রান্নার গ্যাসের দাম। অথচ গ্যাসে ভর্তুকি বাড়েনি। এ নিয়ে বরাবরই সরব তৃণমূল নেত্রী। প্রতিবাদ-আন্দোলনের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের ভার কিছুটা লাঘব করতে সম্প্রতি জালানিতে ১ টাকা সেস কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার।

আরআর

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়