নির্মূল হবে কি দরিদ্রতা?

আগের সংবাদ

চাল-তেলের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি নজরদারি বাড়ানো প্রয়োজন

পরের সংবাদ

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাষা বিকৃতি বন্ধ হোক

প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ২৪, ২০২১ , ৯:৫৮ অপরাহ্ণ আপডেট: ফেব্রুয়ারি ২৪, ২০২১ , ৯:৫৮ অপরাহ্ণ

ভাষা দূষণ যেন বায়ুদূষণের মতো দিন দিন বেড়েই চলেছে। তবে বর্তমানে ভাষা দূষণের নতুন মাত্রা যোগ করেছে অশ্লীল শব্দের ব্যবহার। প্রায়ই বর্তমান তরুণ প্রজন্মের আড্ডায় বিনোদনে, আনন্দ বা হাসি-ঠাট্টা মানেই কতিপয় বিশেষ বর্গীয় শব্দের খুব সাবলীল ব্যবহার। যেমন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে-ট্রল করাতে অথবা ইউটিউবের কিছু বিনোদনধর্মী ভিডিওতে বিকৃত শব্দের পাশাপাশি অশ্লীল, নোংরা ও কুরুচিপূর্ণ শব্দ ও গালাগালির বিস্তর সমাহার। তবে দুঃখজনক হলেও সত্য, এই কুরুচিপূর্ণ ট্রল বা ভিডিওয়ের প্রতি সমাজের অধিকাংশ মানুষের বেশি আগ্রহ। কিছু কিছু ক্ষেত্রে এদের জনপ্রিয়তা ঈর্ষণীয়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে এদের দর্শক সংখ্যা লাখের ওপর। বেশি মানুষ দেখে বলে অশ্লীলতারও গ্রহণযোগ্যতা আছে এমনটি নয়। তবে এক শ্রেণির নিম্নমানের দর্শক এগুলো রীতিমতো এগুলোর প্রচার ও উপভোগ করছেন। তবে বাংলাদেশে নির্মল আনন্দ-কৌতুকের মধ্য দিয়ে সমাজের নানা অসঙ্গতি তুলে ধরার উদাহরণ আছে। ইত্যাদি নামের ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান তার সবচেয়ে উজ্জ্বল উদাহরণ। যে অনুষ্ঠানে নিয়মিত বুদ্ধিদীপ্তভাবে দেশের বিভিন্ন অসঙ্গতি কৌতুকের মাধ্যমে তুলে ধরা হয়। এই এসব শিক্ষণীয় নির্মল বিনোদনের অশ্লীল অকথ্য ভাষায় নির্মিত ভিডিও দিকে ঝুঁকছে তরুণ সমাজ।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বিশেষ করে ফেসবুকে স্ট্যাটাস লেখাতে অশুদ্ধ বিকৃত বাংলা বানানের পাশাপাশি অশ্লীল শব্দ ব্যবহার ভয়াবহ আকারে চলেছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বন্ধুদের বিনোদন দেয়ার জন্য সচেতন ও স্বচ্ছন্দভাবে অশ্লীল কুরুচিপূর্ণ বিকৃত শব্দের ব্যবহার করছে অনেকেই। অবস্থা এমন হয়ে দাঁড়িয়েছে বিশেষ বর্গীয় অশ্লীল শব্দ ছাড়া এদের অনুভ‚তি প্রকাশ সম্পূর্ণ হয় না। অথচ আমরা নিজেদের অতি আধুনিক ও স্মার্টনেস প্রমাণ করতে গিয়ে অশুদ্ধ ও নানাভাবে বিকৃত শব্দ ব্যবহার করছি। বিকৃত অশ্লীল ও নোংরামি প্রচার করছি সাময়িক বিনোদনের জন্য। বর্তমান সমাজে বিশেষ করে অল্পবয়সী ও তরুণ-তরুণীদের মধ্যে এ ধরনের প্রবণতা প্রায় ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। এমন অনেক তথাকথিত শিক্ষিত পরিবার পাবেন যারা কথাবার্তা বলার সময় বিকৃতভাবে এই অশ্লীল শব্দগুলো ব্যবহার করে থাকেন। এমন বাক্যালাপ নিঃসন্দেহে যথার্থ পারিবারিক শিক্ষার অভাব ও ক্ষয়িষ্ণু মূল্যবোধের বহিঃপ্রকাশ বটে। তাই আমাদের মায়ের ভাষা বিকৃত রোধে চাই পারিবারিক সচেতনতার আন্দোলন। আপনার সন্তানকে যদি আপনি পরিবারে বাংলা ভাষাকে সম্মান ও মর্যাদা করতে শেখান তাহলে বড় হয়েও মাতৃভাষাকে সে আর দূষিত করবে না।
সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ বিভিন্ন যৌক্তিক দাবি নিয়ে গণআন্দোলন গড়ে উঠেছিল। যে আন্দোলনগুলোতে সর্বসাধারণের অংশগ্রহণ দেখার মতো ছিল। তবে কিছু কিছু আন্দোলনকারী হাতে এমন কিছু প্লাকার্ড দেখা গিয়েছে যেগুলোতে অকথ্য ভাষায় সরকার বা প্রশাসন গালি দেয়া হয়েছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। কথায় আছে, যে কাজ বন্দুকের গুলি দিয়ে হয় না সেই কাজ মুখের মিষ্টি কথায় হওয়া সম্ভব। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেকই অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। কোনো বিষয়ে আপনার মতামত জানানোর থাকলে সেটা মার্জিত ভাষায় জানানো সম্ভব। কোনো বিষয়ে কারো মতের বিরুদ্ধে চলে গেলেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করা যেন এখন খুবই সস্তা হয়ে গেছে। অথচ সেই প্রতিবাদটি মার্জিত ভাষায় করা যেত। কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান অপরাধ করলে তা প্রচলিত আইনে বিচার হবে। তার জন্য আমরা অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে নিজেরাই অপরাধ করি। তাই সবার কাছে আহ্বান করব অন্যের মতামতকে সম্মান জানিয়ে কোনো বিষয়ের বিরোধিতা করতে হলে মার্জিত ভাষায় করুন। তাই আমাদের সতর্ক থাকতে হবে কোনোভাবেই যেন আমাদের দ্বারা এত কষ্টে অর্জিত ভাষার অপমান না হয়।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে ভাষা বিকৃতি এতটাই চরম আকার ধারণ করেছে যে, সরকারেই এই বিষয়ে কঠোর সিদ্ধান্ত নেয়া। কেউ যদি ভাষার বিকৃতি ঘটায় তাহলে বাংলাদেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী সেই ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে বিচারের মুখোমুখি করতে হবে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যার অ্যাকাউন্ট থেকে অশ্লীল ভাষা ব্যবহার ও বিকৃত করবে তার অ্যাকাউন্ট বাতিল করার ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। আমাদের বাংলা ভাষা তথা মায়ের ভাষার সম্মান রক্ষার্থে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম নিয়ন্ত্রণসহ সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে আমরা সেই প্রত্যাশা করি।

শিক্ষার্থী, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়।
[email protected]

ডিসি

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়