ঢাকা দক্ষিণ আ.লীগ: সভাপতি-সম্পাদক পদ পাবেন না কাউন্সিলররা

আগের সংবাদ

নির্মূল হবে কি দরিদ্রতা?

পরের সংবাদ

বিএনপির খেতাবের রাজনীতি

প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ২৪, ২০২১ , ৯:৫১ অপরাহ্ণ আপডেট: ফেব্রুয়ারি ২৪, ২০২১ , ৯:৫১ অপরাহ্ণ

বাংলাদেশের অষ্টম রাষ্ট্রপতি এবং সাবেক সেনাপ্রধান ও বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধের জেড ফোর্সের কমান্ডার জিয়াউর রহমানের বীরউত্তম খেতাব বাতিলের সুপারিশ নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে আমরা বিএনপিকে মাঠের রাজনীতিতে কিছুটা সরগরম হতে দেখেছি। খুব সম্ভবত বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর বিএনপিকে অন্য কোনো ইস্যু নিয়ে এতটা তৎপর হতে দেখা যায়নি। খুব সম্ভবত বিএনপির নীতিনির্ধারকরা এই খেতাবের রাজনীতিকে বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি বড় ধরনের ইস্যু বানিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে চেয়েছিলেন, কিন্তু বিষয়টি বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের মনে তেমন একটা দাগ কাটেনি বরং অনেকেই প্রশ্ন ছুড়ে দিয়েছেন খেতাব তো সরকার এখনো বাতিল করেনি, তবে কেন বিএনপি শুধু শুধু গুরুত্বপূর্ণ সব ইস্যু বাদ দিয়ে শুধু খেতাব নিয়ে মাঠে নেমেছে। বিএনপিপন্থি অনেক বুদ্ধিজীবী মনে করছেন এর চেয়ে চালের মূল্যবৃদ্ধিসহ আরো অন্যান্য বিষয়ে মাঠে নামলে সাধারণ জনগণের দৃষ্টি আকর্ষণ করা সহজ হতো।

সাবেক রাষ্ট্রপতি প্রয়াত জিয়াউর রহমানের বাংলাদেশের রাজনৈতিক দল গঠন, দেশে হ্যাঁ-না ভোটের মাধ্যমে ক্ষমতায় পদার্পণ, বাংলাদেশের সংবিধানকে কাটাছেঁড়া করে বঙ্গবন্ধুর খুনিদের বিচার আটকিয়ে রাখা এবং প্রতিক্রিয়াশীলদের রাজনীতিতে পুনর্বাসন করা এসব বিষয় নিয়ে প্রশ্ন থেকেই গেছে, তবে এত কিছুর পরও জিয়াউর রহমানের মুক্তিযুদ্ধের সময় প্রাপ্ত বীরউত্তম খেতাব বাতিলের কথা কোনো পক্ষ থেকে উচ্চারিত হয়নি।

এ বিষয়টি এবার প্রথমবারের মতো উচ্চারিত হলো আর এটি বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সুপারিশ করার পরপরই বিএনপিকে কয়েকটি জেলায় মিছিল মিটিং করতে দেখা গেছে। তাদের অনেক নেতাকর্মীকে মারমুখো আচরণও করতে দেখা গেছে। এবারের বিএনপির মিছিল মিটিং বিষয়ে সরকারকে দৃশ্যত তেমন একটা কঠোর হতে দেখা যায়নি। তবে বিএনপি এই খেতাব নিয়ে আন্দোলনের বিষয়টি অনেকেই সহজভাবে নেয়নি, তাদের অনেক নেতাকর্মীই বলছেন তাদের ব্যাপক নেতাকর্মী এখনো জেলে আবার অনেকেই দেশের বাইরে চলে গেছেন এসব নেতাকর্মীকে জেল থেকে ছাড়ানোর বিষয়ে বিএনপির দৃশ্যমান কোনো শক্তিশালী আন্দোলন না দেখায় তারা হতাশ হয়ে পড়েছেন। অন্যদিকে বিএনপির নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া মূলত সরকারের সঙ্গে এক প্রকার আঁতাত করেই জেল থেকে বের হয়ে এসেছেন। বিএনপির নেত্রীর জন্যও তেমন কোনো শক্ত আন্দোলন চোখে পড়েনি। আদালতপাড়ার বিএনপিপন্থি আইনজীবীরাও সর্বোচ্চ চেষ্টা করে তাদের নেত্রীকে জেল থেকে মুক্ত করতে সক্ষম হননি। এ নিয়ে অবশ্য বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়াও তাদের ওপর বেশ নাখোশ ছিলেন। আর তাই তিনি আপাতত সরকারের সঙ্গে আপস করেই জেলের বাইরে আছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। অন্যদিকে বিএনপির হাইকমান্ড পর্যায়ে তারেক জিয়া থাকলেও বিভিন্ন দুর্নীতির কারণে তার সাজা হয়ে যাওয়ায় তাকেও তেমন নড়াচড়া করতে দেখা যায় না। মির্জা ফজরুল ইসলাম দলের মহাসচিব হলেও রিজভীকে অনেক সময় দলের মুখপাত্র হয়ে কথা বলতে দেখা যায়। এতে দলটি আসলে কে চালাচ্ছে বোঝা মুশকিল। স্পষ্টতই দলটিতে যে বিভাজন গড়ে উঠেছে তা সবকিছুতেই দৃশ্যমান হচ্ছে। প্রকৃতপক্ষে বিএনপি দলটিতে এই বিভাজনটি গড়ে উঠেছে খালেদা জিয়া ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় তারেক জিয়াকে ঘিরে। তারেক জিয়া মূলত খালেদা জিয়া ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় ব্যাপক দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েছিলেন আর এই দুর্নীতির কেন্দ্রবিন্দু ছিল হাওয়া ভবন। পরবর্তী সময় অবশ্য এগুলো আদালতে প্রমাণও হয়েছিল এবং আদালত তাকে সাজাও দিয়েছিলেন। সবকিছু টের পেয়ে তিনি যুক্তরাজ্যে চলে যাওয়ায় সাজার দণ্ড থেকে বেঁচে গেছেন এবং বর্তমানে যুক্তরাজ্যে বসবাস করছেন। বলা হয়ে থাকে, বিএনপি দলটিকে এমন দুর্গতিতে ফেলানোর জন্য জিয়াপুত্র তারেক জিয়াই দায়ী। ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় সিনিয়র নেতাদের পাত্তা না দেয়া তারেক জিয়ার অভ্যাসে পরিণত হয়ে গিয়েছিল এবং তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর পুত্র হিসেবে তিনি যেমন খুশি করেছেন। ফলে দলের অনেক সিনিয়র নেতাই তার ওপর যথারীতি অসন্তুষ্ট। বর্তমান পরিস্থিতিতে বিএনপি অত্যন্ত নগণ্য খেতাব ইস্যু নিয়ে রাজনীতির মাঠ গরম করতে চাইলেও জনগণ তাদের আন্দোলনকে যে ভালো চোখে দেখছে না তা তাদের বোঝা উচিত, কারণ খেতাব বাতিল যেহেতু এখনো হয়নি এবং আওয়ামী লীগ যে কখনো জিয়াউর রহমানের বীরউত্তম খেতাব বাতিল করবে না তা জনগণ ভালো করেই বোঝে। জিয়াউর রহমানের খেতাব যেহেতু বঙ্গবন্ধু নিজে দিয়েছেন সেহেতু জাতির পিতার সম্মানের কারণে হলেও এই খেতাবে আওয়ামী লীগ হাত দেবে না। বিএনপি এসব ছোটখাটো ইস্যু নিয়ে মাঠে না নেমে তাদের উচিত হবে জনসম্পৃক্ত কোনো ইস্যু নিয়ে মাঠে নামা। বিএনপিকে মনে রাখতে হবে যে, বর্তমান সরকার দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকায় পানি অনেক দূর গড়িয়ে গেছে। তাদের সহযোগী দলগুলো মাঠ পর্যায়ে একেবারে দুর্বল হয়ে পড়েছে। ফলে তাদের বর্তমান সরকারের সঙ্গে টেক্কা দিতে হলে প্রথমে তৃণমূল পর্যায়ে শক্ত ভিত গড়তে হবে। আর যে কোনো ইস্যু নিয়ে মাঠে নেমে শক্তিক্ষয় না করে জনগণের অভাব, অধিকার বিষয়ে তাদের মাঠে নামা উচিত হবে। আমরা সবসময় প্রত্যাশা করি, দেশে বিরোধী দলগুলো তাদের যৌক্তিক দাবি-দাওয়া নিয়ে রাজপথে মিছিলে মিটিংয়ে সরব থাকুক এবং সরকারও তাদের দোষ-ত্রæটিগুলো শুধরে নিয়ে দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাক।

লেখক ও কলেজ শিক্ষক।
[email protected]

ডিসি

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়