বিএনপির খেতাবের রাজনীতি

আগের সংবাদ

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাষা বিকৃতি বন্ধ হোক

পরের সংবাদ

নির্মূল হবে কি দরিদ্রতা?

প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ২৪, ২০২১ , ৯:৫৫ অপরাহ্ণ আপডেট: ফেব্রুয়ারি ২৪, ২০২১ , ৯:৫৫ অপরাহ্ণ

বাংলাদেশের অর্থনীতি উল্লেখযোগ্য হারে এগিয়ে যাচ্ছে। গত বছর আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের এক জরিপে বলা হয়েছে, এ বছর বাংলাদেশ মাথাপিছু আয়ের দিক থেকে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতকেও ছাড়িয়ে যাবে। করোনা মহামারির মধ্যে এইটা সত্যি অনেক বড় একটা খবর ছিল বাংলাদেশের জন্য। কিন্তু এই করোনাই সব থেকে বাজে অবস্থায় ফেলেছে বাংলাদেশের দরিদ্রতাকে। অর্থনৈতিক উন্নয়ন মানে দারিদ্র্য হ্রাস পাওয়া। উন্নয়নের সঙ্গে তাল মিলিয়ে না হলেও হ্রাস পাচ্ছিল দরিদ্রতা। দরিদ্রতা কমাতে আগে থেকেই কিছু সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান কাজ করত। তবুও উল্লেখযোগ্য হারে না কমার কারণ হচ্ছে দেশের ভেতরের কিছু সমস্যার জন্য যেমন দুর্নীতি, কর ফাঁকি, ঋণ, ঋণের শর্ত, বাস্তবমুখী শিক্ষার অভাব ইত্যাদি। এসব কারণ শুরু থেকে দরিদ্রতা কমাতে বাধার সৃষ্টি করছে। তরা সঞ্চয়ের কথা চিন্তাও করতে পারে না। ঠিই এই কারণটা তাকে দরিদ্রতার শিকল থেকে বের হতে দেয় না। আর এদের কর্ম নিরাপত্তাও নেই, কারণ দক্ষতা অর্জন হলে তাকে চাকরিতে রাখতে চায় না কারণ তখন তাকে বেশি মজুরি দিতে হবে। তার জায়গায় দরিদ্র-অদক্ষ আরেকটি মানুষ খোঁজে নেবে। অনেক ক্ষেত্রেই এই অবস্থা লক্ষ করা যায়। তাই উপযুক্ত কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে না পারলে দরিদ্রতা দূরীকরণ অনেকটা অসম্ভব। শুধু দরিদ্রতা দূরীকরণ নয়, টেকসই উন্নয়নের জন্যও বেকারত্ব হ্রাস করা অতি জরুরি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
দরিদ্রতা দূরীকরণে সরকারের কিছু ভ‚মিকা প্রশংসার দাবিদার। যেমন গৃহহীনদের জন্য ঘর, একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্প, কাজের বিনিময়ে খাদ্য, শিক্ষার বিনিময়ে খাদ্য আরো কিছু প্রকল্প। এর সঙ্গে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানও দরিদ্রতা দূরীকরণে যথেষ্ট ভ‚মিকা রাখছে। করোনায় হঠাৎ বৃদ্ধি পাওয়া এই দারিদ্র্য মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন করতে না পারলে জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রায় ২০৩০ সালের মধ্যে চরম দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব কিনা এই সন্দেহটা থেকেই যায়। বাংলাদেশের বিশাল জনসংখ্যাকে জনসম্পদে রূপান্তর করতে প্রথমে এসব দরিদ্র মানুষের দিকে নজর দিতে হবে। কারণ তারা অধিকাংশই অশিক্ষিত। বাস্তবমুখী শিক্ষায় শিক্ষিত করে দক্ষ করে তুলতে পারলেই স্থানীয়ভাবে দরিদ্রতা দূরীকরণ করা যাবে। যা বর্তমানে অর্থনীতির অন্যতম পরাশক্তি চীন করেছে। যেখানে ১৯৫৯ থেকে ১৯৬১ সালের দুর্ভিক্ষে প্রায় ৪ কোটি মানুষ মারা যায়, যা মানব ইতিহাসের সব থেকে বড় দুর্ভিক্ষ। তারা আজ পৃথিবীর অর্থনীতির এক পরাশক্তি। এভাবে আমাদের বিশাল এই জনসংখ্যাকে জনসম্পদে রূপান্তর করে আমরাও পারি দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ, টেকসই উন্নয়ন অর্থনৈতিকভাবে স্বয়ংসম্পূর্ণ একটি দেশ হওয়ার।

শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
[email protected]

ডিসি

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়