সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাষা বিকৃতি বন্ধ হোক

আগের সংবাদ

তাদের কর্ম ও সাধনা প্রেরণা জোগাবে

পরের সংবাদ

চাল-তেলের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি নজরদারি বাড়ানো প্রয়োজন

প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ২৪, ২০২১ , ১০:০২ অপরাহ্ণ আপডেট: ফেব্রুয়ারি ২৪, ২০২১ , ১০:০২ অপরাহ্ণ

বাজারে কয়েক মাস আগেও যে চাল ৫৪-৫৫ টাকায় বিক্রি হতো, তা হুট করে মূল্যবৃদ্ধি পেয়ে ৬৫ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। যে চালের দাম ছিল ৪৫ টাকা, তা বিক্রি করা হচ্ছে ৫৫ টাকায়। একইভাবে প্যাকেটজাত তেল প্রতি লিটার বিক্রি হতো কোম্পানিভেদে ১০০-১১০ টাকার মধ্যে। কিন্তু সে তেল এখন বিক্রি হচ্ছে ১৪০ টাকা লিটার। যে খোলা তেল কেজিপ্রতি ৯০-৯৫ টাকায় বিক্রি হতো, তা এখন এক দামে ১৩৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে, দরদাম করার সুযোগও নেই। দোকানিরা করোনার প্রভাবে মূল্যবৃদ্ধি হয়েছে মর্মে বললেও করোনার ভয়াবহতার সময় কিংবা কয়েক মাস আগেও এমন পরিস্থিতি ছিল না।
সরকারের কাছে মানুষের বহু প্রত্যাশার মধ্যে অন্যতম প্রত্যাশা হলো দ্রব্যমূল্যের স্বাভাবিক মূল্য বজায় রাখা। কিন্তু ভোক্তাদের পাশাপাশি সরকারকেও সিন্ডিকেটের কাছে জিম্মি হতে দেখা যায়। যার ফলে বর্ধিত মূল্যে মাসের পর মাস পণ্য বিক্রি হলেও সরকার সঠিক পদক্ষেপ নিতে পারে না।এ ছাড়াও বাংলাদেশ কৃষিপ্রধান দেশ হিসেবে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়ার জন্য কৃষকদের প্রয়োজনে ভর্তুকি দিয়ে হলেও দেশের মানুষের পূর্ণ চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি বিদেশে রপ্তানি করার মতো খাদ্য সামগ্রী উৎপাদনের বিষয়ে আশানুরূপ কোনো কার্যক্রম লক্ষ করা যায় না। অথচ দেশব্যাপী লাখ লাখ বিঘা জমি পড়ে থাকে চাষহীন। কৃষকরাও উৎপাদিত পণ্যের প্রত্যাশানুরূপ মূল্য না পেয়ে কৃষিকাজ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে। যার কারণে কৃষিপ্রধান দেশ হলেও বিদেশনির্ভর হতে হচ্ছে প্রতিনিয়ত।
নাগরিক সমাজ নির্বাচনের সময়ে কিংবা সবসময়েই সরকারের কাছ থেকে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি যেন না হয়, সে প্রত্যাশা করে। তেমনি সরকারও প্রতিশ্রæতি দেয় যে, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য স্বাভাবিক থাকবে। কিন্তু বাস্তবে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। যখন তখন যে কোনো পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি বাংলাদেশে নিয়মিত ব্যাপার। যার মাধ্যমে ভোক্তাদের কাছ থেকে হাতিয়ে নেয়া হয় কোটি কোটি টাকা। সরকার ভর্তুকি দিয়ে চাল-ডাল-তেল বিক্রি করলেও এসব পণ্য দরিদ্র শ্রেণির মানুষ ব্যতীত ক্রয় করার সুযোগ হয় না কারো। উচ্চবিত্তরা যে কোনো মূল্যেই পণ্যদ্রব্য খরিদ করতে পারলেও মধ্যবিত্তদের পড়তে হয় বিপাকে। কেননা মধ্যবিত্তরা নিম্নবিত্ত মানুষের মতো রাস্তায় লাইন ধরে কমদামে সরকারি পণ্য ক্রয় করতে পারে না। ফলে অস্বাভাবিক বর্ধিত মূল্যে খাদ্যদ্রব্য ক্রয় করতে গিয়ে হিমশিম খেতে হয় মধ্যবিত্তদের। আয়ের সঙ্গে খরচের সামঞ্জস্য না থাকায় সীমাহীন দুর্ভোগে পতিত হয় হয়।
নাগরিকরা খাদ্যকষ্টে ভুগলে কিংবা খাদ্যবিষয়ে দুর্ভোগে পতিত হলে এর দায়ভার সরকারের ওপরই বর্তায়। এই অবস্থায় অসাধু সিন্ডিকেট চক্রকে প্রতিরোধ করে চাল-তেলসহ সব নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যদ্রব্যের স্বাভাবিক মূল্য বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি।

শিক্ষার্থী, বিজেম, কাঁটাবন, ঢাকা।
[email protected]

ডিসি

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়